পটুয়াখালী-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজি বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি কৃষি খাতে আধুনিকায়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান।
পটুয়াখালী-৪: ইসলামী আন্দোলনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (কলাপাড়া-রাঙাবালি) আসনের সাবেক দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান। তার পেশা ব্যবসা। তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন পটুয়াখালী জেলা ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা এনামুল হক এনা
বাসস: আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কী?
মোস্তাফিজুর রহমান: আমি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম এই আসনের মানুষের জন্য একটি বসবাস উপযোগী ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলবো। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবো। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করাই আমার অঙ্গীকার। পাশাপাশি কৃষি খাতে আধুনিকায়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং পায়রা বন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর জন্য কাজ করবো। এছাড়া জেলেদের বিভিন্ন সংকট সমাধানের চেষ্টা করবো।
বাসস: নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে আপনার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা আছে কি না?
মোস্তাফিজুর রহমান: অবশ্যই আছে। আমি আমার দলীয় নেতাকর্মীদের স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছি, তারা যেন নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলেন। আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যেখানে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
বাসস: জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?
মোস্তাফিজুর রহমান: জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে আমার দলের অবস্থান ও আমার অবস্থান একই। আমরা সংস্কার চাই, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী শাসন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। ন্যায়বিচার ও ইসলামের নীতি বাস্তবায়নের জন্য গণভোট প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এবং একই সঙ্গে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাই ভোটারদের প্রতি।
বাসস: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
মোস্তাফিজুর রহমান: আমার প্রত্যাশা হলো, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে—নতুন বাংলাদেশ, নতুন বন্দোবস্ত—তা বাস্তবায়ন হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই।
বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার হয়েছে। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা, সম্ভাবনাময় পায়রা বন্দর ও বিস্তীর্ণ নদী-চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসনটিকে ঘিরে উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, সুশাসন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার—এসব ইস্যুই এবার ভোটের মাঠে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
পটুয়াখালী-৪ আসন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। ভৌগোলিকভাবে এ এলাকা নদী ও সমুদ্রঘেরা হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও যোগাযোগ সমস্যাই দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৩০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।
এবারের নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি, সাবেক এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিশের এমপি প্রার্থী ডা. জহির উদ্দীন আহমেদ এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. রবিউল হাসান নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে এই আসনে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৪ আসনে এবারের ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। উন্নয়ন, সুশাসন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান—এই চারটি বিষয়ই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা, প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে পাচ্ছেন এ আসনের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব।
এমএম/