বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ ।। ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের হাফেজ নুরদ্দীন জাকারিয়া দুবাই কুরআন প্রতিযোগিতায় ১৩৫ দেশ থেকে রেকর্ড সাড়ে ২০ হাজার আবেদন হজরত বাবুনগরী (রহ.) : দুই যুগের কিছু স্মৃতি এই সপ্তাহে হারামাইনে জুমার খতিব শায়খ সুদাইস ও আহমাদ হুযাইফি সত্যিই কি আফগানিস্তানে নারী শিক্ষা বন্ধ? আগস্টের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার ৬৬.৩%, সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে ৫৪.৫% কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে খেলাফত মজলিসের শোক ‘মাদরাসা ছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলা বিগত ফ্যাসিবাদী আচরণ স্মরণ করিয়ে দেয়’ দারুল আরকামের ছাত্রদের লাঠিচার্জের ঘটনায় ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি

স্বায়ত্তশাসন ফেরাতে কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলোর নতুন জোট

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা ফেরাতে নতুন জোট গড়েছে কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলো।

‘পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকর ডিক্লারেশন’ নামের এই জোট বৃহস্পতিবার আত্মপ্রকাশ করে। গ্রেটার কাশ্মীর ও এই সময় জানায়, গঠিত এই জোটে রয়েছেন সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিও।

প্রায় ১৪ মাস পর গত মঙ্গলবার বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় মেহবুবা বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিকভাবে যা কেড়ে নিয়েছে, তা ফিরিয়ে দিতেই হবে। জম্মু-কাশ্মীর সমস্যার সমাধান খুঁজতে এখানকার মানুষকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সেই সম্মিলিত লড়াইয়ের ইঙ্গিতই মিলেছিল বুধবারই। গুপকর রোডের বাড়িতে মেহবুবার সঙ্গে দেখা করতে যান ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ এবং তার ছেলে ওমর।

মেহবুবার কুশলাদি জানার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার গুপকর ডিক্লারেশনে স্বাক্ষরকারী সব দলের বৈঠকে মেহবুবাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তারা। এদিন সেই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকর ডিক্লারেশন’।

বৈঠকের পর ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এই জোটের নাম দিয়েছি পিপলস অ্যালায়েন্স ফর গুপকর ডিক্লারেশন। এটা আমাদের সাংবিধানিক লড়াই। ভারত সরকার আমাদের কাশ্মীরের মানুষদের সেই অধিকার ফিরিয়ে দিক, যা ২০১৯ সালের ৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত ছিল।’

গত ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার দিনটিকে ‘কালো দিবস’ বলে উল্লেখ করে মেহবুবা বলেন, ‘ওই দিনের সেই অপমানের কথা আমরা কেউ ভুলিনি। ওই ডাকাতি, অপমান আমরা কেউ ভুলতে পারব না।’

দাবি আদায়ে মেহবুবা-ফারুকদের সঙ্গে হাত মেলান সাজ্জাদ লোনসহ কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক দলগুলো। গত ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরকে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ ধারা বাতিল করে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটির রাজ্যের মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু, কাশ্মীর এবং লাদাখ তিন খণ্ড করে তা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত ‘ইউনিয়ন টেরিটোরি’তে পরিণত করা হয়।

এর আগের দিনই জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বহাল রাখার দাবিতে গুপকর ডিক্লারেশনে সই করে কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলো।

কাশ্মীর সম্পর্কিত ৩৭০ ধারাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ এর ভিত্তিতেই কাশ্মীর রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়। এছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়।

প্রতিরক্ষা, বিদেশ, অর্থ এবং যোগাযোগ ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরে হস্তক্ষেপের অধিকার ছিল না কেন্দ্রীয় সরকারের। এমনকি কোনো আইন প্রণয়ন করতে হলেও জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের মতামত নিতে হতো। কেবল স্থায়ী বাসিন্দারাই ওই রাজ্যে সম্পত্তির মালিকানা, সরকারি চাকরি বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পেতেন যা এখন বাতিল হয়ে যায়। এছাড়া ৩৭০ ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা কারা তা নির্ধারণ করার অধিকার ছিল রাজ্যটির বিধানসভার ওপরেই।

রাজ্যের বাসিন্দা কোনো নারী রাজ্যের বাইরের কাউকে বিয়ে করলে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। তার উত্তরাধিকারীদেরও সম্পত্তির ওপরে অধিকার থাকত না। মূলত সেখানকার জনসংখ্যার আনুপাতিক স্থিতি বজায় রাখতে বহিরাগত বসতিস্থাপন বন্ধে এসব সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।

বিজেপি সরকার এই ধারা বাতিল করায় এসব অধিকার হারায় কাশ্মীরের জনগণ। মূলত হিন্দুদের বসবাসের সুযোগ করে দিয়ে জনসংখ্যার বর্তমান স্থিতি বদলে দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ