আহমদ সেলিম রেজা
অতিথি কলাম লেখক
হুজুর বলেন, ইসলাম হলো সহজ সরল পথ। ফলে মুসলমানদের কাজের নীতি হলো, যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য ব-ই মিথ্যা বলিব না। ইউরোপের নীতি হলো, বানরের পিঠা ভাগের মতো। ‘আমারটা তো আমারই আছে। তোমারটাও কতটা আমার’ সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের নীতি হলো, সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়। চাণক্য নীতি হলো, যদি বলো উত্তরে, যাইবে দক্ষিনে। কুটনীতিকদের আলোচনা থেকে জেনেছি, কুটনীতিতে মুসলমানদের দুর্বলতার জায়গা হলো সরলতা ও সততার জায়গা। আর পূর্ব ও পশ্চিমের কুটনীতিকরা মুসলিম দেশের সাথে ‘তোমারটাও কতটা আমার’ নীতিতে খেলে বেশ ভালো স্বাদই পেয়েছে।
সৌদি আরব, মিশর, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরাক, আরব আমিরাত, বাহরাইন তার দৃষ্টান্ত। তারপরও মুসলিম দেশ হয়েও সাম্প্রতিক কালে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইরান। তাদের পথ অনুসরণ করে সাম্প্রতিক বিশ্বে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়ে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, তুরস্ক ও কাতার বেশ চমক দেখিয়েছে। ইরানের এই বুদ্ধিবৃত্তিক বা ‘হেকমত-এর সাথে’ কুটনীতির স্বীকৃতি মিলেছে রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও জামার্নীর কাছ থেকে। ইরান নতুন যে নীতিটা দাঁড় করাতে চাইছে, তাহলো আমারটা আমার, তোমারটা তোমার। তবে লাভ লোকসানের প্রশ্নে কেউ পরস্পরের স্বার্থহানির কারণ হবে না। উপকৃত হতে চাইলে পরস্পরের উপকার হতে হবে। আমার দ্বারা তুমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। তোমার দ্বারা আমি না-এই গ্যারান্টি ক্লজ থাকতে হবে। ইরানের এই নীতি বিশ্বে কার্যকর হলে বর্তমান ওয়ার্ল্ড অর্ডার পাল্টে যাবে। তবে এমনি এমনি সেটা হতে দিতে চাইবে কী কেউ? জানতে চান হুজুর। প্রশ্নই আসে না। আমার তড়িৎ জবাব। হুজুর বলেন, সে কারণেই বিশ্বে আজ নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে মার্কিন বিরোধীরা ধীরে ধীরে একত্রিত হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া, চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, কাতার-বলয়টা ক্রমে বাড়ছে। আর ছোট বড় নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ভয়াবহ এক যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীন-ভারত উত্তেজনা আমাদের ঘারে গরম নি:শ্বাস ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। আবার উত্তর কোরিয়া-মার্কিন দ্বন্ধে চীন-রাশিয়া ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে চলে যাবে এটা মার্কিনীরাও জানে। তাই তাইওয়ান নিয়ে, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে তারা নাড়াচড়া করে দেখছে-মার্কিন অবস্থানটা কতটা সুবিধাজনক? ওদিকে জলবায়ু ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রশ্নে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ফ্রান্স ও জার্মানী। ফলে চীন, রাশিয়া ও ইরানের সাথে বাড়ছে তাদের কুটনৈতিক সখ্যতা ও বাণিজ্য। সাম্প্রতিক জাতিসংঘের অর্থনৈতিà¦