ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান-বাজনায় বাধা দেওয়ার জেরে দারুল আরকাম মাদরাসার ছাত্রদের প্রতিবাদের মুখে লাঠিচার্জের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে জেলা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্সের গেট ও কম্পাউন্ডে দায়িত্ব পালনে বিচ্যুতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও সেখানে উচ্চস্বরে গানবাজনা চলতে থাকে। পাশেই অবস্থিত জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বুধবার (১৯ আগস্ট) পরীক্ষা থাকায় উচ্চস্বরে গানবাজনায় তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছিল। এ কারণে প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে গানবাজনার শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। তাদের অভিযোগ, প্রথমে শব্দ কমানো হলেও পরে আবার উচ্চস্বরে গান বাজানো শুরু হয়।
এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে শতাধিক মাদরাসা শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে গানবাজনার শব্দ কমানোর অনুরোধ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
আইও/