আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা পুরোপুরি বন্ধ—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি প্রায়ই দেখা যায়। তবে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি সেই দাবির সঙ্গে ভিন্ন একটি চিত্র সামনে এনেছে। ছবিগুলোতে আফগানিস্তানের বালখ প্রদেশের ‘উম্মুল মুমিনিন আয়েশা বিশ্ববিদ্যালয়’-এ নারী শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারসহ আধুনিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বালখ প্রদেশের ওই প্রতিষ্ঠানে শরিয়াহর নীতিমালা মেনে নারী শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ও আধুনিক শিক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ছবিগুলোতে পর্দাশীল পরিবেশে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়।
এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—আফগানিস্তানে যদি মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধই হয়ে থাকে, তাহলে এসব শিক্ষার্থী কোথায় এবং কীভাবে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করছে?
ইউনেস্কোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার এখনো নিষিদ্ধ। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের নিয়মিত শিক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সাল থেকে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাও বন্ধ রয়েছে। ফলে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আনুমানিক ২৪ লাখ আফগান কিশোরী মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইউনেস্কো বলছে, আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে মেয়েদের মাধ্যমিক এবং নারীদের উচ্চশিক্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অর্থাৎ ‘মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ’ বলতে মূলত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত ষষ্ঠ শ্রেণির পরের নিয়মিত মাধ্যমিক শিক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা বোঝানো হচ্ছে।
এখানেই ভাইরাল ছবিগুলোর গুরুত্ব। বালখের ‘উম্মুল মুমিনিন আয়েশা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর নামে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে নারী শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক পোস্টেও একই দাবি করা হয়েছে—বালখ প্রদেশে নারী শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার দক্ষতা অর্জন করছে।
ছবিগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ও পর্দাশীল পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য সব ধরনের শেখার পথ যে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ—ভাইরাল ছবিগুলো অন্তত সেই সরল দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। সূত্র: ইউএনএ নিউজ
আরএইচ/