সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪ ।। ২ বৈশাখ ১৪৩১ ।। ৬ শাওয়াল ১৪৪৫


সংশোধিত এডিপি : উন্নয়ন বাজেট কমছে ১৮ হাজার কোটি


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

বরাবরের মতো এবারও কমছে সরকারের উন্নয়ন বাজেটের আকার। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা মাঝপথে এসে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমছে। সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে দুই লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারার পুরনো ব্যর্থতা নিয়েই এই অর্থ এডিপি থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে।

গত অর্থবছরেও সংশোধিত এডিপিতে ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কমেছিল।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় সংশোধিত এডিপির আকার চূড়ান্ত করা হয়, যা আগামী ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদন পাবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে নিজস্ব অর্থায়ন কমছে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। এডিপিতে নিজস্ব অর্থায়ন ছিল এক লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা, যা কমে হচ্ছে এক লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বিদেশি সহায়তা থেকে বরাদ্দ কমছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। তাতে সংশোধিত এডিপিতে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বর্তমানে এডিপিতে এক হাজার ৩৯২টি প্রকল্প আছে।

গত মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বিভাগ।

সেখানে প্রকল্পের কর্মকর্তারা বিদেশি প্রকল্প সহায়তা কমানোর পক্ষে মত দেন। কারণ বিদেশি সহায়তার অর্থ খরচে নানা ধরনের শর্ত থাকে। তবে এবার দেশীয় অর্থায়নও কমানো হয়েছে, যা গত অর্থবছরে অপরিবর্তিত ছিল।

ডলার সংকটের এ সময়ে অর্থনীতিবিদরা বিদেশি সহায়তার প্রকল্প বেশি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছিলেন। কারণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে দেশে ডলার সরবরাহ বাড়বে।

কিন্তু এডিপিতে যে সংশোধন আনা হচ্ছে, সেখানে উল্টো বিদেশি সহায়তা কমানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এই সংকটের সময় সরকারের উচিত ছিল বৈদেশিক ঋণের প্রকল্পগুলোর গতি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করিয়ে নেওয়া। কিন্তু সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক অর্থায়ন কমানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের আরো বেশি নজর দেওয়া দরকার।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এডিপির মাত্র ২২.৪৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা গত ১০-১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনেক প্রকল্পে চাহিদামতো অর্থ ছাড় হচ্ছে না, যার কারণে এডিপি বাস্তবায়ন কম হচ্ছে।

জানা গেছে, সরকারের মেগাপ্রকল্পের বরাদ্দের টাকা খরচ করতে পারছে না। মেট্রো রেলের চার প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে চার হাজার কোটি টাকা। শুধু এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পেই বরাদ্দ কমেছে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। উচ্চশিক্ষার প্রকল্পগুলোতে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা কমছে। কমছে স্বাস্থ্য খাতেও।

হাআমা/


সম্পর্কিত খবর


সর্বশেষ সংবাদ