মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী
নতুন মন্ত্রী নেওয়া, মন্ত্রিসভায় রদবদল আনা বা এর সাইজ ছোট বড় করা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। শোনা যাচ্ছে, বেশি দফতরওয়ালা মন্ত্রীদের কাজ অন্য কিছু মন্ত্রীর মধ্যে বণ্টন করা হবে। কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে। এটি সরকারের নিজস্ব বিবেচনা।
একটি সূত্রে প্রকাশ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নাকি একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে। আলেম উলামা পীর মাশায়েখ এবং ধর্মপ্রাণ জনগণের মনের আকাঙ্ক্ষা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যেন দেশের বিপুলতর মানুষের কাছে বিচ্ছিন্ন হিসাবে গণ্য কোনো মতাদর্শের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া না হয়।
এ দেশের শতকরা ৯৯% মুসলমান হানাফি মাজহাবের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী শরিয়ার ফ্লেক্সিবল অংশগুলো পরিপালন করে থাকেন। দুনিয়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী সব সাধারণ মুসলমান কোরআন সুন্নাহ পালনের ক্ষেত্রে ৪টি মাজহাবের যেকোনো একটির অনুসারী। এর বাইরে যারা রয়েছেন, তারাও নিজেদের অনুসরণীয়দের সিলেকশান অনুযায়ী শরিয়ার বহুমাত্রিক ব্যাখ্যাসাপেক্ষ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এটিই শরিয়ার সৌন্দর্য।
বাংলাদেশের প্রায় সব মুসলমানের নিকট পরিচিত সুন্নাহ অনুসারে বিস্তৃত ও প্রচলিত ধর্মীয় জীবনাচারের বিপরীতে ভিন্ন মতাদর্শে দীক্ষিত কোনো ব্যক্তিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ না দিয়ে তাঁকে অন্য যেকোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে ভালো হবে। এখানে এমপিদের মধ্য থেকে একজন হানাফি মাজহাব অনুসারী সাধারণ ব্যক্তি নিয়োগ দেওয়াই ভালো।
ধর্মীয় উচ্চ সংবেদনশীল এই বিষয়ে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সারাদেশে মুসলমানদের অন্তরে কঠিন আঘাত লাগবে। হানাফি মাজহাব অনুসারী, যাদের পরিমাণ দেশের ৯৯% মুসলমান, তাদের মনোভাবের প্রতি সরকারের পরোয়াহীনতার ভুল বার্তা যাবে এবং টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় বিস্তৃত জনগণ পর্যায়ে অসময়ে অহেতুক একটি নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে। একটি ভুল বোঝাবুঝির বাতাবরণ তৈরি হবে। আশা করি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি রেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।
লেখক: সিনিয়র লেখক-সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক
আরএইচ/