বিশেষ প্রতিনিধি,
প্রায় পাঁচ দশকের রাজনীতির ক্যারিয়ারে সংসদে যাওয়ার সুযোগ হয়নি খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের। বেশ কয়েক বার নির্বাচন করেও আইন সভা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি তিনি। এবারও তিনি হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়েছেন। এবার তিনি সংসদে যাবেন-এমন স্বপ্ন দেখছেন তার কর্মী-সমর্থকরা। তবে এই স্বপ্ন কতটা বাস্তব হবে সেটা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
ইসলামি রাজনীতির পরিচিত মুখ ড. আহমদ আবদুল কাদের। ছিলেন ছাত্রশিবিরের সভাপতি। দলটির সঙ্গে কিছু বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেওয়ায় তিনি বেরিয়ে আসেন। করেন যুবশিবির। আশির দশকে হজরত হাফেজ্জী হুজুরের তওবার রাজনীতির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। পরবর্তী সময়ে খেলাফত মজলিস গঠনে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এই লেখক, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী তত্ত্বীয় রাজনীতিতে নিজেকে বেশ উচ্চতায় নিয়ে গেলেও জনসম্পৃত্ততায় ততটা নিতে পারেননি। ফলে একটি দলের বড় নেতা হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনি মাঠে কখনো তেমন কোনো ছাপ রাখতে পারেননি।
এবারের নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ড. আহমদ আবদুল কাদের। তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী। জামায়াত এখানে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানকে প্রার্থী করলেও শেষ মুহূর্তে এসে আসনটি ছাড় দেয়। সূত্রের খবর, আহমদ আবদুল কাদের এই আসনে নির্বাচন করার ব্যাপারে অনীহা ছিল। তিনি ঢাকার একটি আসন থেকে এবার ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজ আসনেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নেন।
হবিগঞ্জ-৪ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রায় সব নির্বাচনেই এখানে নৌকা প্রতীকের জয় হয়েছে। আসনটি চা শ্রমিক অধ্যুষিত। আর চা শ্রমিকদের সিংহভাগ ভোট নৌকা প্রতীকে পড়ে। এবার যেহেতু ব্যালটে নৌকা প্রতীক নেই এজন্য নির্বাচনের হিসাব-নিকাশে নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে।
এবার এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সায়হাম গ্রুপের কর্ণধার সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল। তিনি এই আসনে বেশ কয়েক বার নির্বাচন করেছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া কখনো জয়ের মুখ দেখতে পারেননি। তবে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। সেভাবেই আঁটঘাট বেঁধে নেমেছেন।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর উল্লেখযোগ্য ভোট নেই। অন্যান্য ইসলামি দলের ভোট থাকলেও সেটা ফাইট দেওয়ার মতো নেই। তবে ১১ দলীয় জোট হওয়ায় ভোটের মাঠে একটা প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন কেউ কেউ। এতে তারা আহমদ আবদুল কাদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলই সর্বেসর্বা। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ এবার ভোটের মাঠে অনেকটা ফুরফুরে। এলাকায় ব্যাপক প্রভাব থাকার কারণে সবকিছু ইতোমধ্যে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আসা চা শ্রমিকরাও এবার ঝুঁকছেন সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের দিকে। আর চা শ্রমিকদের ভোট পেলে তিনি সহজেই এমপি হবেন-এটা প্রায় নিশ্চিত।
অর্থ ও পেশীশক্তির বিচারে সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের আশপাশেও নেই কোনো প্রার্থী। ড. আহমদ আবদুল কাদেরের মতো তাত্ত্বিক রাজনীতিবিদের পক্ষে তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী। তবে ভোটের মাঠে শেষ কথা বলে কিছু নেই। যেকোনো সময় ঘুরে যেতে পারে বাতাস। আর সেটা নিয়েই আশায় বুক বাঁধছেন ড. আহমদ আবদুল কাদের এবং তার কর্মী-সমর্থকরা।
এমএম/