বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বহুল আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইল’। এই একক নথিকে ঘিরে পশ্চিমা সমাজ ও সভ্যতার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার, নৈতিকতা ও সভ্যতার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ বাস্তবতা এই ফাইলের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এপস্টেইন ফাইল পশ্চিমা বিশ্বের তথাকথিত সভ্যতার অন্তর্জগতকে নগ্নভাবে সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব মূল্যবোধকে সভ্যতার মানদণ্ড হিসেবে প্রচার করা হতো—এই ফাইল সেই বয়ানের সঙ্গে বাস্তবতার ভয়াবহ দ্বন্দ্ব স্পষ্ট করেছে। সভ্যতার চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিকৃত মানসিকতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র এতে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন সমালোচকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় পশ্চিমা সভ্যতার প্রতি একাংশ মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। যাঁরা পশ্চিমা চিন্তা ও সংস্কৃতিকে আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করতেন, তাঁদের অনেকের মানসিক কাঠামোতেই এক ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। চিন্তা ও চেতনার জগতে এটি এক গভীর সংকট তৈরি করেছে।
একই সঙ্গে তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবী ও মতপ্রভাবশালীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম বিশ্বকে পশ্চিমা আদর্শে রূপান্তরের পক্ষে বয়ান তৈরি করে আসছিলেন এবং ইসলামকে নারীবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনে সক্রিয় ছিলেন—এপস্টেইন ফাইল সেই নৈতিক উচ্চাসনের ভণ্ডামিকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সমালোচকদের ভাষায়, এই নথি মুখের বুলি ও বাস্তবতার মধ্যকার গভীর ফাঁককে আর আড়াল করার সুযোগ রাখেনি। ফলে পশ্চিমা সমাজের নৈতিক দাবি ও বাস্তব আচরণের পার্থক্য আজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এপস্টেইন ফাইল নিয়ে বিশ্লেষণের পরিধি বিস্তৃত এবং আলোচনার ক্ষেত্র বহুমাত্রিক। তবে সার্বিকভাবে অনেকের অভিমত—এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত বা আইনি কেলেঙ্কারির দলিল নয়; বরং এটি একটি সভ্যতার নৈতিক সংকট ও পতনের প্রতীকী দলিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা ইতিহাসে পশ্চিমা সভ্যতার জন্য এক গভীর আত্মসমালোচনার মুহূর্ত হয়ে থাকবে—যার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বচিন্তায় প্রতিফলিত হতে পারে।
শায়খ মুফতী আবদুল্লাহ নাজীব (হাফিযাহুল্লাহ)
সদর ও প্রধান: জামিআ সুফফাহ শারকিয়া, বগুড়া
সম্পাদনা: নাজমুল হাসান