আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা ‘দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন পুরস্কার’-এর ২৯তম আসরে অংশ নিতে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। বিশ্বের ১৩৫টি দেশ থেকে এবার মোট ২০ হাজার ৫০০টি আবেদন জমা পড়েছে।
আগামী ১৪৪৮ হিজরি/২০২৭ সালের এ আসরের নিবন্ধন বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আরব ও ইসলামি দেশগুলোর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলিম সম্প্রদায় থেকেও বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগী অংশ নিতে আবেদন করেছেন।
দেশভিত্তিক আবেদনের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মিসর। দেশটি থেকে ৬ হাজার ৮৩৮টি আবেদন জমা পড়েছে। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া—১ হাজার ৯২৩টি, পাকিস্তান—১ হাজার ৮৬২টি এবং সিরিয়া—১ হাজার ৫১১টি আবেদন।
প্রতিযোগিতার ১৬ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ বিভাগে আবেদন পড়েছে ১৪ হাজার ৪০টি। অন্যদিকে ১৬ বছরের কম বয়সী ছেলে ও মেয়েদের বিভাগে আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৪৯৫টি। এর মধ্যে মেয়ে প্রতিযোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৯৪ জন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ আয়োজন।
এবার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিজ দেশের মাধ্যমে মনোনয়ন কিংবা স্বীকৃত ইসলামিক সেন্টারের সুপারিশের পাশাপাশি প্রতিযোগীদের সরাসরি আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
২৮তম আসর থেকে শুরু হওয়া উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় প্রতিযোগিতার বিভাগ, যোগ্যতার শর্ত, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে।
দুবাইয়ের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিজ বিভাগের মহাপরিচালক ও পুরস্কারটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ দারবিশ আল মুহাইরি বলেন, এবারের বিপুল অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে কুরআন তিলাওয়াতের প্রতিভাদের কাছে এ আয়োজনের বিস্তৃত পরিসর তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, পুরস্কারের উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো প্রচলিত কুরআন প্রতিযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে অসাধারণ কুরআন তিলাওয়াতের প্রতিভাদের জন্য বিশ্বমানের একটি অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরি করা।
এবার প্রতিযোগিতায় পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ দিরহামের বেশি। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—১৬ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ এবং ১৬ বছরের কম বয়সী ছেলে ও মেয়েদের দুই বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারীরা প্রত্যেকে পাবেন ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
দুই বিভাগের দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য রয়েছে ১ লাখ ডলার করে এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীরা পাবেন ৫০ হাজার ডলার করে।
এ ছাড়া ‘গ্লোবাল কোরআনিক পার্সোনালিটি’ বা বৈশ্বিক কোরআনিক ব্যক্তিত্ব পুরস্কারের অর্থমূল্যও ১০ লাখ ডলার।
এবারের আয়োজনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্বাচিত কয়েকজন প্রতিযোগীকে পবিত্র রমজান মাসে দুবাইয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তারা শহরের বিভিন্ন বড় মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করার সুযোগ পাবেন।
এরপর জনসাধারণের ভোটে নির্বাচন করা হবে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কুরআন তিলাওয়াত’। এ ভোট ২০২৭ সালের ৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে জমা পড়া আবেদনগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাজবিদ, কণ্ঠস্বর, তিলাওয়াতের মান এবং সামগ্রিক পরিবেশনার ওপর ভিত্তি করে বিচারকরা পরবর্তী ধাপের জন্য প্রতিযোগীদের নির্বাচন করবেন।
দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন পুরস্কারের এ পর্যন্ত ২৮টি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১২৩টি দেশের ৭ হাজার ৮২৬ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নিয়েছেন।
এ সময়ে প্রতিযোগীদের মধ্যে ৬ কোটি ৭০ লাখ দিরহামের বেশি পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
২৯তম আসরে ১৩৫টি দেশ থেকে ২০ হাজার ৫০০ আবেদন জমা পড়ায় আগের সব আসরের তুলনায় এবার অংশগ্রহণের ব্যাপকতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আয়োজকদের মতে, বিপুল এই সাড়া বিশ্বজুড়ে কুরআন তিলাওয়াত ও হিফজচর্চার প্রতি মুসলিম তরুণদের আগ্রহেরই প্রতিফলন
আরএইচ/