আবু সাঈদ
আমাদের কওমির ওলামায়ে কেরাম নিঃসন্দেহে তাকওয়া, আজিমত বা আহওয়াতের ওপরে থাকাটাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে এই তরিকায় সফল হওয়ার পথ গণতন্ত্র নয়। তারা কেন যেন একটাকে আরেকটার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন বারবার। গণতন্ত্রকে ইসলামি ইমারার মতো করে দেখতে চাচ্ছেন। কাঁঠাল গাছ থেকে আম আশা করা কি যৌক্তিক?
কওমিওয়ালাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি সে অনুযায়ী তিন উপায়ে কামিয়াবি আসতে পারে। সেই পথে চেষ্টা কতটুকু করছেন, দেখার বিষয়। পথ তিনটি হলো:
১। বিপ্লবের মাধ্যমে (সশস্ত্র বিপ্লব, গণবিপ্লব, শিক্ষা বিপ্লব, মিডিয়া বিপ্লব)। যেমন হয়েছে ইরানে বা আফগানে।
২। দাওয়াতের মাধ্যমে শাসকের মস্তিষ্ক ও মেজাজ পরিবর্তন করে ফেলার মাধ্যমে। যেমনটা হয়েছিল তাতার শাসকদের ক্ষেত্রে। আমাদের কওমির ওলামায়ে কেরাম কয়জন শাসকের কাছে আল্লাহর রাসুলের মতো ইসলামের দাওয়াত দিয়ে পত্র লিখেছেন বা সরাসরি গিয়ে দাওয়াত দিয়েছেন?
৩। তাজকিয়া ও আত্মশুদ্ধি কার্যক্রমের মাধ্যমে সিংহভাগ মানুষের মন মানসিকতা পাল্টে দেওয়ার মাধ্যমে।
তাদের গৃহীত কর্মপন্থা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা নাই। নাই মানে নাই। বিগত তিপ্পান্ন বছর কওমি অঙ্গনের যারা রাজনীতি করেছেন, বর্তমান কওমিওয়ালাদের চেয়ে নিঃসন্দেহে তারা বেশি বুজুর্গ ছিলেন। তারাই তো কামিয়াব হতে পারেননি। ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলের তকমা থেকে আজও বের হয়ে আসতে পারেনি তাদের প্রতিষ্ঠিত দলগুলো। বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জোট না হয়ে একজন আলেমও এমপি হতে পারেননি।
বর্তমানে যারা আছেন তাদের বুজুর্গির ইমেজ তো পূর্বসূরিদের চেয়ে হাজার গুণ কম। অতএব গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এদের কামিয়াব হওয়ার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ। আরও দুইশ বছরেও এই রাজনীতির কোনো ফলাফল নাই। ফ্রুটলেস রাজনীতি।
কওমিওয়ালারা যেভাবে কামিয়াব হতে চায়; সেটার জন্য গণতান্ত্রিক রাজনীতি সম্পূর্ণ বর্জন করে সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। উপরোল্লিখিত তিন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এদিকে কি তাদের কোনো নজর আছে?
লেখক: সাংবাদিক ও বিশ্লেষক
আরএইচ/