বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার ৬৬.৩%, সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে ৫৪.৫% কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে খেলাফত মজলিসের শোক ‘মাদরাসা ছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলা বিগত ফ্যাসিবাদী আচরণ স্মরণ করিয়ে দেয়’ দারুল আরকামের ছাত্রদের লাঠিচার্জের ঘটনায় ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি মরুর বুকে সত্যবাদী কিশোর ‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম’—রবার্তো কার্লোসকে কাবার ইমামের অভিনন্দন ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৭১ গাজায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ৬ টানা বৃষ্টিতে দারুল উলুম দেওবন্দের ‘বাবুজ জাহির’ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত ১২ রবিউল আউয়াল উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ

মরুর বুকে সত্যবাদী কিশোর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: এআই

|| আকিদুল ইসলাম সাদী || 

দাদা আজ গল্প শুরু করলেন একটা প্রশ্নের মাধ্যমে। তিনি বললেন, আচ্ছা দাদুভাইয়েরা, বলো তো—একজন মানুষ কি ছোটবেলা থেকেই এত ভালো হতে পারে যে, সবাই তাকে বিশ্বাস করবে?

নাতিনাতনিরা বলল, জানি না তো!

দাদা মুচকি হেসে বললেন, পারবে না কেন? অবশ্যই পারে। আজ আমি তোমাদেরকে এমন একজন কিশোরের গল্পই শোনাব। তাঁর মতো সত্যবাদী মানুষ পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কমই এসেছে।

বাচ্চারা গোল হয়ে বসল। দাদা গল্প শুরু করলেন—

অনেক অনেক বছর আগের কথা। আরবের মক্কা শহর। চারদিকে শুধু উত্তপ্ত মরুভূমি, সোনালি বালুর ঢেউ, উঁচু-নিচু পাহাড় আর খেজুরগাছ। দিনের বেলায় এত গরম পড়ত যে বালুর ওপর খালি পায়ে হাঁটা যেত না। সেই কঠিন পরিবেশেই বড় হচ্ছিল এক শান্ত, ভদ্র আর লাজুক কিশোর। তাঁর নাম মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

দাদা একটু থেমে বললেন, জানো, ছোটবেলা থেকেই তিনি অন্য সবার চেয়ে আলাদা ছিলেন। তাঁর সমবয়সী ছেলেরা কখনো ঝগড়া করত, কখনো দুষ্টুমি করত, আবার কখনো মিথ্যা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু মুহাম্মদ (সা.) কখনো মিথ্যা বলতেন না। কারও সঙ্গে প্রতারণা করতেন না। কারও জিনিস বিনা অনুমতিতে স্পর্শ পর্যন্ত করতেন না। তিনি সব সময় নম্রভাবে কথা বলতেন এবং সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতেন।

এক নাতি জিজ্ঞেস করল, দাদু, তখন কি সবাই তাঁর কথা বিশ্বাস করত?

দাদা হেসে বললেন, সেটাই তো সবচেয়ে মজার কথা! দিন যেতে লাগল। মক্কার মানুষ দেখল, এই ছেলেটি কখনো কথা ভাঙে না, কখনো আমানতের খেয়ানত করে না। কেউ যদি সফরে যেত, নিজের সোনা, রুপা বা মূল্যবান জিনিস তাঁর কাছেই রেখে যেত। কারণ, সবাই জানত— মুহাম্মদের কাছে রাখা জিনিস একটুও কমবে না। মানুষ তাঁকে একটি সুন্দর উপাধি দিল— আল-আমিন, অর্থাৎ 'বিশ্বস্ত মানুষ'।

দাদা বললেন, ভাবো তো, একজন মানুষকে যদি পুরো শহর 'বিশ্বস্ত' বলে ডাকে, তাহলে তাঁর চরিত্র কত সুন্দর ছিল! আরও বড় হওয়ার পর তিনি ব্যবসা শুরু করলেন। ব্যবসাতেও তিনি ছিলেন সবার থেকে আলাদা। কোনো জিনিসে দোষ থাকলে সেটি লুকাতেন না। লাভের আশায় কখনো মিথ্যা বলতেন না। ওজনে কম দিতেন না। তাই মানুষ তাঁর কাছ থেকে নিশ্চিন্তে কেনাবেচা করত। সবাই বলত, "মুহাম্মদের সঙ্গে লেনদেন করলে ঠকতে হয় না।"

দাদা এবার নাতি-নাতনিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, দেখো, সত্যবাদিতা শুধু মুখে 'আমি সত্য বলি' বলার নাম নয়। সত্যবাদিতা হলো এমন জীবন গড়া, যেখানে তোমার কথা আর কাজ— দুটোই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে।

তিনি একটু আবেগ নিয়ে বললেন, মনে রেখো, মেধা মানুষকে বড় করতে পারে, কিন্তু চরিত্র মানুষকে মহান করে। মিথ্যা হয়তো কিছু সময়ের জন্য লাভ এনে দেয়, কিন্তু সেই লাভ বেশিদিন থাকে না। আর সত্যবাদিতা? সেটি মানুষের হৃদয়ে এমন সম্মান তৈরি করে, যা কখনো নষ্ট হয় না।

বাচ্চারা চুপচাপ শুনছিল।

দাদা বললেন, মরুর সেই সত্যবাদী কিশোরই একদিন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হিসেবে নির্বাচিত হন। নবুয়তের আগেই তাঁর চরিত্র এত উজ্জ্বল ছিল যে, বন্ধুরা তো বটেই, শত্রুরাও তাঁর সততার প্রশংসা করতে বাধ্য হতো। তোমরা যদি তাঁর মতো গুনী হতে চাই, তাহলে সর্বদা সত্য কথা বলবে, কারও আমানতের খেয়ানত করবে না, আর এমন চরিত্র গড়ে তুলবে, যাতে মানুষ তোমাদেরও বিশ্বাস করতে পারে।

দাদা গল্প শেষ করলেন। নাতি-নাতনিদের মনে নতুন একটি আলো জ্বলে উঠল— সত্যের আলো, সততার আলো, আর বিশ্বস্ততার আলো।

দাদা বললেন, আচ্ছা, আজ তাহলে এ পর্যন্তই। আগামীকাল তোমাদের শোনাব প্রিয়নবীর জীবনের আরেকটি গল্প।

চলবে....

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ