বিশেষ প্রতিনিধি
যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে এবার বিএনপি থেকে সমর্থন পেয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস। জমিয়তের এই অংশকে বিএনপি একমাত্র এই সিটটিই ছাড় দিয়েছে। এই অংশের যেহেতু দলীয় নিবন্ধন নেই এজন্য মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস নির্বাচন করছেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। তবে সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ারের মধ্যে যতটা সহজে এখানে তিনি নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার কথা ছিল সেটা হচ্ছে না। এখানে তার বিজয়ী হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। তিনি মনিরামপুর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। সম্প্রতি তাকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
ধানের শীষের প্রার্থী মাওলানা রশীদের বাবা ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি রাজনীতিবিদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দীর্ঘদিনের মহাসচিব এবং একাংশের সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস। এই আসন থেকে মুফতি একাধিকবার সংসদ সদস্য ছিলেন। দলীয় এবং স্বতন্ত্র উভয়ভাবে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। জাতীয় সংসদের হুইপ এবং প্রতিমন্ত্রীও হয়েছিলেন। সৎ নেতা হিসেবে তার ব্যাপক সুনাম রয়েছে।
মাওলানা রশীদ বাবার দেখানো পথেই রাজনীতিতে এসেছেন। তিনিও বাবার মতোই সৎ। তবে বর্তমান রাজনীতিতে সৎ থাকাটাই বড় চ্যালেঞ্জের ব্যাপার। আর তার ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। ধানের শীষের মতো জনপ্রিয় প্রতীক পাওয়ার পরও তিনি সংসদে যেতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। এর বড় কারণ, অর্থের কাছে তিনি বড়ই অসহায়। বিপুল অর্থকড়ি দিয়ে প্রতিপক্ষ তার ভোটের মাঠ ছিনিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই আসনে রশীদ বিন ওয়াক্কাস এবং শহীদ মো. ইকবাল হোসেন ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন এবং জাতীয় পার্টির এম এ হালিম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন রশীদ বিন ওয়াক্কাস এবং শহীদ মো. ইকবাল। তাদের মধ্যে মূল লড়াই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা স্থানীয় বিএনপিকে নির্দেশও দিয়েছেন। তবে স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ বিদ্রোহী প্রার্থী শহীদ মো. ইকবালের সঙ্গে রয়েছে। যেহেতু তিনি মনিরামপুর বিএনপির সভাপতি ছিলেন এজন্য নেতাকর্মীরা ঝুঁকি নিয়েই তার সঙ্গে রয়েছেন। তবে বিএনপির একটি অংশ রশীদ বিন ওয়াক্কাসের সঙ্গেও কাজ করছে।
এই আসনটিতে সংখ্যালঘু ভোটাররা বরাবরই বড় ফ্যাক্টর। অতীতের নির্বাচনে মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস যতবার নির্বাচিত হয়েছেন, ধারণা করা হয় সংখ্যালঘুরাও তাকে ভোট দিয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা মুফতি ওয়াক্কাসকে তাদের জন্য অনেকটা নিরাপদ ও নিরুপদ্রব মনে করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সংখ্যালঘু ভোট মাওলানা রশীদের বাক্সেও আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংখ্যালঘু ভোট নিজের বাক্সে আনতে পারলে ধানের শীষের প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন।
তবে শহীদ মো. ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হওয়ায় তাকে টেক্কা দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনা অনেকটা কঠিন বলেই মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তবে ভোটের মাঠের চিত্র যেকোনো ইস্যুতে এবং যেকোনো সময় পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করেন তারা। এজন্য কে শেষ হাসি হাসবেন তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এনএইচ/