শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ ।। ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশের সংকটে বিরোধীদের ঐক্যের ঘোষণা মাওলানা ফজলুর রহমানের লাইভে শায়খ আহমাদুল্লাহর প্রশ্নোত্তর নিয়ে এবার আসছে বই ২৫ বছরের ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নতুন লোগো অনুমোদন গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় শায়খ ইলিয়াস গুম্মানের বিশেষ দরস ও তাকরির ‘মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে যুব আন্দোলনকে’ সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৪ মুসলিম প্রতিবেশীর ওমরাহর স্বপ্ন পূরণে কুরআন প্রতিযোগিতায় খ্রিস্টান যুবক ইসলামি অর্থনীতি ও শরিয়াহ গবেষণায় যৌথভাবে কাজ করবে তিন প্রতিষ্ঠান বিশ্বজয়ী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়াকে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের সংবর্ধনা

দেশের সংকটে বিরোধীদের ঐক্যের ঘোষণা মাওলানা ফজলুর রহমানের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধী দলগুলোকে সংসদের ভেতরে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (জেইউআই-এফ)-এর আমির মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। বিরোধী দলগুলো এখন যৌথভাবে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরে একটি যৌথ বিরোধী শক্তি থাকা প্রয়োজন, যাতে বিভিন্ন বিষয়ে অভিন্ন কৌশল গ্রহণ এবং পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই নীতিতে একমত হয়েছি যে পার্লামেন্টের ভেতরে একটি যৌথ বিরোধী দল থাকা উচিত। যাতে সংসদের কার্যক্রমে আমাদের একটি অভিন্ন কৌশল থাকে এবং আমাদের পদক্ষেপগুলো পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে যৌথভাবে নেওয়া যায়।’

পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে জেইউআই আমির বলেন, বিশেষ করে দুটি প্রদেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং মানুষ নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না।

সরকারের বিভিন্ন আশ্বাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত দুই দশকে সন্ত্রাসবাদ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য বহু অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। সরকারের বক্তব্য ও আশ্বাসের ধরন বদলায়নি, অথচ বাস্তব পরিস্থিতিতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, ‘কতদিন আমরা নীরব থাকব? কতদিন আমরা স্বার্থ ও মীমাংসার নামে নীরব থাকব? কতদিন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থের দিকে তাকাব, দেশের দিকে তাকাব না?’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে চার প্রদেশের ব্যবসায়ী এবং সীমান্তবর্তী ও উপজাতীয় এলাকার ব্যবসায়ীরা ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে বাণিজ্যের পথ বন্ধ হয়ে আছে। পূর্ব সীমান্তেও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সংকুচিত। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাওলানা ফজলুর রহমানের ভাষ্য, ভুল নীতির কারণে পাকিস্তান বর্তমানে একটি অনিরাপদ ও অনেকটা অবরুদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও তিনি দাবি করেন।

কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে প্রায় তিন মাস ধরে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। জনগণের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় বসতে সরকার প্রস্তুত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, সরকার যখন জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত থাকে না, তখন কঠোর ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো সামনে আসার সুযোগ পায়। ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই আলোচনার মাধ্যমে জনগণের দাবি ও সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

সরকার দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরছে না—এমন অভিযোগ করে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, বিরোধী দলগুলো এখন নিজেদের বক্তব্য ও দেশের বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরবে।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে আলোচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু কার্যকর সংলাপের জন্য উভয় পক্ষের আন্তরিকতা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তালি দুই হাতে বাজে। কিন্তু এখানে এমন দুই হাত নেই, যা কাছাকাছি এসে তালি বাজাতে পারে।’

মাওলানা ফজলুর রহমান জানান, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। এখন প্রত্যেক দল নিজ নিজ ফোরামে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে এবং দলীয় নেতৃত্বকে অবহিত করবে। এরপর পরবর্তী বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোর যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি, জনগণের সমস্যা ও সরকারের নীতির বাস্তব প্রভাব জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ