বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বস্তরের নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে লন্ডনে রোববার (২৫ জানুয়ারি) গুরুত্বপূর্ণ একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে তাৎপর্যপূর্ণ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউ কে।
ইউকে জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি বিশিষ্ট মিডিয়া ভাষ্যকার মুফতি আবদুল মুনতাকিম এর সভাপতিত্বে ও ইউকে জমিয়তের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ইউকে জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল মুনতাকিম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু।
যুক্তরাজ্য বিএনপি ও ইউকে জমিয়তের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও মতবিনিময় সভায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তারা বলেন, আমরা যে যেখানে আছি, আমরা ধানের শীষ ও খেজুর গাছের প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাবো, এটাই আজকের অঙ্গীকার হওয়া উচিত। জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির ব্যাপক ঐক্য না থাকলে আজ দেশের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হত। দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হলে আমাদেরকে এই ঐক্য সর্বাবস্থায় ধরে রাখতে হবে। দেশ গঠন ও উন্নয়নের জন্য এই ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
তারা বলেন, যারা সরেজমিন বাস্তবতা উপলব্ধি করতে সক্ষম নয় এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে ব্যর্থ, তারা বিভাজনের পথ বেছে নিয়েছে। এই বিভাজন আমাদের রাজনীতির উপর যে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এর সঠিক ধারণা যাদের নেই, তারাই অপরিণামদর্শী চিন্তাধারা লালনে ব্যস্ত হয়ে আছে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম যোগ করে আল্লাহর উপর ভরসা ও আস্থা স্থাপনে যে ভূমিকা পালন করেছেন, এ আস্থা আমাদেরকে ধরে রাখতে হবে। খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যেসব জাতীয় ইসলামী নেতৃবৃন্দ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের অসাধারণ যোগ্যতা ও বাগ্মিতা আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। ইনশাআল্লাহ দেশ গঠনে তাঁদের অসাধারণ ভূমিকা প্রশংসনীয় প্রমাণিত হবে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ইসলাম ও এন্টি ইসলাম নামে ব্যালট বাক্সের বিভাজন সৃষ্টি করে যে জাতীয় সংকট তৈরি করা হয়েছিল, তা থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জনগণ কে রক্ষা করতে সামর্থ হয়েছে। অন্যথায় কোটি কোটি তাওহিদী জনতার মধ্যে যে অপ্রত্যাশিত বিভাজন তৈরি হতো, এর খেসারত দিতে চরম মূল্য শোধ করতে হতো।
পরিশেষে দেশ ও জাতির উন্নতি কল্পে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি আবদুল মুনতাকিম।
এমএম/