fbpx
           
       
           
       
শিরোনাম :
একা কেন উপরে উঠব
জুন ০৬, ২০১৬ ১:২৭ অপরাহ্ণ

footoverরোকন রাইয়ান : উপড়ে উঠা সম্মানের। ব্যক্তি যত উপরে উঠে তার মর্যাদা তত বাড়ে। অন্যান্য সম্প্রদায় সবাইকে নিয়ে উঠার চেষ্টা করলেও বাঙালি চায় একা উপরে উঠতে। তবে একটা জায়গা শুধু ব্যতিক্রম। বাঙালি এখানে উপরে উঠতে চায় না। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন হতভাগ্য জায়গাটা কী? ওভারব্রিজ।

আমরা দেখে দেখে অভ্যস্তপ্রবণ। সবাই নিচ দিয়ে রাস্তা পাড় হচ্ছে দেখে ভাবি, একা একা ওভারব্রিজে গিয়ে লাভ কী। সুতরাং গাড়ির ফাঁক গলে দৌড়। দুয়েকজন যারাও ওভারব্রিজ ছাড়া রাস্তা পাড় হন না তারা নিচের মানুষ দেখে আফসোস করেন, ‘আহ অনেক সময় লস হইল।’

রাস্তা পারাপারের সুবিধার জন্য এসেছে ওভারব্রিজ। যাতে নিরাপদে সহজেই পাড় হতে পারে মানুষ। কিন্তু রাজধানীর ওভারব্রিজগুলো খুব একটা ব্যবহার হয় না। নির্দিষ্ট দুয়েকটি ছাড়া ওভারব্রিজে সাধারণত উঠে না কেউ। ফলে রাজধানীর অধিকাংশ ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস পড়ে থাকে অযতœ অবহেলায়। এসবে জায়গা করে নেয় টোকাই বা মাদকসেবীরা।

মাঝে মাঝে রাতের বেলায় ওভারব্রিজে উঠলে কারো কারো শুনতে হয় ‘স্যার লাগবে নাকি’।

জানা গেছে, রাজধানীতে ওভারব্রিজ আছে প্রায় ৫৪ টি। জনবহুল জায়গাগুলোতে বসানো হয়েছে এসব ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস। বিভিন্ন জায়গায় এমন ওভারব্রিজ স্থাপনের কাজও চলছে। এই সব ওভারব্রিজ তৈরি করতে ব্যয় হয় ৩৫ লক্ষ থকেে ১ কোটি টাকা। আর বনানীর এস্কেলেটর ওভারব্রিজ নির্মাণে ব্যায় হয়েছিল ১.৫০ কোটি টাকা। বিশাল পরিমাণ এ অংক ব্যায়ে ওভারব্রজি নির্মিত হলওে এগুলো ব্যবহার হচ্ছে শতকরা মাত্র ৮ থকেে ১৫ ভাগ। বাকি ৮৫ ভাগই থকেে যাচ্ছে অব্যবহৃত।

বিভিন্ন সময় প্রশাসন থেকে মানুষকে ওভারব্রিজ ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও কড়া আইনও পাশ হয়েছে। ওভারব্রিজ ব্যবহার না করায় গুনতে হয়েছে জরিমানাও। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নিয়মগুলো চালু থাকলে ওভারব্রিজ আছে এমন স্থানে মানুষ আর নিচ দিয়ে পারাপার হবে না। মানুষকে অভারব্রিজমুখী করতে ঢাকার বনানীতে প্রথম চালু করা হয়েছে এস্কেলেটর ওভারব্রিজ। সিঁড়ি বেয়ে উঠার কষ্ট লাঘবে বসানো হয়েছিল সেটি। এই ওভারব্রিজটি বেশ ভালোই ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে।

এই সব ওভারব্রিজ তৈরি করতে ব্যয় হয় ৩৫ লক্ষ থকেে ১ কোটি টাকা। আর বনানীর এস্কেলেটর ওভারব্রিজ নির্মাণে ব্যায় হয়েছিল ১.৫০ কোটি টাকা।

সনো সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকাররে আমলে ঢাকায় বিশৃঙ্খলভাবে রাস্তা পারাপারে ৫ টাকা জরিমানার বিধানও চালু করা হয়। কিন্তু তা চালু থাকেনি বেশিদিন।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা পল্টনে বায়তুল মোকাররমরে উত্তরেই আছে একটি ফুটওভারব্রিজ। দিন-রাত দ্রুতগতিতে চলছে গাড়ি। এর মধ্যইে নানা রকম কায়দা করে দৗেড়ে পার হতে দখো যায় পথচারীদরে। পাশইে নিরাপদে চলাচলের জন্য ফুটওভারব্রিজ থাকলেও কেন ব্যবহার করেন না জানতে চাইলে পথচারীরা লজ্জামাখা হাসি দিয়ে চলে যান।

দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের এসব ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা হতাশার কথা শোনান। একজন বলনে, ‘এত মানুষকে কিভাবে বাধ্য করব? মাঝমেধ্যে অভিযান চালানো হলওে সারাক্ষণ তো সম্ভব নয়। আমরা যান চলাচলরে শৃঙ্খলা দেখব, নাকি মানুষকে সামলাব।’

পথচারীদের এই হুজুগে আর অসাবধানতায় নাখোশ গাড়িচালকরাও। অনকে সময় সাধারণ পাবলিক রাস্তায় দৌড় দয়োর কারণে গাড়ির ব্রেক কষতে হয়। দ্রুতগতিতে চালানোর সময় চট করে সামনে কেউ পড়ে গলেে গাড়ি সামলানো একটা বরিাট চ্যালঞ্জেও হয়ে দাঁড়ায়। গাড়ি চালকদেরও দাবি, মানুষ যেন সচতেন হয় এবং ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার কর।

আওয়ার ইসলাম ২৪ ডটকম / আরআর

সর্বশেষ সব সংবাদ