ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জনের মধ্যে পাঁচজন কুষ্টিয়া ও ঢাকার বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। মধ্যরাতের এই অগ্নিকাণ্ডে আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে কলকাতার ব্যস্ততম মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। আগুনের তীব্রতা থেকে হোটেলের ভেতরের ঘন ধোঁয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত চরম আকার ধারণ করে। ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ল্যাডার বা মই ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও ছাদ থেকে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহতদের শরীরের বড় ধরনের কোনো পোড়া ক্ষত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেকেই আতঙ্কে এবং ধোঁয়া থেকে রক্ষা পেতে বাথরুমে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন।
নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে তারা হলেন—কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আরুয়াপাড়ার দেবাশিস দত্ত (৩৭), তাঁর শিশুসন্তান শর্ণশিষ দত্ত (২), একই এলাকার আফসানা শিম্মিন (২৫), থানাপাড়া এলাকার মো. আকরাম আলী (৬৪), ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার শিশু আহমেদ বাবু (২) এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী তরুণ সন্দীপ পাসওয়ান। এছাড়া বাকি তিনজন নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাদের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
টিএইচএ/