‘ছুটছি দেশকে জানতে এক প্রান্ত হতে আরেক প্রান্তে’ এমন প্রতিপাদ্য নিয়ে পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ করলেন কোরআনের হাফেজ দুই ভাই।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দেশের দক্ষিণের টেকনাফের বিপরীতে উত্তরের তেঁতুলিয়ার জিরো পয়েন্টে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষ করলেন তারা। ঐতিহাসিক তেঁতুলতলায় সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
ভ্রমণচারী এ দুই সহোদর হলেন সিয়ামুদ্দিন ও সাইমুদ্দিন। দুজনই মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার বাঁশগাড়ি এলাকার এক স্কুল শিক্ষকের সন্তান। দুজনই কোরআনের হাফেজ।
মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি পায়ে হেঁটে দেশকে জানতেই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ভ্রমণ করলেন তারা।
জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি টেকনাফের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যতিক্রমী এ যাত্রা শুরু করেন তারা।
মাথায় সাদা টুপি, গায়ে লম্বা জুব্বা, হাতে জাতীয় পতাকা ও মাদকবিরোধী ব্যানার নিয়ে দীর্ঘ হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হাঁটেন এক অনন্য প্রত্যয়ে।
পবিত্র কোরআনের হাফেজ এই দুই ভাই জানান, কোরআনের একটি আয়াত থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তারা আল্লাহর সৃষ্টি জগৎ ঘুরে দেখা এবং সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মানসে এই সফরে বের হয়েছেন।
পথে পথে যেখানে থেমেছেন, সেখানেই যুব-তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করেন তারা। প্রখর রোদ, শীতল হাওয়া কিংবা শারীরিক ক্লান্তিকে তোয়াক্কা না করেই হেঁটেছেন দুই ভাই। দীর্ঘ যাত্রায় পায়ে হাঁটা সফরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় দুই ভাই প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের কাছ থেকেও তারা উৎসাহ ও দোয়া পেয়েছেন।
ভ্রমণচারী দুই ভাই জানান, ভ্রমণ করার মাধ্যমে এমন কিছু জ্ঞান অর্জন করা যায়, যা বইয়ের পাতা থেকে অর্জন করা যায় না। তাই জ্ঞান অন্বেষণ ও যুব সমাজকে মাদক থেকে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা দুই ভাই পায়ে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ করলাম। এ যাত্রায় অনেকের উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়েছি।
তারা আরও বলেন, একজন মানুষও যদি তাদের এই পথচলা দেখে মাদক থেকে ফিরে আসে, তবেই তাদের কষ্ট সার্থক হবে। তাই প্রতিটি ধাপে আমরা একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি মাদক নয়, সুস্থ জীবন। একটি সুস্থ, সুন্দর ও নেশামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমরা এভাবেই এগিয়ে যাব।
এমএম/