কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক শুধু মানসিক স্বস্তিই আনে না, বরং কাজের গতি ও দক্ষতাও বাড়ায়।
কর্মজীবনের একটি বড় সময় কাটে অফিসে। সেখানে সহকর্মীদের সঙ্গে যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক না থাকে, তবে কর্মক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বিরক্তিকর ও চাপপূর্ণ।
অথচ সহকর্মীদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া কাজের পরিবেশকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহকর্মীর কোনো কাজে সমস্যা হলে সাধ্যমতো সহায়তা করা এবং তার পাশে দাঁড়ানো পারস্পরিক আস্থা তৈরি করে। এতে দলগত কাজের মান বাড়ে এবং ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতাও উন্নত হয়। বন্ধুত্বহীন কর্মজীবন ধীরে ধীরে একঘেয়েমি তৈরি করে, যার প্রভাব পড়ে কাজের ফলাফলে।
কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের বেতন বা পদবী নয়, মানুষ হিসেবে সবাইকে সম্মান করা জরুরি। কার পরিবার বা ব্যক্তিগত পটভূমি কেমন, তা বিবেচনায় না এনে তার কাজের মূল্যায়ন করাই পেশাদারিত্বের পরিচয়।
একইসঙ্গে সহকর্মীদের বিরুদ্ধে পরচর্চা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ পরচর্চা সম্পর্ক নষ্ট করে এবং কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সহকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে লাঞ্চ করা, জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীর মতো বিশেষ দিনগুলোতে শুভেচ্ছা জানানো সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। তবে অন্যের স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত বিষয়ে অযথা আগ্রহ দেখানো থেকে বিরত থাকা উচিত।
একই অফিসে কাজ করতে গিয়ে নারী-পুরুষ সহকর্মীদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সম্পর্কে জড়ানো ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ সম্পর্ক ভেঙে গেলে একই কর্মস্থলে পেশাদার আচরণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের দায়িত্ব ও নির্ধারিত কাজ সততার সঙ্গে সম্পন্ন করা। ভালো কাজের মাধ্যমেই সহকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। কাজে অবহেলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, দুটোরই ক্ষতি ডেকে আনে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে সুস্থ ও সুন্দর সম্পর্ক কর্মপ্রেরণা বাড়ায়, কাজের মান উন্নত করে এবং অফিস জীবনকে করে তোলে আরও আনন্দময়।
এনএইচ/