স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে কতটা আগ্রহী ইসলামী দলগুলো?
অক্টোবর ১২, ২০২১ ৭:০২ অপরাহ্ণ

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ জোরেশোরেই ইউপি নির্বাচনের প্রতি মনোযোগী হতে দেখা যাচ্ছে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোকে।

‘প্রায় দুই দশক ধরে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’

এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি সময় ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছে বলে আওয়ার ইসলামকে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া উপ কমিটির সহকারী সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম কবির

তিনি জানান, লালমনিরহাট, খুলনা, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিজয়ী ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছে। স্বয়ং দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম প্রায় আট বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চরমোনাই এলাকায়। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি সৈয়দ ইসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের দশ বছর ধরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন সেই এলাকায়। সর্বশেষ গত প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে দলটির পক্ষ থেকে বিজয়ী হয়েছেন মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ আজাদী।

দলের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম জানান, ইউপির দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে ৮৪৮টি ইউপিতে নির্বাচন হবে। এ পর্বে এরইমধ্যে ২৯৮টি ইউপিতে ফরম জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্তভাবে অন্তত পাঁচ শতাধিক ইউপিতে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলন ছাড়াও এবার দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোটসহ বেশ কয়েকটি দল অংশগ্রহণ করবে বলে জানা গেছে ইতোমধ্যে।

‘ইউপি নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর আগ্রহ নতুন’- একথা মানতে নারাজ মাওলানা আফেন্দী

ইউপি নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর আগ্রহ নতুন করে বাড়ছে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী

তিনি বলেছেন, ‘ইউপি নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর আগ্রহ নতুন করে বাড়ছে এ কথা ঠিক নয়’।

তার ভাষায়, ‘গত পাঁচ বছর আগেও ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। বর্তমানে সুনামগঞ্জের রানিং চেয়ারম্যান হিসেবে সুনাম ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন খেজুর গাছ প্রতীকে বিজয়ী মুফতি শামসুল ইসলাম’।

‘বিজয়ী মুফতি শামসুল ইসলাম ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে এমন খবর আছে’ বলেও জানান তিনি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘তিরিশ, চল্লিশ বছর আগে থেকেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আসছে এমন পোস্টার রয়েছে আমাদের সংগ্রহে’।

আরো পড়ুন: করোনা পরবর্তী রাজনীতি: কতটা মাঠে গড়াবে ইসলামী দলগুলো?

‘ইসলামি দলগুলো বরাবরই ইউপি নির্বাচন ও গণমুখী কার্যক্রমে আগ্রহী; তবে বিভিন্ন পরিস্থিতি, জনবল সংকট, আর্থিক দিক, যোগ্যপ্রার্থীসহ নানা কারণে হয়তোবা ইসলামী দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি সেভাবে ফলাও হয়না। এবং দলগুলোর পক্ষেও সব সময় কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হয় না ’ উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি মনে করেন, ‘সমাজে ন্যায়-নিষ্ঠা ও সততা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে গণমুখী কার্যক্রম আরও অনেক বেশী বাড়াতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ বাড়াতে চেষ্টা করছে ইসলামী দলগুলো। বরাবরই নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টা থাকে দলগুলোর’।

‘কেন্দ্রীয়ভাবে এবার স্থানীয় নির্বাচনে নেই বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন’

‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় না হলেও শুরু থেকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। বিগত বছরগুলোতে কোন কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণও করেছে দলটির প্রার্থীরা’। একান্ত আলাপচারিতায় আওয়ার ইসলামকে এসব  জানিয়েছেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী

‘এবারের ইউপি নির্বাচনে দলটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিতে চাইলে দলের পক্ষ থেকে অনুমতি রয়েছে।’

আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে অংশগ্রহণ না করার কারণ হিসেবে মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ‘বর্তমানে নির্বাচনে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে  জনমত প্রকাশ করতে পারে না। এছাড়াও এতে অংশগ্রহণের কারণে ব্যাপক খরচ। সব মিলিয়ে আপাতত কৌশলগত কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না দল। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে নিরুৎসাহিত করা হবে না কেন্দ্র থেকে’।

আরো পড়ুন: ‘শুধু ভালো ইসি নয়, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্দলীয় সরকার প্রয়োজন’

 

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাকে বড় বিষয় হিসেবে দেখছে ইসলামী ঐক্যজোট 

ইসলামী ঐক্যজোট দ্বিতীয় পর্বে ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলসহ কয়েকটি এলাকায় প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। দলটির সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা আনছারুল হক ইমরান আওয়ার ইসলামকে জানিয়েছেন, ইসলামী ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। তবে যাদের পক্ষে সম্ভব এবং সক্ষমতা রয়েছে তাদেরকে দলটির পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাই সবচেয়ে বড় কথা। এর মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ বাড়বে। নির্বাচনের ফলাফল এখানে মূল বিষয় নয়’।

 দ্বিতীয় পর্বের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে খেলাফত মজলিসও

এদিকে খেলাফত মজলিস সূত্র জানিয়েছে, ‘প্রথম পর্বে অংশ না নিলেও আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বে দলটির অন্তত ২০টিতে প্রার্থিতা থাকতে পারে। এছাড়া মেম্বার পদে অন্তত ৩০-৩৫ জন অংশ নেবেন’।

উল্লেখ্য, আগামী ১১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ৮৪৮টি ইউপিতে দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ। ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ অক্টোবর।

কেএল

সর্বশেষ সব সংবাদ