199569

ঘুষ মারাত্মক ব্যাধি

মুফতি নূর মুহাম্মদ রাহমানী

হালাল রিজিক অন্বেষণ ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা হারাম উপায়ে উপার্জন করতে নিষেধ করেছেন। ভাগ্যে যে রিজিক লেখা আছে, সেটা আসবেই। এখন কেউ এটা অর্জন করে বৈধ পদ্ধতিতে, আবার কেউ চুরি-ডাকাতি, সুদ, ঘুষ, রাহাজানি ইত্যাদি অবৈধ পদ্ধতিতে অর্জন করে। ঘুষ সমাজের জন্য গভীর ক্ষত।

যে ডিপার্টমেন্টেই যাবেন আপনার কাজ তখনই হবে, যখন আপনি হাদিয়া-উপহারের নাম করে কিছু ঘুষ দেবেন, নতুবা আপনার কাজ ঐ জায়গায়-ই পড়ে থাকবে। কোনোভাবেই আপনার ফাইল ইত্যাদি ইস্যু হবে না।

ঘুষ মানবসমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ধ্বংসাত্মক রোগ। যে সমাজে ঘুষ ব্যাপক হয় সে সমাজে নীতি-নৈতিকতা ধুলিস্যাত হয়ে যায়। অবৈধ, অনৈতিক যত সব কাজ এই ঘুষের আড়ালে করার চরম সুযোগ সৃষ্টি হয়। যার কারণে সুবিচার থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যায় এবং সেটি গুটি কয়েক লোকের ঔদ্ধত্যের কারণ হয়।

ঘুষের অনেক ক্ষতি। তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, এর মাধ্যমে চরিত্রের নীচতা ও হীনতা কঠিনভাবে প্রকাশ হয়। ঘুষে লিপ্ত ব্যক্তির ইজ্জত-সম্মান বলতে কিছু থাকে না। বড় পদের অফিসার হওয়ার পরও তাকে কেউ ভয় পায় না। শান-শওকত থাকার তো প্রশ্নই আসে না।

ভিক্ষুকের মতো সবার আগে সে হাত পেতে বসে। তাহলে সে কিভাবে মাথা উঁচু করে চলবে? কিভাবে ন্যায় বিচার করবে?-চাই সে শাসক হোক বা শাসিত, পুলিশ হোক, বা আসামী, জজ হোক বা উকিল। এ সব লোক গরিব-অসহায় এবং ঈমানদার মানুষদের শত্রæতে পরিণত হয়।

ঘুষ গ্রহণকারী অর্থকড়ি এবং সা¤্রাজ্যের পূজকে পরিণত হয়। এটা তার স্বভাবে এমনভাবে ঢুকে যায় যে, সে এটাকে দোষণীয় মনে করার পরিবর্তে নিজের অধিকার মনে করতে থাকে। আল্লাহ তায়ালার নিয়মনীতি ও বিধিবিধান নিয়ে বিদ্রোহ করতে শুরু করে। পার্থিব চাকচিক্য ও সৌন্দর্যে মত্ত হয়ে যায়।

হারাম উপার্জন এবং হারাম খাবার ভক্ষণকারীর না ইবাদত কবুল হয়, না কোনো দান-সদকা কবুল হয়, না কোনো নেক কাজ কবুল হয়, না তার কোনো দোয়া কবুল হয়। কেননা, যে বান্দার খাবার, পোশাক হারাম না তার ওমরা কবুল হবে, না নামাজ কবুল হবে, না জাকাত কবুল হবে। এমনকি সে যদি কাবা শরিফের গিলাফে ছুঁয়ে দোয়া করে, আল্লাহ তাকেও ফিরিয়ে দেবেন, কেননা, সে তাঁর বিধিবিধানকে পিছনে ছুঁড়ে ফেলেছে। ঘুষের টাকা খরচ করলে তাতে বরকত নেই। মৃত্যুর পর রেখে গেলে জাহান্নামে যাওয়ার উপকরণ।

মাজমাউল বিহহার গ্রন্থে আল্লামা ফাত্যানি (রহ.) ঘুষের সংজ্ঞায় লিখেছেন, কোনো ব্যক্তি নিজের অসৎ উদ্দেশ্য এবং অন্যায় চাহিদা পূর্ণ করার জন্য কোনো দায়িত্ববান ব্যক্তিকে কিছু দেওয়া।

ঘুষের পরিণতি
ঘুষের আদান-প্রদান লেনদেনের একটি নিকৃষ্ট পন্থা। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তাদের অনেককেই তুমি দেখবে পাপে, সীমালংঘনে ও অবৈধ ভক্ষণে তৎপর; তারা যা করে নিশ্চয় তা নিকৃষ্ট।’ (সুরা মায়িদা : ৬২) অন্য আরেকটি আয়াতে ঘুষ নিষেধের ব্যাপারে আরও স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিছু অংশ জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারককে উৎকোচ দিও না।’ (সুরা বাকারা : ১৮৮)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের তাফসির বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেন, এই আয়াত এমন ব্যক্তির ব্যাপারে যার কাছে কারও পাওনা থাকে, কিন্তু পাওনাদারের নিকট প্রমাণ না থাকে, এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সে আদালত বা বিচারকের মাধ্যমে নিজের ব্যাপারে ফয়সালা করিয়ে নেয়। এমনিভাবে অন্যের হক জোর-জবরদস্তি করে নিয়ে নেয়। আদালতের ফয়সালা জুলুম এবং হারামকে জায়েজ এবং হালাল করতে পারে না।

এই জালেম আল্লাহ তায়ালার কাছে অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবে। (তাফসিরে ইবনে কাসির : ১/৫২১) মুফতি আজম মুফতি শফি (রহ.) উল্লেখিত আয়াতের তাফসিরে হালাল-হারামের কারণগুলো স্পষ্ট করতে গিয়ে লিখেন, ‘ইসলামী শরিয়তে যতগুলো লেনদেন বাতিল, ফাসেদ এবং গুনাহ বিবেচিত হয় এ সবগুলোর কারণ এটাই যে, কোথাও ধোঁকার আশ্রয় নেওয়া হয়, কোথাও অজানা বস্তু, অজানা কাজের বিনিময় হয়, কোথাও কারও হক লুণ্ঠন হয়, কোথাও কাউকে ক্ষতি করা হয়, কোথাও অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হয়। সুদ, জুয়া এগুলো হারাম হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ কিন্তু এটাই যে, সেগুলো সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে গুটিকয়েক মানুষ আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়, আর পুরো সমাজ এতে দেওলিয়া হয়। এ ধরনের লেনদেন উভয়ের সন্তুষ্টিতে হলেও হালাল হবে না। কারণ সেটি পুরো জাতির বিপরীতে একটি অপরাধ প্রবণতা। উল্লোখিত আয়াতটি এ সব অবৈধ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। (মাআরিফুল কুরআন : ১/৪৫৯)

ঘুষের নিন্দা এবং তা আদান-প্রদানকারীর ওপর রাসুলে করিম (সা.) অভিসম্পাত করেছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করিম (সা.) ঘুষদাতা এবং গ্রহীতার ওপর অভিসম্পাত করেছেন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ৬৫৩২) অন্য আরেকটি হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ঘুষ আদান-প্রদানকারী উভয়ে জাহান্নামে যাবে।’ (তাবরানি)

ঘুষের ছড়াছড়ি হলে সমাজে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়ে। হজরত আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি- যখন কোনো জাতির মাঝে সুদের ব্যাপক প্রচলন হয়ে যায় তখন তারা দুর্ভিক্ষে পতিত হয়। আর যখন তাদের মাঝে ঘুষের আধিক্য দেখা দেয়, তখন তারা শত্রæর ভয়ে ভীত হয়ে পড়ে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৪/২০৫)

ঘুষের দালালও অভিশপ্ত : ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুষ আদান-প্রদানকারী যেভাবে অভিশপ্ত। ঠিক সেভাবে ঘুষ লেনদেনের দালালও রাসুলের হাদিসের আলোকে অভিশপ্ত। রাসূলের বিশিষ্ট সাহাবি হযরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) ঘুষ আদান-প্রদানকারী এবং এর দালাল সবার ওপর অভিশম্পাত করেছেন।’ (মুসনাদে আহমাদ) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) তো এই পর্যন্ত বলেছেন যে, বিচারকের জন্য কারও থেকে ঘুষ নিয়ে ফয়সালা করা কুফরীর সমতুল্য। আর সাধারণ মানুষের জন্য পরষ্পর ঘুষ লেনদেন করা হারাম অপবিত্র উপার্জন।’ (তাবরানি)

ঘুষ বনাম হাদিয়া : হাদিয়া-উপহার আদান-প্রদান ইসলামের সৌন্দর্য। নবীজির সুন্নত। এর মাধ্যমে পারষ্পরিক মহব্বত তৈরি হয়। পারষ্পরিক সুন্দর একটি বন্ধন তৈরি হয়। নবীজি (সা.) সাহাবিদেরকে হাদিয়া উপহার দিতেন। সাহাবায়ে কেরামও নবীজিকে (সা.) উপহার দিতেন। তারা নিজেরাও পারষ্পরিক উপহার আদান-প্রদান করতেন। পারষ্পরিক বন্ধন মজবুত করার জন্য উপহার আদান-প্রদান খুবই উত্তম কার্যকর পন্থা। মনখুশিতে হাদিয়া দিলে তা ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা নেই। স্ত্রীদের দেনমোহরের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা নারীদেরকে তাদের দেনমোহর স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে প্রদান করবে; খুশি হয়ে দেনমোহরের কিছু অংশ ছেড়ে দিলে, তোমরা তা স্বাচ্ছন্দে ভোগ করবে।’ (সুরা নিসা : ৪)

হাদিসেও হাদিয়া দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে, হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত, নবীজী (সা.) বলেন, ‘পরষ্পর হাদিয়া দাও, মহব্বত বৃদ্ধি পাবে।’ (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫৯৪)।

হাদিয়া-উপহার আদান-প্রদান খুবই ভালো। কিন্তু হাদিয়া যখনই ঘুষের রূপ ধারণ করবে তখনই আর গ্রহণের সুযোগ নেই। কোনটি হাদিয়া আর কোনটি ঘুষ সেটা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মাত্রই বুঝবেন। বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য হাদিয়া গ্রহণ করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। হাদীস শরীফে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ হাদিয়া কবুল করলে চুরি বলে গণ্য হবে। (অর্থাৎ হারাম হবে) (মুসনাদে আহমাদ : ৫/৪২৪)

ঋণের বিনিময়ে হাদিয়া গ্রহণ না করা। কারণ এখানেও সুদ-ঘুষের প্রবল সম্ভাবনা বিদ্যমান। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন কাউকে ঋণ দেয়, আর গ্রহীতা যদি তাকে কোনো হাদিয়া-তোহফা দেয় কিংবা যানবাহনে আরোহন করতে বলে, তখন সে যেন তার তোহফা কবুল না করে এবং তার সওয়ারিতেও আরোহন না করে। অবশ্য আগে থেকে যদি উভয়ের মধ্যে এরূপ লেনদেনের ধারা চলে আসে, তবে তা ভিন্ন কথা।’ (ইবনে মাজাহ)।

জাকাত উসুলকারীদের জন্য হাদিয়া-উপহার গ্রহণ করা : নবীজি (সা.) কর্মচারীদের জনগন থেকে হাদিয়া-উপহার গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। আবু হুমাইদ সাঈদি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.) একবার ইজদ গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত করে পাঠান। লোকটির নাম ইবনুল-লুতবিয়্যা। লোকটি কাজ শেষ করার পর প্রত্যাবর্তন করে বলল, এ অংশ আপনাদের আর এ অংশ আমাকে হাদিয়াস্বরূপ দেওয়া হয়েছে।

কথাগুলো শুনে মহানবী ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। মহান আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠান্তে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পন করেছেন, তা পালনের জন্য আমি তোমাদের মধ্য থেকে কোনো কোনো লোককে নিয়োজিত করি। অথচ তাদের কেউ কেউ ফিরে এসে বলে, এগুলো আপনাদের, আর এগুলো আমাকে হাদিয়াস্বরূপ দেওয়া হয়েছে (এরূপ বলা ঠিক নয়, কারণ)।

যদি এমনই হতো, তাহলে সে তার পিতৃগৃহে কিংবা মাতৃগৃহে বসে থাকেনি কেন? তখন সে দেখতে পেত যে, তাকে হাদিয়া দেওয়া হয় কি না। সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন, এ ক্ষেত্রে কেউ যদি কোনো কিছু গ্রহণ করে, তবে সে তা নিজ ঘাড়ে বহন করে কিয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হবে। বস্তুটি যদি উট হয়ে থাকে, তাহলে সেটি তখন চিৎকার করতে থাকবে, যদি গরু হয়, তাহলে হাম্বা হাম্বা ডাক দিতে থাকবে, আর যদি বকরি হয়, তাহলে ব্যা ব্যা করতে থাকবে। তারপর মহানবী (সা.) মুনাজাতের উদ্দেশ্যে হস্তদয় এতখানি উঁচু করলেন যে, আমরা তাঁর বগল মোবারকের শুভ্রাংশ দেখতে পেয়েছি। তারপর বলেন, হে আল্লাহ! আমি কি বার্তা পৌঁছাতে পেরেছি? (বুখারি ও মুসলিম)

বর্তমানে মাদরাসা এবং বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে রমজানে যারা জাকাত কালেকশন করতে বিভিন্ন দেশে সফর করেন, তারা প্রচুর পরিমাণে হাদিয়া-উপহার পেয়ে থাকেন, এই হাদিয়া প্রতিষ্ঠানে জমা না করে নিজে গ্রহণ করা কেমন হবে চিন্তার বিষয়!

ঘুষ কখন জায়েয? : এ ব্যাপারে ফকিহদের মূলনীতি হলো, ঘুষ না দিলে যদি অন্যায়ভাবে জান-মাল বিপন্ন হওয়ার ভয় থাকে অথবা যে দায়িত্বশীলের নিকট তার আবেদন, সে তার সাথে ইনসাফের আচরণ করবে না এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের সাথে সমতা রক্ষা করবে না, তাহলে সে সকল ক্ষেত্রে অপারগ হয়ে এ ধরনের পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে। বিশিষ্ট ফকিহ আল্লামা ইবনে নুজাইম (রহ.) এমনটাই বলেছেন। (রদ্দুল মুহতার : ৪/৩৪, জাদিদ ফিকহি মাসায়েল সূত্রে)

এজন্য আমাদের কর্তব্য হবে, এই মারাত্মক ব্যাধি ও ক্ষত থেকে বেঁচে থাকা। নিজের পরিবার-পরিজনকেও বাঁচিয়ে রাখা। রিজিকের প্রাচুর্যের দোয়া না করে রিজিকে বরকত হওয়ার দোয়া করা। আল্লাহর ওপরই পূর্ণাঙ্গ ভরসা করে হালাল রিজিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকা। যদি প্রয়োজন পুরা না হয়, তাহলে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক উপার্জনের এবং কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম বাগে জান্নাত, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ।

-এটি

আপনার বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 01640523566