196979

ঢালাওভাবে উগ্রবাদী বই আখ্যা দানে সতর্ক হোন

মুসা আল হাফিজ।।

আজ দেখলাম, উগ্রবাদের দায়ে গ্রেফতারকৃত একজনের সামনে কিছু বই। সেখানে সামনে আছে আমার ‘আমেরিকা মুসলিমদের আবিষ্কার’। অন্য বইগুলো চেনা যাচ্ছে না। মিডিয়ায় এসেছে এগুলো উগ্রবাদী বই। মানে উগ্রবাদী বইগুলোর অভিধায় আমার বইটিকেও হাজির করা হয়েছে। এর আগে কুরআন শরীফের অনুবাদ, ফাজায়েলে আমল ইত্যাদিকেও উগ্রবাদী বই হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এটা খুবই দু:খজনক। এ বিষয়ে আরো সতর্ক হওয়া আবশ্যক। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেয়া উচিত। এটি না হলে অভিযুক্ত একজনের কাছে যে বইই পাওয়া যাবে, তাকে উগ্রবাদী বই হিসেবে দেখানোর সমস্যা থেকে যাবে। তার কাছে যেমন বোখারী শরীফ থাকতে পারে, তেমনি থাকতে পারে ফাজায়েলে আমল। থাকতে পারে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী কিংবা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস। তার কাছে আছে বলেই একটি বইকে উগ্রবাদী বই বলা বিভ্রান্তিকর।

আমার যে বইটি ছবিতে এসেছে, সেটা হচ্ছে, ‘আমেরিকা মুসলিমদের আবিষ্কার’। এতে প্রিকলম্বিয়ান যুগে আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে মুসলিম নেভিগেটরদের অভিযানসমূহ নিয়ে গবেষণামূলক আলোকপাত করা হয়েছে। এ গবেষণা আমেরিকায় হয়ে আসছে অনেক আগ থেকে। এ গবেষণার অগ্রপথিক হচ্ছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ডক্টর বেরি ফিল (১৯১৭-১৯৯৪)। ( ব্ই- AMERiCA B.C : anieint settlers in the new world) এ গবেষণায় নানা সময়ে লিপ্ত ছিলেন প্রফেসর ইভান ভন সার্টি মা ( ১৯৩৫-২০০৯) { বই- The Come Befor Columbus)। ঐতিহাসিক লিউ উইনার (১৮৬২-১৯৩৯) (Africa And The Discovery of America)সহ অনেকেই।

ষোড়শ শতকের লোপেজ ডে গোমারা ( ১৫১১-১৫৬৬) {বই -Historia De Mexico, Anvers 155) থেকে নিয়ে এ অবধি চলছে গবেষণাধারা। এ ধারায় বাংলাভাষায় এটি দ্বিতীয় বই।

প্রথম বইটি লেখেন বাসার মঈনুদ্দীন। একান্ত ছোট ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে বইটি লিখিত হয়। প্রকাশ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আমার বইটি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাপক অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা। যা ইতিহাসগবেষক ও পাঠকদের জন্য জ্ঞানালোকের আয়োজন মাত্র। এখানে মূলত ছিলো ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচনের প্রেরণা। যে প্রেরণা থেকে BBC News Africa ২০০০ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশ করেছিলো এ বিষয়ক এক প্রতিবেদন। যার লেখক ছিলেন জোয়ান বেক্সটার।

একান্তই ঐতিহাসিক গবেষণানির্ভর বইটি গ্রেফতারকৃত একজনের কাছে আছে বলেই বইটি যে ট্যাগ পেলো, একজন গবেষক হিসেবে তা আমাকে বিস্মিত করেছে।

উগ্রবাদ প্রসঙ্গে ব্যক্তি আমার অবস্থানের কথা বলি। উগ্রবাদী প্রবণতার হাতে একরকম আক্রান্ত হয়ে আসছি। এদেশে যারা উগ্রবাদী, তারা বহু আগেই তাদের একটি ওয়েবসাইটে প্রচার করেছে, আমার ঈমান চলে গেছে।

কারণ আমার বক্তব্য তাদের বিরুদ্ধে যায়। যখন কোনো গোষ্ঠী সারা দেশে একই সাথে বোমা হামলা চালায়, এর প্রতিবাদে ইসলামের বয়ান নিয়ে যারা সবচে’ বেশি লেখালেখি করেছেন, তাদের মধ্যে ছিলাম আমি। সেসব রচনার কিছুটা আছে ‘পৃথিবী ঘরে ফেরো’, ‘আমি বিজয়ের সন্তান’ বইয়ে। সামাজিক মাধ্যমে আমার বহুসংখ্যক রচনা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ।

আমার রচনা, বক্তব্য, চিন্তাধারা, কর্মধারা সর্বত্রই আছে তাদের উগ্রতার বিপরীতে নিরবচ্ছিন্ন অবস্থান। এ জন্য অনেক হুমকি, অপপ্রচার ও মন্দ অভিধার সম্মুখিন হতে হয়েছে। দুই বছর আগে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের উপস্থিতিতে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উগ্রবাদবিরোধী সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেছিলাম আমি। সেখানে যেমন বলেছি, তেমনি সর্বত্র আমি বলে আসছি, উগ্রবাদ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মুসলিমদের জন্য আত্মঘাতী।

আমার চিন্তা, যাপন, রচনা ও প্রচার মূলত ভারতের অবিস্মরণীয় চিন্তাবীদ সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদবীর রহ. কর্মপন্থার অনুসারী। তিনি বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মধ্যপন্থায় অবস্থান করতেন।

উগ্রবাদী বই হিসেবে অভিধা দিয়ে যেসব বইয়ের কথা প্রচার করা হলো, সেখানে আমার বইটির নাম থাকায় ব্যক্তিগতভাবে আমি আহত, ক্ষতিগ্রস্ত বোধ করছি।

-এটি

ads