বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স সালমান প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বন্ধ ঘোষণা এবারে সংসদে কওমি-আলিয়ার ২৪ আলেম! কায়কোবাদ ধর্মমন্ত্রী হওয়ায় মুরাদনগরে পথচারীদের মাঝে উলামায়ে কেরামদের মিষ্টি বিতরণ ঢাকায় আসছেন এরদোগানের ছেলে , প্রধানমন্ত্রীর সাথেও বৈঠক করবেন হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান আল আকসা মসজিদের ভেতর থেকে ইমামকে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ রমজান উপলক্ষে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববিতে প্রস্তুতি পরিদর্শন সৌদি মন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানকে সহায়তা করবে তালেবান

ভারতের গান্ধী ময়দানে ‘সংবিধান বাঁচাও, ওয়াক্‌ফ বাঁচাও’ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| ইনজামামুল হক || 

ভারতের বিহার, ঝড়খণ্ড, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একাধিক প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, দেশটির অন্যতম প্রধান মুসলিম সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্থা ইমারত-ই-শারিয়াহ রবিবার ২৯ জুন পাটনার গান্ধী ময়দানে এক বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেছে। সমাবেশটি সদ্য পাস হওয়া ওয়াক্‌ফ (সংশোধন) আইন, ২০২৫-এর বিরোধিতায় অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে গোটা মাঠ ছিল জনসমুদ্রে পরিণত।

“সংবিধান বাঁচাও, ওয়াক্‌ফ বাঁচাও” সম্মেলনটি ইমারত-ই-শরিয়াহর নেতৃত্বে একটি বৃহৎ শক্তি ও সংহতির প্রদর্শন হিসেবে উঠে আসে, যেখানে মুসলিম সমাজ ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজ গোষ্ঠীগুলি নতুন সংশোধিত ওয়াক্‌ফ আইনের সাংবিধানিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সংসদে পাশ হওয়া এই আইনটি ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন, আইন বিশেষজ্ঞ ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। এই আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের করা একাধিক মামলার শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে, যেখানে আদালত বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত রায় সংরক্ষিত রেখেছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইমারত-ই-শারিয়াহর প্রধান মাওলানা ফয়সাল ওয়ালি রাহমানি বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই এই সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে আসছি। আজ আমরা আবারও আমাদের অবস্থান জোরালোভাবে প্রকাশ করছি। এই আইন সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায় উপেক্ষা করে এবং উপাসনাস্থল ধ্বংস বা দখলের রাস্তা খুলে দেয়। এটি ধর্মনিরপেক্ষতার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার আত্মার ওপর সরাসরি আঘাত।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই বিলের বিরুদ্ধে ৩০০-র বেশি আপত্তিপত্র পেশ করেছিলাম, যেগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকার একেবারেই গুরুত্ব দেয়নি। আমরা এই আইনকে বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক বলে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছি, যেটা ন্যায় ও সমতার পরিবর্তে মতাদর্শগত উদ্দেশ্যে চালিত।”

মাওলানা রাহমানি আইনটির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “যদি আগামী দিনে কেউ প্রমাণ চায় যে অশোক স্তম্ভ বা প্রাচীন সৌধে কোনো ধর্মীয় চিহ্ন আছে কি না, তাহলে সংরক্ষণের মানদণ্ড কী হবে? এই আইন সংস্কারের নাম করে অবিশ্বাস ও বিভাজনের পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এটি মুসলমানদের ঐতিহাসিক অবদান ও ধর্মীয় ঐতিহ্য মুছে ফেলার প্রচেষ্টা।”

তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “জনতার গণতান্ত্রিক চাপ একসময় কেন্দ্র সরকারকে পাটনা আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল। আজ আবারও জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছে। আমরা এই সংশোধিত ওয়াক্‌ফ আইন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানাই এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

গান্ধী ময়দানের উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বহু ধর্মীয় পণ্ডিত, সমাজ নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী ও তরুণ রাজনীতিবিদরা। অনেকেই কালো বাহুবন্ধনী পরে প্রতিবাদ জানান। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, যারা বিশেষ ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনে রাতভর ভ্রমণ করে পাটনা পৌঁছান এবং এই মহাসম্মেলনে অংশ নেন। 

সূত্র: মুসলিম মিরর

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ