নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র সিরাতুন্নবী সা. উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর-১৪-এর জামেউল উলুম মাদরাসায় দিনব্যাপী ইসলামি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ফজরের নামাজের পর শুরু হয়ে আসর পর্যন্ত চলে এ আয়োজন।
সিরাতুন্নবী সা.-এর শিক্ষা, ইসলামি জ্ঞানচর্চা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় হিফজুল কুরআন, হিফজুল হাদিস, আরবি বক্তৃতা, ইংরেজি বক্তৃতা, বাংলা বক্তৃতা, কবিতা পাঠ, উপস্থিত বক্তৃতা, বাংলা রচনা, আরবি রচনা, হামদ-নাত ও ‘সবাই মিলে মান বাঁচাও’সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে জামেয়ার শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। তাখাসসুস বিভাগ থেকে শুরু করে মক্তব ও হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে।
প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্বেই শিক্ষার্থী ও শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। বিশেষ করে বাংলা বক্তৃতা, ‘সবাই মিলে মান বাঁচাও’ ও হামদ-নাত পর্ব ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘ সময়ের আয়োজন হলেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিটি পর্বে অংশ নেয় এবং শিক্ষণীয় ও মনোজ্ঞ এ আয়োজন উপভোগ করে।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জামেয়ার অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকরা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তাদের বিচক্ষণ মূল্যায়নে প্রতিটি পর্ব সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্তভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামেয়ার প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস মুফতি আবুল বাশার নোমানি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুফতি সিফাতুল্লাহ রাহমানি। পুরো আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ছিল জামেউল উলুম ছাত্র কাফেলা।
সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন সম্পন্ন করায় জামেউল উলুম ছাত্র কাফেলার সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন এবং তাদের মেধা ও প্রতিভার প্রশংসা করেন।
পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি ও জামেয়ার অন্যান্য আসাতেযায়ে কেরাম। পুরস্কার বিতরণ শেষে দোয়ার মাধ্যমে দিনব্যাপী এ ইসলামি প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে অনুষ্ঠান উপলক্ষে দুপুরে মাদরাসার সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ খাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, বক্তৃতা ও সাহিত্যচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা.-এর জীবন, শিক্ষা ও আদর্শ সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি আরও গভীর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসএইচ/