হাফেজে হাদিসদের উজ্জল ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে: মাওলানা আসাদুল্লাহ সুলতান
মে ০৫, ২০২১ ৪:০৩ অপরাহ্ণ

তিন পর্বে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে শেষ পর্ব

বাংলাদেশ হাফেজে কুরআনদের দেশ। এবার প্রিয় মাতৃভূমি হবে হাফেজে হাদিসদের। কেননা বাংলাদেশে অসংখ্য হাফেজে কুরআন থাকলেও হাফেজে হাদিস নেই হাতেগোণা একজনও। অসংখ্য হিফজুল কুরআন মাদরাসা থাকলেও হিফজুল হাদিস মাদরাসা নেই একটিও। হিফজুল হাদিসের এই সংকট কাটিয়ে উঠতেই নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসায় ‘হিফজুল কুরআনের আলোকে হিফজুল হাদীস’ বিভাগ চালু করেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চাঁদপুরের মহামায়া দারুস সালাম মাদরাসা। অত্যান্ত সফলতার সাথে প্রতিষ্ঠানটি এক বছর অতিবাহিত করার পর এবার পা রাখলো দ্বিতীয় বর্ষে। সম্প্রতি নিজের প্রতিষ্ঠিত হিফজুল হাদিস মাদরাসা নিয়ে আওয়ার ইসলামের মুখোমুখি হয়েছেন সৃজনশীল মননের এ তরুণ আলেম মাওলানা আসাদুল্লাহ সুলতান। তার সাথে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের নিউজরুম এডিটর মোস্তফা ওয়াদুদ।


১ম পর্বের সাক্ষাৎকার পড়ুন শুধু হাফেজে কুরআন নয়, আমরা বানাবো হাফেজে হাদিস 

দ্বিতীয় পর্বের সাক্ষাৎকার পড়ুন এবার প্রিয় মাতৃভূমি হবে হাফেজে হাদিসদের!

আওয়ার ইসলাম: বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম ও ছাত্রদের থেকে আপনি কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আসাদুল্লাহ সুলতান: আসলে সাড়া পাওয়ার আগে তো প্রচার-প্রসার প্রয়োজন। আমরা এখনো তেমন প্রচারই করিনি। হিফজুল হাদীসের প্রথম বছরটি ছিলো মূলত প্রচারহীন উদ্যোগ এবং বলতে গেলে পরীক্ষামূলক। এখন (২য় বর্ষ) থেকেই মূলত আমাদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু।

অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় উলামায়ে কেরামকে এবং দেশের কয়েকজন শীর্ষ আলেমকে এ ব্যাপারে অবগত করা হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ! তাঁরা প্রত্যেকেই মুগ্ধ হয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন, অনেকে পরামর্শও দিয়েছেন এবং যে সব তালিবে ইলম এ ব্যাপারে জেনেছেন, অনেকেই ‘হিফজুল হাদীস’ বিভাগে ভর্তির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

আওয়ার ইসলাম: হাফেজে হাদিসদের বাংলাদেশে ভবিষ্যত কী? তারা কেনো ভর্তির জন্য এ বিভাগটি নির্বাচন করবে?
আসাদুল্লাহ সুলতান: যদি পেশাগত ভবিষ্যতের কথা বলা হয়, তবে সুনির্দিষ্ট কোন পেশা হয়ত নাও হতে পারে। তবে ইলমী অঙ্গনে যত ধরণের খেদমত আছে, সব ক্ষেত্রেই ‘হিফজুল হাদীসে’র যোগ্যতাটি সহায়ক এবং অনেক উপকারি হিসাবেই কাজে আসবে।

বিশেষ করে ইবাদত, আচার-আচরণ, লেনদেন, ওয়াজ-নসিহত, জুমুয়ার খুৎবা, তাফসীর, উলূমে হাদীস, ফিকাহ্, উসূলে ফিকহ্, আরবি সাহিত্য, নাহু-সরফ, বালাগাত ইত্যাদি ক্ষেত্রে দলিল, উদাহরণ ও উপমা হিসাবে তৎক্ষণাৎ হাদীস প্রয়োগে সক্ষমতা অর্জন হবে। একজন ওয়ারাছাতুল আম্বিয়ার জন্য এতটুকু কি কম?

আওয়ার ইসলাম: ছাত্রদের এ বিভাগে ভর্তির জন্য উদ্ভূদ্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
আসাদুল্লাহ সুলতান: বিষয়টি যেহেতু নতুন, তাই শোনার সাথে সাথেই এর গুরুত্ব ও পদ্ধতি সবার উপলব্ধিতে আসে না, তাই আগে ছাত্রদেরকে এর গুরুত্ব বুঝানোর চেষ্টা করা হবে এবং হচ্ছেও। পাশাপাশি এর ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের অংশগ্রহণে জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘হিফজুল হাদীস সেমিনার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশের উল্লেখযোগ্য মাদরাসাগুলোতেও এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা সভা আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে। তা ছাড়া যে সব ছাত্র এখানে ভর্তি হবে তাদেরকে তো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করা হবেই। ইনশাআল্লাহ!

আওয়ার ইসলাম: বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নতুন এ বিভাগটির সফলতা নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
আসাদুল্লাহ সুলতান: ক্ষূদ্র অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, হিফজুল হাদীসে আগ্রহী তালিবে ইলমগণের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে, যার কারণে তারা হাজার হাজার হাদীস মুখস্থ করার স্বপ্নকে সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারবে। আর আলেম হয়েও যারা দলিল মুখস্থ না রাখার কারণে সঠিক কথাটাও জোরালোভাবে বলতে অনেক সময় হিমশিম খান, তাদের সামনে আস্থা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করবে এ পদ্ধতি। তখন হাদীসের নামে ফেতনা সৃষ্টিকারিরা অবশ্যই হতাশার ভূগতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ! আর এ পদ্ধতিতে যদি একজন তালিবে ইলম অন্তত এক হাজার হাদীসও মুখস্ত করতে পারে, এটাও কি তার জীবনে ছোটখাট কোন পাওয়া?

হিফজুল হাদীসের এ পদ্ধতি সম্পর্কে স্ববিস্তারে জানার জন্য আমার লেখা ‘হিফজুল কুরআনের আলোকে হিফজুল হাদীস’ বইটি সংগ্রহ করার অনুরোধ করবো। ধন্যবাদ পাঠবর্গকে এবং আওয়ার ইসলামকে।

এমডব্লিউ/

সর্বশেষ সব সংবাদ