ঢাকা-৯ আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনলাইন নিউজ পোর্টাল আওয়ার ইসলামকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ।
তার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন আওয়ার ইসলামের সাব এডিটর মুহিউদ্দীন মাআয।
মুহিউদ্দীন মাআয: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী এবং জনগণ কেন আপনাকে বেছে নেবে?
হাবিবুর রশিদ হাবিব: আমি এই এলাকার সন্তান। আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা সব এখানেই। রাজনৈতিক সুবাদে আমার এই এলাকায় পদচারণা ৩৮ বছর। একারণে এলাকার সবার সঙ্গে আমার সামাজিক, রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। আমি মানুষের পাশে থেকে কাজ করে এসেছি। এই দীর্ঘদিনের চলাফেরায় তারা আমার ভালো-মন্দ সবই জানে। এটাও জানে, ঢাকা-৯ আসনকে নিয়ে আমি কী স্বপ্ন দেখি? বাংলাদেশকে নিয়ে কী স্বপ্ন দেখি? একারণেই আমি মনে করি, ভোট দেওয়ার জন্য আমার অতীত ও বর্তমানের কর্মকাণ্ড এলাকাবাসীকে আশাবাদী করে তুলবে ।
মুহিউদ্দীন মাআয: আপনি জনগণের ভোটে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে?
হাবিবুর রশিদ হাবিব: আমাদের ঢাকা-৯ আসনের জনগণ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত। যেমন, আমাদের রাস্তা-ঘাট সংস্কার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ভরাট খালকে পুনর্খনন করা প্রয়োজন, চিকিৎসা সুবিধাকে আরও উন্নতকরণ। সেটা হতে পারে বর্তমান মুগদা হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করে অথবা নতুন স্থাপনা তৈরী করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূন্যতা পূরণ করা ।
এলাকাকে মাদক-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত করা প্রয়োজন। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। খেলাধুলার পরিবেশকে আরও উন্নত করা। সর্বোপরি ওয়ার্ড ভিত্তিক মতামত অগ্রাধিকার দিয়ে সীমিত সম্পদেকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।
মুহিউদ্দীন মাআয: এলাকার মসজিদ মাদরাসার উন্নয়নে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
হাবিবুর রশিদ হাবিব: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান সংবিধানে `বিসমিল্লাহ‘ সংযোজন করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সব সময় আলেম-ওলামাদের পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন। একারণেই তিনি বিশ্বে মুসলিম নেতা হিসাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। অনুরূপ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আলেম-ওলামাদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান তিনিও ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে আলেমদের নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চান।
এছাড়া বিএনপির ৩১দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ আছে, আলেমদের প্রাপ্য সম্মানটুকু প্রতিষ্ঠা করা। যাতে তারা ব্যক্তি জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে। মাসিক-বাৎসরিক ভাতা প্রদান করা। পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠান-সংগঠনগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। এবং আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকাকে নিশ্চিত করা। এটা শুধু আমাদের বক্তব্য না বরং এটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা যা বাস্তবায়ন হলে সকলে বুঝতে পারবে, বিএনপি ইসলামি দাওয়াতের ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগী ও ইসলামপন্থী দল।
মুহিউদ্দীন মাআয: বিগত দিনগুলোতে আমরা দেখেছি আলেমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেনি। জুমার মসজিদ থেকে তাদের মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আপনারা সরকার গঠন করলে আলেমরা স্বাধীনভাবে কোরআন-হাদিসের আলো ছড়াতে পারবে কী?
হাবিবুর রশিদ হাবিব: বিগত দিনে ইসলামের কাজ করতে আলেমরা যে প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির স্বীকার হয়েছে সেটা আমি এবং আমার দল কখনো ভালোভাবে নেয়নি। এছাড়া আগামীতে যাতে তারা নিরাপদে থাকে, সুষ্ঠভাবে ইসলামের কাজ করতে পারে সে পরিকল্পনা নিয়ে জনাব তারেক রহমান ও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
মুহিউদ্দীন মাআয: একজন আইন প্রণেতা হিসেবে সংসদে ইসলাম ও মুসলমানের পক্ষে আপনি কি ভূমিকা রাখবেন?
হাবিবুর রশিদ হাবিব: আমি নিজেও একজন মুসলমান। আর আমরা ইহকালে ভালো কাজ করে পরকালে পুরস্কৃত হতে চাই। সুতরাং আমার দল ও জনাব তারেক রহমান ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যেভাবে কাজ করতে চান। সেভাবে আমিও আমার ঢাকা-৯ আসনের আলেমদের পরামর্শে মসজিদ-মাদরাসা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চাই। আমি নিজে তো ইসলাম সম্পর্কে বেশী কিছু বুঝিনা, তাই তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আমি কাজ করতে চাই।
যেহেতু আমি নামাজি মানুষ, তাই দেখা যাবে আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কোনো না কোনো মসজিদে পড়ছি । সেই সুবাদে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিবদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
মুহিউদ্দীন মাআয: ঢাকা-৯ আসনের ভোটারদের প্রতি আপনার বিশেষ বার্তা কী।
হাবিবুর রশিদ হাবিব: ঢাকা-৯ আসনের ভোটারদের প্রতি বলবো, আমি যেহেতু আপনাদের সন্তান, আমার অতীত-বর্তমান সব আপনাদের সামনেই আছে। আমার অতীত দেখে যদি মনে করেন আমাকে দিয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে, কিংবা যদি মনে করেন হাবিব আমাদেরই সন্তান, আমাদের সুখ-দুখে হাবিবকে কাছে পাবো। তাহলে আগামী দিনে যত ঝড়-তুফান আসুক না কেন এলাকার স্বার্থে মানুষের স্বার্থে আপনাদের পাশেই থাকবো। আমরা সবাই মিলে সুন্দর সুখময় ঢাকা গড়ে তুলতে পারবো। ইনশাআল্লাহ
এমএম/