সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়িতে হামলা-আগুন: মোটেও সমর্থন করে না ইসলাম
অক্টোবর ১৮, ২০২১ ৮:০৫ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর জেরে সিলেট, চাঁদপুর, নোয়াখালী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেন সাধারণ জনগণ। এতে আহত-নিহত হন অনেকেই। কোন কোন এলাকায় হিন্দুদের বাড়িঘর, উপসনালয়ে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি কোন দৃষ্টিতে দেখছেন ইসলামী দলগুলোর নেতারা। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন আওয়ার ইসলামের প্রতিবেদক রায়হান মুহাম্মদ।।


কুমিল্লায় কুরআন অবমাননা ও পরবর্তীতে ঘটনার জেরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও উপাসনালয়ে হামলা কোনটাই দেশ জাতি ইসলাম ও মুসলমানদের ভাবমূর্তির জন্য মঙ্গল জনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ

ইসলাম ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা কখনোই সমর্থন করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা রাজনৈতিক হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ঘটিয়ে থাকে কোন কোন মহল। তাই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে বলেন তিনি।

অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদের ভাষায়, ‘ইতোপূর্বে বিভিন্ন ঘটনার আলোকে দেখা গেছে অনেক সময় নিজেদের স্বার্থে এসব ঘটনা ঘটানো হয়। এগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত হয় না। হলেও তা প্রকাশ করা হয় না। তাই প্রশাসনকে আরো সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে’ বলেন তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘কুরআন অবমাননার যে ঘটনাটি ঘটেছে এর পরবর্তীতে মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক; তবে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগ-বিবেকের সমন্বয়ে চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করা উচিত। যেন আমাদেরকে সম্প্রীতি নষ্টের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ না পায় কোন মহল’।

এদিকে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘ইসলাম যে মানবতা ও সৌন্দর্য নিয়ে এসেছে সেদিকে খেয়াল করলেই যে কেউ বুঝতে পারবেন ইসলাম সাম্য ও মানবাধিকার রক্ষার ধর্ম’।

তিনি আরো যুক্ত করেন, বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও জুমার বয়ানে ওলামায়ে কেরাম কুরআন-হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তাহল- ব্যভিচারে লিপ্ত একজন মহিলা পায়ের মোজা খুলে একটি কুকুরের পিপাসা নিবারণের কারণে আল্লাহ তাআলা তার সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছিলেন’।

‘হাদীসে বর্ণিত এসব ঘটনা ও কুরআনের বিভিন্ন আয়াত প্রমাণ করে ইসলাম শুধু মানুষ নয় একটা প্রাণীও যেন কষ্ট না পায় সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে’ বলেন তিনি।

‘ইসলাম একজন অন্ধকে রাস্তা পার করিয়ে দিল সওয়াবের কথা বলেছে। অন্যের সাথে মুচকি হেসে কথা বললেও সওয়াবের কথা বলা হয়েছে যে ধর্মে- এমন ধর্ম কখনও ভিন্নধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা আক্রমণ সমর্থন করতেই পারে না ‘ বলেন মাওলানা আফেন্দি।

তিনি বলেন, ‘ ইসলাম কর্তৃক আমাদের জন্য যে বিধান দেওয়া হয়েছে তা আমরা নিজ জীবনে সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে কখনোই এসব বিষয়ে ধোঁয়াশা থাকবে না’।

তবে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্ম ও ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কুরআন অবমাননা হলে অবশ্যই এর প্রতিবাদ জানাতে হবে, তবে তা শান্তিপূর্ণ ও অহিংস হতে হবে’।

মাওলানা আফেন্দীর ভাষায়,  ‘আমাদের কর্মসূচির মাধ্যমে কারো জানমালের ক্ষতি হলে তা অদূরদর্শিতা বলেই বিবেচিত হবে। এবং এতে করে আমাদের সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়াবে’।

একই বিষয়ে খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী আওয়ার ইসলামকে বলেন,  ‘গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে যার শুরুটা হয়েছিল কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কুরআন অবমাননার মাধ্যমে। এরপরে এই ঘটনার জেরে বিভিন্ন এলাকায় হামলা বিক্ষোভ মিছিল আহত-নিহত ঘটনা ঘটে। তবে তার মধ্যে পরবর্তী ঘটনাগুলো যতটুকু আলোচনায় এসেছে প্রথম ঘটনাটি ঠিক ততটাই আলোচনার বাইরে। প্রথম ঘটনাটিকে তদন্তের মাধ্যমে সামনে নিয়ে এসে বিষয়টি সুরাহা করতে দায়িত্বশীলদের আরো তৎপর হওয়া উচিত’ বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোন মন্দিরে হামলা সমর্থক ও পক্ষপাতী কখনোই হতে পারি না এবং কখনো সমর্থনও করি ন ‘।

মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর ভাষায়, প্রতিবাদ অবশ্যই করতে হবে, তবে পরিস্থিতি যেন অশান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অবস্থার নাজুককতা কাজে লাগিয়ে কেউ যেন পানি ঘোলা করতে না পারে সেদিকেও সবার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে’।

আরো পড়ুন: সাম্প্রদায়িক বর্বরতাকে আলেমরা তীব্রভাবে ঘৃণা করেন

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ