জুলাই জাতীয় সনদে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়া হচ্ছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জুলাই সনদে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো উল্লেখই নেই এবং এ নিয়ে গণভোটেও কোনো প্রশ্ন রাখা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, যেই সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা যেন জুলাই সনদের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকে—এই নিশ্চয়তা বিধানের জন্যই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছেন, চারটি বিষয় বা ৪৮টি প্রস্তাব নিয়ে গণভোট দেওয়া কঠিন। কিন্তু বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়েই এভাবেই গণভোট হয়ে থাকে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তিউনিসিয়ায় ২০২২ সালে পুরো সংবিধান জনগণের সামনে উপস্থাপন করে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১৪০টি অনুচ্ছেদ ছিল। সেখানে জনগণকে একমত বা দ্বিমত জানাতে বলা হয়েছিল। একইভাবে তুরস্কে ২০১৭ সালের গণভোটে ১৮টি অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু ভোটের প্রশ্ন ছিল একটাই—হ্যাঁ না।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে দেশে গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রূপান্তর ঘটেছিল। সেখানে একটি নয়, একাধিক বিষয়ে পরিবর্তন হয়েছিল, কিন্তু জনগণ কেবল হ্যাঁ বা না ভোট দিয়েছিল। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে জনগণকে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং গণভোটে হ্যাঁ ভোটই বিজয়ী হয়েছিল।
আলী রীয়াজ বলেন, কোনো নাগরিক কিংবা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত বা সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই। যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে কেউ বিরোধিতা করতে চাইলে সেটাও তাদের অধিকার, তবে কাউকে প্রচার থেকে বিরত রাখার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। কেউ বলছেন, সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ দেওয়া হচ্ছে, আবার কেউ বলছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল। জুলাই জাতীয় সনদ কোনো অবস্থাতেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাতিল করার কথা বলেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য না হওয়া বিষয়ে সনদে কোনো উল্লেখ নেই।
ভুল ও মিথ্যা প্রচারণার বিষয়ে সতর্ক করে আলী রীয়াজ বলেন, এসব প্রচারণার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। জনগণকে যুক্তি দিয়ে এসব ভুল ধারণার মোকাবিলা করতে হবে এবং সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
এমএন/