মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ ।। ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৬ জিলহজ ১৪৪৭


মাস্টার মজিবুল হক রহ.: ‎একজন দাঈ ও লেখকের বিদায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

‎|| মিযানুর রহমান জামীল ||

‎'কে ওই শোনাল মোরে আজানের ধ্বনি।
‎মর্মে মর্মে সেই সুর, বাজিল কি সুমধুর
‎আকুল হইল প্রাণ, নাচিল ধমনী।
‎কি মধুর আযানের ধ্বনি!, 
‎দুই যুগ আগে স্যারের মুখ থেকে শোনা কবি কায়কোবাদ এর আযান কবিতাটি এখনও মনে পড়ে।‎

‎জামিয়া ইসলামিয়া মাইজদীতে (নোয়াখালী আল আমিন মাদরাসা) দুই যুগেরও বেশি (২৮ বছর ১০ মাস ৩ দিন) সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে আমানতের সাথে দায়িত্ব পালন করেন মাস্টার মজিবুল হক রহ.। তিনি ছিলেন জামেয়ার সাবেক প্রধান মুফতি (ফরিদপুরের মুফতি মুহিব্বুল হক সাহেব) এর সোহবতপ্রাপ্ত মানুষ, দাওয়াত তাবলিগে যার অবদান অবিস্মরণীয়। ২০০২ সালে ছাত্রজীবনে তিনি আমাদের জেনারেল সাবজেক্টগুলোর ক্লাস নিয়েছেন। বিভিন্ন ঘটনা ও গল্পের রেখা টেনে ছাত্রদের মন ভালো রাখার চেষ্টা করতেন এবং আমাকে খুব স্নেহ করতেন। 
‎‎ক্লাসে মাঝে মধ্যে প্রসঙ্গত কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে মাওলানা মুহিউদ্দিন খান রহ. এর বাংলা তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন থেকে বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করে পড়া বুঝিয়ে দিতেন। পাতলা কাঁথায় বিছানো তাঁর সাধারণ বিছানায় চোখ পড়লে বালিশের উপর নজর কাড়তো এক জিলদ কুরআন শরীফ। একজন আমলি শিক্ষক হিসেবে তাঁর খ্যাতি কোনো অংশে কম ছিল না। ‎

‎তিনি আমাদের শিক্ষক হলেও তার মুখে কুরআনের আয়াতের তাফসীর শুনলে মনে হত তিনি একজন মুফাসসির আলেম। এটা মূলত ফরিদপুরের মুফতি সাহেব হুজুরের সোহবতের কারণেই হয়েছে। তাঁর এ অসামান্য কর্ম-দর্শন আমাদের ছাত্রজীবনের সূচনাপর্বকে বেশ সমৃদ্ধ করে তোলে। দায়িত্বশীল শিক্ষাগুরু ও আদর্শ অভিভাবকের জায়গা থেকে তিনি খুব সহজে হাজারো ছাত্রের মন জয় করেছিলেন। 

‎‎তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি উম্মতের জন্য দরদে দিল ছিলেন। ঈমান-আমলহারা উম্মতকে সঠিক পথে আহ্বান করতেন সবসময়। দীর্ঘ গবেষণা পর ‘শ্রেষ্ঠ উম্মতের শ্রেষ্ঠ কাজ’ নামে বইটি লিখে পাঠকমহলে বেশ পরিচিতি লাভ করেন তিনি।‎

‎মাস্টার মজিবুল হক রহ. নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার ধান শালিক ইউনিয়নের চরমণ্ডলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তঁর পিতার নাম মরহুম গোলাম রহমান, মাতার নাম মৃত সাদিয়া খাতুন। ‎চার ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তিনি।

‎আজ ২৫ জানুয়ারি রোববার ২০২৬ ভোর ৬টা ১০ মিনিটে শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে মাদরাসা সংলগ্ন বাসায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় তিনি এক মেয়ে পাঁচ ছেলেসহ অসংখ্য ছাত্র মুহিব্বীন ও অনুসারী রেখে যান। আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন।‎

‎লেখক: ‎সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরাম

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ