সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ১৯ মাঘ ১৪৩২ ।। ১৪ শাবান ১৪৪৭


খেলাফত মজলিস প্রার্থী সিরাজুল মামুনের ১১ দফা ইশতেহার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন ১১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত ইশতেহারে তিনি উল্লেখ করেন-

‘যার অভিভাবক নেই, রাষ্ট্রই তার অভিভাবক’

০১। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান এবং এর আলোকে আগামীর রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফ ও  কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করছি।

০২। দক্ষ, জবাবদিহিমূলক, গণমূখী ও দূর্নীতিমুক্ত প্রশাসনঃ

 ক. নাগরিক সেবা কেন্দ্র: সংসদ সদস্যের কার্যালয় হবে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মক্ত (২৪/৭) একটি সেবা কেন্দ্র।

খ. হ্যালো এমপি হটলাইন: এলাকার যে কোনো জরুরি সমস্যায় (নিরাপত্তা বা আইনি সহায়তা) সরাসরি যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন ও রেসপন্স টিম থাকবে।

 গ. স্বচ্ছ বাজেট: সংসদ সদস্যের উন্নয়ন তহবিল ও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রতিটি টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তা একটি অনলইন পাবলিক পোর্টালে প্রকাশ করা হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর জনগণের মুখোমুখি হয়ে জবাবদিহী ও সরাসরি প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

০৩। শোষণ ও দারিদ্রমুক্ত নারায়ণগঞ্জঃ

ক. দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ব্যবস্থা করা হবে। এ লক্ষ্যে বিত্তবানদের যাকাত ও অনুদান সংগ্রহের মাধ্যমে বিশেষ তহবিল গঠন করে এতিম, অসহায়, বস্তিবাসী, বঞ্চিত, দরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থ নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও প্রতিবন্ধী মানুষের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে প্রশাসন।

খ. নারী ও শিশু নির্যাতন এবং শিশুশ্রম বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হবে।

০৪। পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত নারায়ণগঞ্জঃ

ক. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়সমূহের সাথে সমন্বয় করে নারায়ণগঞ্জকে মশা, আবর্জনা, শব্দ ও বায়ু দূষণ মুক্ত করার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

খ. কাঁচাবাজারগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে একটি নির্দিষ্ট আর্কিটেকচারাল ডিজাইনে 'মডেল বাজার' হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে শহরের বর্জ্য অপসারণ ও রিসাইক্লিং প্রকল্প নেয়া হবে।

গ. শীতলক্ষা নদীসহ সকল খাল দূষণ ও দখল মুক্ত রাখার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কলকারখানার দূষিত ও বিষাক্ত পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থানার আধুনিকায়নের জন্য পরিবেশ মন্ত্রনালয়, শিল্প মন্ত্রনালয়, কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএসহ  কারখানার মালিকপক্ষের সমন্বয়ে সম্মিলিত বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া হবে।

০৫। জলাবদ্ধতা ও যানজটমুক্ত নিরাপদ নারায়ণগঞ্জঃ

ক. স্যানিটেশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়াসা, ডেসকো, টিএন্ডটি, সড়ক বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদদের পরামর্শে একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী মাষ্টার প্লান গ্রহণ করা হবে।

খ. ডিজিটাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং ফুটওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে।

গ. রাস্তা ও ফুটপাত নগরবাসীর স্বচ্ছন্দ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার কায্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্থায়ী পূনর্বাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

ঘ. চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থান গুলো সি.সি. ক্যামেরায় আওতায় আনা হবে  এবং নারীদের জন্য আত্মরক্ষা (self defence) প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

ঙ. মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

০৬. গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হবেঃ

বিশেষ করে দীর্ঘদিন যাবত আবাসিক গ্যাস সংকটের বিষয়টিকে সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ  বিবেচনা করে দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

৭. তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও সহায়ক পরিবেশ তৈরিঃ

ক. উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়: নারায়ণগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি হবে আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। একাধিক টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে।

খ. শিক্ষার মানোন্নয়ন: সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষার মান নিশ্চিতে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা এবং শিক্ষকদের ট্রেইনিং সহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক ও উদ্ভাবনী শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা।

গ. নারী শিক্ষা: নারী শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ প্রকল্প গ্রহন করা হবে। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের নগরবাসীর মেধাবী সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রকল্প গ্রহনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ঘ. স্পোর্টস কমপ্লেক্স ও ইনডোর গেমস সেন্টার: শুধু মাঠ নয়, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে এলাকাভিত্তিক আধুনিক জিম ও ইনডোর গেমস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

ঙ. ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবা: হাই-স্পিড ইন্টারনেট নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, ই-গভর্ন্যান্স সেবা সম্প্রসারণ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ  এলাকায় উচ্চগতির ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন তৈরি করা করা হবে।

৮. স্বাস্থ্যঃ

ক. নারায়ণগঞ্জে একটি হৃদরোগ এবং শিশু হাসপাতাল নির্মান করা হবে।

খ. স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়ে তোলার জন্য শতভাগ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পৃথক পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে।

গ. দরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য হেলথ্ কার্ড চালু করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং ইউনিয়নে চলমান সেবা গুলোর মানোন্নয়ন এবং অভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সের সমন্বয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্লিনিক ও মাতৃসদন চালু করা হবে।

ঘ. পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও সবুজ নগরী গড়ার লক্ষে কাজ করা।

০৯। ব্যবসা বান্ধব নারায়ণগঞ্জঃ

ক. দেশের প্রধান শিল্প ও বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদেরকে একটি ব্যবসা বান্ধব নগরী উপহার দেবার জন্য  সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

খ. ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে সকল প্রকার সার্ভিস প্রদানের জন্য ওয়ান স্টপ বুথ করা হবে। ট্রেড লাইসেন্স ফি কমানো সহ এবং যাবতীয় জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়ম রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গ. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক তহবিল, কর্মসংস্থান ও শিশু ডে-কেয়ার কেন্দ্র স্থাপিত হবে।

১০। মিডিয়া বান্ধব ও তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণঃ

সকল প্রকার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সাংবাদিক এবং মিডিয়ার জন্য তথ্য অধিকার আইন ও বিধি অনুযায়ী সকল তথ্য পাওয়ার অধিকার ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

১১। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষাঃ

ক. সুদূর অতীতকাল থেকে নারায়ণগঞ্জে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বাস। আন্তঃ ধর্মীয় সম্প্রীতি এই নগরীর ঐতিহ্য। যে কোন মূল্যে এই ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর। 

খ. ঐতিহাসিক স্থান ও ধর্মীয় স্থাপনাসমূহ সংরক্ষনের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এই লক্ষ্যে বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ