
|
হরমুজ থেকে ৪ হাজার কোটি ডলার বাৎসরিক টোল করবে ইরান
প্রকাশ:
২৬ জুন, ২০২৬, ০৪:২২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বানিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি থেকে বাৎসরিক ৪ হাজার ডলার টোল আদায় করার কথা জানিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পরিকল্পনা হলো গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা বিদেশি জাহাজগুলো যেন ‘নিজেদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে’ ইরানের সরকারকে টোল প্রদান করে। প্রতিবেশী উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও এ বিষয়ে সম্প্রতি একাধিকার বার আলোচনা করেছেন ইরানের কর্মকর্তারা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এই টোলের হিস্যা এই ৬ দেশকেও প্রদান করা হবে। এতদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে ইরান। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে এবং দেশে দেশে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম। হরমুজে অবরোধ জারির সময়েই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার জানিয়েছিল যে যেহেতু এই জলপথ ইরানের মানচিত্রের আওতায় পড়েছে, তাই বিদেশি জাহাজগুলোকে এই প্রণালি ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই টোল দিতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি আইনও গত মার্চ মাসে পাস হয়েছে ইরানের পার্লামেন্টে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এ সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল এবং এর পাল্টায় ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করেছিল। সম্প্রতি ওমান সফরে গিয়েছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির শীর্ষ মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। সেখানে হরমুজ থেকে টোল আদায় নিয়ে ঘালিবাফ বলেছেন, “সবারই এটা জানা থাকা উচিত যে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আর কখনও যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় অবস্থায় ফিরবে না।” উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংকীর্ণ প্রণালী হরমুজ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এই জলপথ দিয়ে। সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, এনডিটিভি জেডএম/ |