বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৮ মাঘ ১৪৩২ ।। ৩ শাবান ১৪৪৭

শিরোনাম :
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে: প্রেস সচিব ফের চালু হচ্ছে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম, জানা গেল তারিখ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে ক্ষমতায় গেলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেবে বিএনপি: তারেক রহমান নিউমার্কেট এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, যান চলাচল শুরু ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদে যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ আলেমদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ব্যারিস্টার আরমানের, সমালোচনার ঝড় ওয়ার্ড জামায়াত সেক্রেটারি যোগ দিলেন ইসলামী আন্দোলনে ভোটের তিন বাক্স, ইসলামপন্থীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন কতটা ঘটবে? ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে জমিয়ত মিরপুর জোনের সুধী সমাবেশ

ভোটের তিন বাক্স, ইসলামপন্থীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন কতটা ঘটবে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

চব্বিশের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন ইসলামপন্থীরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আশানুরূপ অংশগ্রহণের কারণে তাদের অবস্থান অনেকটা সুদৃঢ়। এই অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো করার জোরালো প্রত্যাশা জন্মেছিল। তবে শুরুতে ‘একবাক্স নীতি’ ধরে এগিয়ে যাওয়া ইসলামপন্থীরা শেষ মুহূর্তে এসে তিন বাক্সে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশায় অনেকটা চিড় ধরেছে। এবারের নির্বাচনে ইসলামি শক্তির যে অভূতপূর্ব উত্থান হওয়ার কথা ছিল সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ ও সংশয়।

এবারের নির্বাচনে ইসলামি শক্তি মোটাদাগে তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ বেশির ভাগ দল রয়েছে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে। সবচেয়ে বড় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামের বাইরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলাম পার্টি রয়েছে এই অংশে। সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের দল এনসিপিসহ সমমনা আরও কয়েকটি দল রয়েছে। অন্যদিকে ইসলামের ‘একবাক্স নীতি’তে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নানা কারণে বনিবনা না হওয়ায় এই জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। তারা এককভাবে নির্বাচন করছে এবং ২৫৯টি আসনে তাদের প্রার্থী রয়েছে। এর বাইরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম শুরু থেকেই রয়েছে বিএনপির সঙ্গে। দলটির দুই অংশ মিলে পাঁচটি আসনে ছাড় পেয়েছে বিএনপি থেকে। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকলেও বিএনপির পক্ষে রয়েছে তাদের সমর্থন।

জামায়াতসহ ইসলামি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে এবার অনেক বড় স্বপ্ন দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপির বিপরীতে এই জোটই ছিল শক্ত প্রতিপক্ষ। এমনকি ‘ইসলামের একবাক্স’ নাম দিয়ে যখন এই জোট এগিয়ে যাচ্ছিল তখন বিএনপিতে রীতিমতো কাঁপন সৃষ্টি হয়েছিল। যে দলটি ক্ষমতায় যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছিল, তারাও এই রাজনৈতিক শক্তিকে ভয় পাচ্ছিল। দেশের ইসলামপ্রিয় মানুষও আশায় বুক বেঁধেছিল- এবার বুঝি এদেশে ইসলামপন্থী শক্তির বড় উত্থান ঘটবে। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, কারও কারও হঠকারিতায় সেই জোট শেষ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি। এই জোটের উদ্যোক্তা এবং কার্যত ১১ দলের মধ্যে শক্তি-সামর্থে্যর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দল ইসলামী আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে এই ঐক্য থেকে বেরিয়ে যায়। তারা কেন এই ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন সেই ব্যাখ্যাও বিস্তারিতভাবে দিয়েছেন দলের নেতারা।

কারণ যাই হোক, ইসলামি শক্তির ভোট যে একবাক্সে যাচ্ছে না এবং সেটা যে তিনটি বাক্সে বিভক্ত হয়ে পড়ছে, বিষয়টি সম্পর্কে দেশবাসী মোটামুটি জেনে গেছে। যারা ইসলামি শক্তিকে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার মসনদে দেখতে চেয়েছিল তারা রীতিমতো হতাশ হয়েছেন। বাহ্যত ১১ দলের মধ্যে একটি দল বেরিয়ে গেছে মনে হলেও কার্যত প্রস্তাবিত জোটের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। কেননা একক দল হিসেবে জামায়াতের পরেই অবস্থান ইসলামী আন্দোলনের। দলটির সারাদেশেই কমিটি আছে। দেশের সব অঞ্চলেই কম-বেশি ভোট আছে তাদের। যদিও এককভাবে নির্বাচন করে সংসদে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের হয়নি, কিন্তু অন্য দলগুলোর ভোটের সঙ্গে মেলালে তাদের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যেতো। শেষ পর্যন্ত সেটা না হওয়ায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলের সম্ভাবনাও এখন অনেকটা কমে গেছে। ইসলামপন্থীদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ জায়গায় সেই সুযোগটা নেবে বিএনপি। এখন বিএনপির জন্য ক্ষমতার মসনদে যাওয়ার পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেল।

এদেশে ইসলামি শক্তির পারস্পরিক সংঘাত ও বিভাজনের রাজনীতি নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আশির দশকে হজরত হাফেজ্জী হুজুরকে কেন্দ্র করে ইসলামি শক্তি একত্রিত হয়েছিল। তবে দশক না পেরোতেই সেই শক্তি বিভাজিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে হক্কানি ধারার সব দল মিলে ইসলামী ঐক্যজোট গঠন করলেও সেটা বেশি দিন সবাইকে নিয়ে চলতে পারেনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর বড় অংশ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অংশ হিসেবে সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। সেটাই ছিল গত চার দশকে সংসদে ইসলামপন্থীদের সবচেয়ে বড় উপস্থিতি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইসলামপন্থীরা অংশ নিলেও উল্লেখ করার মতো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। পরের তিনটি নির্বাচন ছিল বিতর্কিত। সুতরাং এবারের নির্বাচন ইসলামি শক্তির জন্য সম্ভাবনার অনেক বড় হাতছানি। নিজেদের হঠকারিতা, বিভেদ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সেই সম্ভাবনাকে ম্লান করে দিলে সেটা হবে বড়ই দুর্ভাগ্যের ব্যাপার।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ