fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
ইফতারের সময় আমাদের করণীয়
মে ০১, ২০২১ ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

।।উম্মে মা’বাদ।।

ইফতার শব্দটি আরবি, ফাতর থেকে এসছে। এর শাব্দিক অর্থ: নাস্তা করা, পান করা, ভঙ্গ করা বা যথাযথ সময়ে উপবাস ছেড়ে দেওয়া ইত্যাদি। পরিভাষায় ইফতার বলে, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্ট জন্যে সারাদিন পানাহার না করে, সূর্যাস্তের সময় যে খাবার গ্রহন করা হয়।

রমজান মাস, মুসলিমদের জন্যে অনেক বরকতময় মাস। রমজানে রোজা রাখা ফরজ। ইফতার করা সুন্নত। সবকিছুরই একটা সুন্দর নিয়ম রয়েছে। ইফতারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। ইফতার মানে এক ডিস ভাত খাওয়া নয়। বরং ইফতার মানে মাগরিবের আজানের সাথে সাথে হালকা নাস্তা করে নামাজ পড়া এবং এরপর পুরোপুরি ক্ষিদে নিবারণ করা। বিজ্ঞান মতে এতে শরীর ভালো থাকে এবং ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকেও এটাই করণীয়।

ইফতারের সময় করণীয়- ইফতারের আগে ইফতার সামনে নিয়ে তাসবিহ-তাহলিল এবং মোনাজাত আল্লাহ কাছে অনেক পছন্দনীয়। ইফতারের সময় আল্লাহ বান্দার সব চাওয়াগুলোই পূরণ করে দেন। রোজাদার প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে খাবার সামনে নিয়ে আল্লাহর দরবারে চাইলে। এটি আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দনীয় বিষয়। তাসবিহ-তাহলিলের পাশাপাশি মূল বিষয় হতে হবে মোনাজাত। কারন মোনাজাতের মাধ্যমে’ই আল্লাহর সাথে অদৃশ্য এক সংযোগ করা যায়। নিজের চাওয়া পাওয়া গুলো তুলে ধরা যায়। কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চাওয়া যায়।

আমরা অনেক সময় নানান দূর্ঘটনার সম্মুখীন হলে মানুষের কাছে ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করি। কিন্তু তাতে আদৌ আমাদের সমস্যার সমাধান হয় না। বড়জোর সামান্য উপকার হয়। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে রোজা রেখে ইফতারির আগ মুহুর্তে কেঁদে কেঁদে চেয়ে দেখুন। আপনার সমস্যা গোড়া থেকে সমাধান হয়ে যাবে। আপনি কখনও নিরাশ হবেন না ইনশাআল্লাহ।

ইফতারের আগ মুহূর্তে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া করণীয়- اَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيْم – اَلَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ اَلْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْم

উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।

ইফতারের দোয়া- বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিকের মাধ্যমে ইফতার করছি।

ইফতারের সুন্নত- ইফতার সব সময় খেজুর দিয়ে করাই মুনাসিব। সুন্নত মোতাবেক ইফতারে অল্প ক্ষিদা নিবারণ হয়, অনুরুপভাবে! নামাজ পড়ার সময়ও বেগ পেতে হয় না। এছাড়াও খেজুর দিয়ে ইফতার করাটিও সুন্নত। তবে খেজুর না থাকলে, সেক্ষেত্রে ভিন্নপথ অবলম্বন করা যাবে।

হজরত সালমান ইবনে আমের রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, সে যেনো খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা, সেটা সুন্নত। তবে তার কাছে যদি খেজুর না থাকে। তাহলে সে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কারণ পানি পাক-পবিত্র। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা : ৮৪৭, মুসনাদে আহমাদ : ১৬২২৫, সহিহ ইবনে খুজাইমা : ২৭৮, বায়হাকি শুআবুল ইমান : ৩৬১)

ইফতারের সময়- হজরত সাহল ইবনে সা’দ রা. থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, মানুষ তত দিন কল্যানের উপর থাকবে, যত দিন তারা ইফতার করবে। (সহিহ আল-বুখারি, হাদিস : ১৯৫৭, সহিহ মুসলিম) হজরত আবু আতিয়্যাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি ও মাসরুক হজরত আয়েশা রা.-এর নিকট গিয়ে বললাম, হে উম্মুল মুমিনিন! হজরত মুহাম্মদ সা.-এর সাথীদের মধ্যে দুজন এমন আছেন যাঁদের একজন অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। আর অপরজন বিলম্ব করে ইফতার করেন এবং বিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, দুজনের মধ্যে কে অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন? রাবী বলেন, আমরা বললাম, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সা. এভাবেই করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৯৯, সুনানে আবু দাউদ)

ইফতারের ফজিলত- ইফতারের সময়, অনেক সওয়াব হতে থাকে। পাশাপাশি গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দোয়া কবুলের দরজা বরাবরি তার জন্যে খোলা থাকে। এ ছাড়াও রোজাদার সম্পর্কে হাদিস শরিফে আছে। রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহ তাআলার কাছে মিসক আম্বরের সুগন্ধির চেয়েও অধিক প্রিয়।

রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত- রোজাদারকে ইফতার করানোও অনেক ফজিলতপূর্ণ। এ প্রসংগে হুজুর পাক সা. বলেন, কেউ যদি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তার যাবতীয় গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং সওয়াব বৃদ্ধি হয়। সে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাবে।

হজরত যায়েদ ইবনে জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করালো, তারও রোজাদারের ন্যায় সাওয়াব হবে; তবে রোজাদারের সাওয়াব বা নেকি বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

অন্য বর্ণনায় এসেছে- যে রোজাদারকে ইফতার করালো, তাকে পানাহার করালো, তাকেও রোজাদারের সমান সাওয়াব দেয়া হবে; তবে তার (রোজাদারের) নেকি বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। (তাবরানি, মুসান্নেফে আব্দুর রাজ্জাক)

উপরের লেখার মূল বক্তব্য হলো- ইফতারি সামনে রেখে আমরা যে দোয়া করি আল্লাহর কাছে তা অত্যন্ত প্রিয়, তাই আমরা অন্যকাজে ব্যস্ত না হয়ে দোয়া করতে পারি। আজান দিলে, ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন’ পড়ে, ইফতারি শুরু করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। সেটা সম্ভব না হলে পানি দিয়ে করা উত্তম এবং ইফতারি হাল্কা পাতলা করতে হবে, এরপর নামাজ সেরে এসে, বাকি ইফতারি সারতে হবে।

এছাড়াও মনে রাখতে হবে, আজান দেওয়ার সাথে সাথে ইফতারি করা উত্তম। ইফতার করার ফজিলত- গুনাহ মাফ হবে, দোয়া কবুল হবে, সওয়াব পাওয়া যাবে ইত্যাদি। এছাড়াও অপর একজন রোজাদারকে ইফতার করালে, পুরো রোজা রাখার সওয়াব, আপনি নিজেও পাবেন। অনুরুপ! সেও পাবে।

-কেএল

সর্বশেষ সব সংবাদ