সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১২ মাঘ ১৪৩২ ।। ৭ শাবান ১৪৪৭


 জেলগেটে সন্তানের লাশ, ভেতরে আলেমের আর্তনাদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আলেম-ওলামা ও রাজনৈতিক বন্দীদের ওপর চালানো নির্যাতনের এক হৃদয়বিদারক প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা সামনে এনেছেন মুফতি হারুন ইজহার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কাশিমপুর কারাগারের রুদ্ধদ্বার বাস্তবতা, সেখানকার নিষ্ঠুরতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের দ্বিমুখী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

পোস্টে মুফতি হারুন ইজহার কাশিমপুর কারাগারের সাবেক জেলার জান্নাতুল ফরহাদের—যিনি বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে আরও উচ্চ পদে বহাল—নির্মম আচরণের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে অসহায়ভাবে এক আলেমকে বেধড়ক পেটাতে দেখেছেন তিনি। সেই আলেমের ‘অপরাধ’ ছিল—ফোনে নিজের অসুস্থ পরিবারের খোঁজ নেওয়া।

এর আগেই ওই আলেমের এক শিশু সন্তান যথাযথ চিকিৎসা ও তদারকির অভাবে মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু সন্তানের শেষবারের মতো মুখ দেখার সুযোগও পাননি তিনি। প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে কারাগারের লৌহকপাটের সামনেই তাকে নিজের কলিজার টুকরোকে চিরবিদায় জানাতে বাধ্য করা হয়। সে সময়কার দৃশ্য বর্ণনা করে মুফতি হারুন ইজহার বলেন, “শত শত কান্না আর আহাজারির আমরা প্রত্যক্ষ সাক্ষী—যা দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে চাপা পড়ে ছিল।”

তিনি তৎকালীন মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, হাসিনা আমলের দালাল মিডিয়াগুলো এসব অমানবিক নির্যাতনের খবর পরিকল্পিতভাবে গুম করে রেখেছিল। অথচ বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জেলগেটে পুনরায় গ্রেপ্তারের (রি-অ্যারেস্ট) ঘটনাগুলোকে তারা মানবিকতার মোড়কে জড়িয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার করছে।

মুফতি হারুন ইজহার স্মরণ করিয়ে দেন, জেলগেটে পুনঃগ্রেপ্তারের এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করেছিল স্বয়ং আওয়ামী লীগই। কিন্তু তখন গণমাধ্যম তাদের নৈতিক দায়বদ্ধতা বিসর্জন দিয়েছিল। রাষ্ট্র মেরামতের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে তিনি বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। তার ভাষায়, “অচল আমলাতন্ত্রই সব নষ্টের গোড়া। অলসতা, মূর্খতা আর অমানবিকতায় ভরা এই অফিসিয়াল প্রথা ভাঙা ছাড়া কেয়ামতের আগেও রাষ্ট্র মেরামত সম্ভব নয়।”

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ‘কান্নার রাজনীতি’ এবং গণমাধ্যমের কৃত্রিম মানবিকতার ভান তিনি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী পক্ষের প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

মুফতি হারুন ইজহারের বক্তব্যের সারকথা—বর্তমান ভঙ্গুর ও জুলুমনির্ভর ব্যবস্থায় প্রকৃত ন্যায়বিচার অসম্ভব। ইসলামের সুমহান আদর্শ ও ইনসাফ কায়েম না হলে রাষ্ট্রীয় সংকট ও জুলুমের এই ধারাবাহিকতার অবসান ঘটবে না।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ