শিরোনাম :
যামানার কঠিন ফিতনার সময় আপনার করণীয় কী?
জানুয়ারি ০৫, ২০২২ ৩:৫২ অপরাহ্ণ

মুফতি আনিছুর রহমান। মানব জাতির পিতা হযরত আদম আলাইহিসসালাম কে সৃষ্টির পর যখন তাঁর সম্মানার্থে সিজদার আদেশ অমান্য করে ইবলিশ শয়তান অস্বীকার ও অহংকার করে অভিশপ্ত হলো এবং চিরতরে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হলো, তখন সে তার মত করে কয়েকটি স্বার্থ আল্লাহর কাছ থেকে আদায় করে নিলো। তন্মধ্যে একটি চ্যালেঞ্জ ছিলো যা পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন, অতঃপর আমি তাদের (বনী আদমের) সম্মুখ দিয়ে,পিছন দিয়ে, ডান দিক দিয়ে এবং বাম দিক দিয়ে আসবো। আর আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেন না। (সুরা আ’রাফ:১৭)।

উক্ত আয়াতে শয়তান এটা বুঝায়নি যে, সে সরাসরি মানুষের সামনে এসে দাঁড়াবে। বরং সে চতুর্দিক থেকে বিভিন্ন ঈমান বিধ্বংসী কার্যকলাপ নিয়ে হাজির হবে, যাতে মানুষকে চিরতরে জাহান্নামী বানিয়ে দিতে পারে।

সে ধারাবাহিকতায় বাস্তবে আমরা দেখি বর্তমানে ঠিকই শয়তান চতর্দিক দিক থেকে বিভিন্নধরনের ঈমান বিধ্বংসী বিজাতীয় সংস্কৃতি নিয়ে আসছে।

উপভোগ,উদযাপন,সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কালচারের নামে ইয়াহুদী খৃস্টানদের বহু চক্রান্তকে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করাচ্ছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের মনেপ্রাণে বদ্ধমূল হয়ে যাচ্ছে যে, হ্যাঁ এসব কালচার,আচার অনুষ্ঠানই আমার সফলতা ও সুখময় জীবনযাপনের মাধ্যম। বহু মানুষ দলে দলে সে ফাঁদে পড়ে ঈমান হারাচ্ছে।আর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সে বাণী বাস্তব রূপ নিচ্ছে যে, তিনি বলেছিলেন, “একটা যুগ আসবে যখন হাতে অঙ্গার রাখার মতই ঈমান রক্ষা কঠিন হয়ে যাবে।” (আল হাদিস)।

ইহুদি খৃষ্টান কখনো মুসলিমদের কল্যাণকামী হতে পারেনা। তারা বিভিন্ন কলাকৌশলে সর্বদাই ঈমান হরনের চেষ্টায় সজাগ থাকে। এজন্যই মহান আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেছেন, “হে মুমিনগণ, ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে তোমরা বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে নিশ্চয় তাদেরই একজন। নিশ্চয় আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।” ( সুরা মায়েদা:৫১)।

তাদের ঈমান বিধ্বংসী ফিতনায় নিমজ্জিত হয়ে যারা তাদের আচার অনুষ্ঠানে স্বশরীরে অংশগ্রহণ, সহযোগিতা এমনকি মৌনসম্মতি দ্বারাও কেউ তাদের দল ভারি করে, তাহলে সেও তাদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। কেননা হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে।” (সুনানে আবু দাউদ)।

এজন্য ফিতনার সময় করনীয় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন। হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারপাশে বসা ছিলাম। তখন তিনি ফিতনাহ্ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘তোমরা যখন দেখবে মানুষের ওয়াদা নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের আমানতদারী কমে গেছে এবং তারা এরূপ হয়ে গেছে, এ বলে তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুলসমূহ পরস্পরের মধ্যে মিলালেন।

বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে আমি দাঁড়িয়ে তাঁকে বললাম আল্লাহ আমাকে আপনার জন্যে উৎসর্গিত করুন! আমি তখন কি করবো? তিনি বললেন, তুমি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তোমার ঘরে অবস্থান করো, তোমার জিহ্বা সংযত রাখো; যা জানাশুনা আছে তাই গ্রহণ করো এবং অজানাকে পরিত্যাগ করো। আর তোমাদের নিজের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক হও এবং সাধারণের সম্পর্কে বিরত থাকো। (সুনানে আবু দাউদ)।

এমনিভাবে হযরত মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম! আমি নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ফিতনা হতে দূরে থাকবে সেই সৌভাগ্যবান, যে লোক ফিতনা হতে দূরে থাকবে, সেই সৌভাগ্যবান; যে ফিতনা হতে দূরে থাকবে, সেই সৌভাগ্যবান। আর যে ব্যক্তি ফিতনায় পড়ে ধৈর্য ধারণ করবে, তাঁর জন্য কতই না মঙ্গল!” (সুনানেআবু দাউদ)।

অনেক মানুষ আছে যারা স্ব-পরিবারে ইসলাম মেনে পূর্ণরূপে দ্বীনের উপর চলতে আগ্রহী! কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সামাজিকতা রক্ষার নামে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে বাধ্য হয়ে অংশগ্রহণ করতে হয়।

যেথায় গানবাজনা, জেনা-ভ্যাবিচারসহ বিভিন্ন ধরনের ঈমান বিধ্বংসী কার্যকলাপে ভরপুর! ফলে ঈমান, আমল ও উত্তম আখলাকের বৈশিষ্ট্য বাকী রাখাটা একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুতরাং আসুন আমরা তাওবা ইস্তেগফার মাধ্যমে তাকওয়া তথা খোদাভীতি অর্জনের মাধ্যমে পূর্ন দ্বীনের উপর অবিচল ও অটল থেকে নিজেকে ও নিজ পরিবারকে দিয়ে এ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা শুরু করি। ইনশাআল্লাহ একদিন সমাজ,রাষ্ট্র সর্বত্রই দ্বীনের আলো ছড়িয়ে পরবে।সকল ফিতনা নির্মূল হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেন,আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং নিকটবর্তী বিজয়।(হে রাসূল)মুমিনদেরকে এর সুসংবাদ জানিয়ে দিন।(সুরা সফ-১৩)

লেখক: গবেষক, ইমাম ও খতীব।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ