বিশেষ প্রতিনিধি,
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে এবার দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদকে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এগার দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাওলানা আকরাম আলী। তিনি এলাকায় ‘ধলা হুজুর’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় এই নেতা রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন প্রবীণ আলেমের সঙ্গে নারীর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমে উঠেছে।
ফরিদপুর-২ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনে আওয়ামী লীগই বেশির ভাগ সময় বিজয়ী হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এই আসন থেকে চারবার বিজয়ী হয়েছেন। সবশেষ তার ছেলে ছিলেন এই আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য। তবে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণে আসনটিতে নতুন সমীকরণ সামনে আসছে।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে বিএনপি থেকে দুইবার সংসদ সদস্য হয়েছেন কে এম ওবায়দুর রহমান। তিনি বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। তারই মেয়ে শামা ওবায়েদ। সে হিসেবে এলাকায় শামা ওবায়েদের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। তাছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন এবং বিগত দিনে এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের এই সদস্য জাতীয় রাজনীতিতেও পরিচিত মুখ। বিএনপি সরকার গঠন করলে তার মন্ত্রিসভায় থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে ভোটের মাঠে নিঃসন্দেহে শক্তিশালী প্রার্থী। তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়ে আঁটঘাট বেঁধেই নির্বাচনে নেমেছেন।
অন্যদিকে মাওলানা আকরাম আলী এলাকার একজন প্রভাবশালী আলেম। ফরিদপুরের বিখ্যাত দীনি প্রতিষ্ঠান বাহিরদিয়া মাদরাসার মুহতামিম। শুধু ফরিদপুর নয়, দক্ষিণাঞ্চলে তিনি একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম। সে হিসেবে তিনিও হেভিওয়েট প্রার্থী। তিনি রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় না হলেও অতীতে নানা আন্দোলন-সংগ্রামে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। এমনকি এর জন্য কারাভোগও করেছেন। ফলে এলাকাবাসীর কাছে তার একটি সংগ্রামী ও ক্লিন ইমেজ রয়েছে।
মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবার দেশের যে কয়টি আসনে অনেকটা চমক দেখিয়েছে এর মধ্যে একটি ফরিদপুর-২। প্রবীণ এই আলেমের মাধ্যমে আসনটি পাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। তবে ভোটের বাক্সে এই আলেমের প্রতি মানুষের জনসমর্থন কতটা পড়বে সেটা নিয়ে নিশ্চিত করে কেউই কিছু বলতে পারছে না। যদিও তিনি যে শামা ওবায়েদকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন সেটা নিশ্চিত।
ওই এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাওলানা আকরাম আলী নিঃসন্দেহে এলাকায় প্রভাবশালী। সর্বসাধারণ তাকে শ্রদ্ধা ও ভক্তিও করে। কিন্তু ভোটের সমীকরণে তিনি কতটা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারবেন সেটা নিয়ে রয়েছে সংশয়। ভোটের মাঠে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতে হয়। সেগুলোর অনেক কিছু তার দ্বারা সম্ভব নয়। তাছাড়া সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুরে তেমন শক্তিশালী অবস্থানে নেই। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলও এখানে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। ফলে বিএনপির মতো বড় দলকে টেক্কা দিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছা কঠিন হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এছাড়া আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটও একটা বড় ফ্যাক্টর। আওয়ামী লীগের ভোট যিনি বেশি টানতে পারবেন তারই জয়ের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছে এলাকাবাসী।
এমএম/