আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দীন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিনাসুদে ঋণ ও স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী ৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জেলা খেলাফত মজলিসের উপদেষ্টা ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ। তিনি দেয়ালঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি ২০১৯ সালে রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। পেশায় তিনি ডাক্তার।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন বাসসের পটুয়াখালী জেলা ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা এনামুল হক এনা।
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
ডা. জহির উদ্দীন আহমেদ: প্রথম ও প্রধান প্রতিশ্রুতি হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন। রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকট। সেখানে বর্তমানে কোনো স্থায়ী এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। আমি নির্বাচিত হলে ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করবো এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ব্যবস্থা করবো।
একইভাবে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সার্জারি, অর্থোপেডিক, শিশু ও গাইনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে কনসালটেন্ট চিকিৎসক এনে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবো। কুয়াকাটার ২০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেবো।
তিনি বলেন, আমার আরেকটি বড় প্রতিশ্রুতি হলো কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা। এতে দেশ-বিদেশের পর্যটক আকৃষ্ট হবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কুয়াকাটার সঙ্গে জাহাজমারা, সোনারচর ও চর হেয়ারকে সংযুক্ত করে একটি পর্যটন হাব গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি জেলেদের দাদন প্রথা থেকে মুক্ত করে বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করবো এবং কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার ও উন্নত বীজ সরবরাহের উদ্যোগ নেবো। এছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কুয়াকাটা থেকে ভাঙা পর্যন্ত সড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?
ডা. জহির উদ্দীন আহমেদ: আমরা শতভাগ নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলছি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আমি ও আমার নেতাকর্মীরা আচরণবিধি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাসস: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?
ডা. জহির উদ্দীন আহমেদ: জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে আমার দল ও জোটের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা সংস্কার চাই, দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা চাই। সে জন্য আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এবং সবার কাছে সংস্কারের পক্ষে ভোট চাচ্ছি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
ডা. জহির উদ্দীন আহমেদ: আমার প্রত্যাশা হলো প্রশাসন সবার জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে। তাহলে জনগণের ভোটে আমি এই আসন থেকে বিজয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে এবারের ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। উন্নয়ন, সুশাসন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান—এই চারটি বিষয়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা, প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে পাচ্ছেন এ আসনের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব।
পটুয়াখালী-৪ আসন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিকভাবে এ এলাকা নদী ও সমুদ্রঘেরা হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৩০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। ভোটার সংখ্যার দিক থেকে এই আসনটি পটুয়াখালী জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত।
বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, সম্ভাবনাময় পায়রা বন্দর ও বিস্তীর্ণ নদী-চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনটিকে ঘিরে উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সুশাসন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার—এসব ইস্যুই এবার ভোটের আলোচনায় প্রধান্য পাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিশের এমপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডা. জহির উদ্দীন আহমেদ। তাঁর পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. রবিউল হাসান নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে এ আসনে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।
এমএম/