fbpx
           
       
           
       
কথা হোক শালীন ভাষায়
ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২১ ৬:৩২ অপরাহ্ণ

মুফতি নাজমুল হাসান।।

রেহেনা বেগম৷ একজন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষিকা৷ তিনি কথায় কথায় ইংরেজি বলেন৷ বাংলা বলেন খুব শুদ্ধ ভাষায়৷ তার ছাত্র-ছাত্রীদেরও শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করে থাকেন৷ তিনি নিজের সন্তানদের গড়তে চান নিজের মত করে৷ তাই, হরহামেশাই নিজ সন্তানদের কথায় কথায় ইংরেজি বলার পাশাপাশি বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন৷ কিন্তু তার এই বিশুদ্ধ উচ্চারণে শালীনতার কোন তোয়াক্কা নেই৷ ভাষার শালীনতায় তিনি ব্যবধান রেখেছেন জাতপাতের৷

যার জাত যত উন্নত, রেহেনা বেগমের ভাষার শালীনতাও তত উন্নত৷ আর যার জাত যত নিম্ন, রেহেনা বেগমের ভাষার শালীনতাও নেমে যায় তত নিম্নে৷ বাড়িওয়ালা ও স্কুলের স্যার/ম্যাডামদের সাথে তার কথা হয় সর্বোচ্চ শুদ্ধ উচ্চারণ ও শালীন ভাষায়৷ কিন্তু বাসার কাজের বুয়া, গেটের দারোয়ান বা নিম্ন পেশার যে কোন মানুষের সাথে তিনি কথা বলেন যথেষ্ট অশালীন ভাষায়৷ কাজের বুয়ার চুল টেনে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা তো রেহেনা বেগমের নিত্যদিনের স্বভাব৷

রেহেনা বেগমের স্বামী হারুনুর রশিদ৷ পেশায় একজন সরকারি কর্মকর্তা৷ অফিসের বস ও কলিগদের সাথে সর্বোচ্চ শালীনতা বজায় রেখে বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বললেও খুবই বাজে ভাষায় কথা বলেন নিম্ন পেশার মানুষদের সাথে৷ অফিসে আসা যাওয়ার পথে রিক্সার ড্রাইভার ও বাসের হেলপারের সাথে অল্প কয় টাকার ভাড়া নিয়ে অশালীন ভাষায় ঝগড়া করা তার দৈনিকের রুটিন৷

এভাবেই চলছে প্রতিটি পরিবার ও প্রতিটি সমাজ৷ অথচ, উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সকলের সাথেই শালীন ভাষায় কথা বলা ইসলামের নির্দেশ৷ এমনকি ইসলাম শত্রুর সাথেও শালীন ও নম্র ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দিয়েছে৷ খোদাদ্রোহী ফেরাউনের কাছে যখন মুসা ও হারুন (আ.)-কে পাঠানো হয়, তখন এ বিশেষ হেদায়েত দেওয়া হয়েছিল, ‘তোমরা তার সঙ্গে নম্র ভাষায় কথা বলবে। (এতে) হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।’ (সুরা: ত্ব-হা, আয়াত: ৪৪)

জীবন চলার পথে কখনো কখনো যুক্তিতর্ক ও বিবাদের মুখোমুখি হতে হয়। সে ক্ষেত্রেও ইসলামে শালীনতার সীমা অতিক্রম করার সুযোগ নেই৷ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা উত্তম পন্থায় আহলে কিতাবের সঙ্গে যুক্তিতর্ক করবে।’ (সুরা: আনকাবুত, আয়াত: ৪৬)

কথা বলার সময় কখনো শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। গালাগাল করা, দম্ভভরে কথা বলা ও কর্কশ ভাষা ব্যবহার করা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, গর্হিত অপরাধ। হজরত লোকমান (আ.) তাঁর পুত্রের প্রতি অনেক উপদেশ দিয়েছিলেন। তাঁর কিছু উপদেশ আল্লাহ পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন। এক স্থানে তিনি বলেন, ‘সংযতভাবে তুমি তোমার পা পরিচালনা করবে আর তোমার কণ্ঠস্বর নিচু রাখবে। নিশ্চয়ই কণ্ঠস্বরের মধ্যে গাধার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে অপ্রীতিকর।’ (সুরা: লোকমান, আয়াত: ১৯)

লেখক: শিক্ষক, জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলূম, কুমিল্লা৷

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ