fbpx
           
       
           
       
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি চাঙ্গা
জুন ০৫, ২০১৬ ৬:০৪ অপরাহ্ণ

us bank

ফয়জুল আল আমীন : রফতানিতে গতি বৃদ্ধির সুবাদে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে এখন সুসময় চলছে। চার বছরের মধ্যে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি ১ দশমিক ১ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। অর্থনীতির এ চিত্র প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকে আরেক দফা ক্ষমতার স্বাদ পাইয়ে দিতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন অনেকে। খবর ব-ুমবার্গ, বিবিসি ও সিনহুয়া।

অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অস্ট্রেলিয়ার জিডিপি ১ দশমিক ১ শতাংশ প্রসারিত হয়েছে। অথচ পূর্বাভাসে তা মাত্র দশমিক ৮ শতাংশ সম্প্রসারণ হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের সংশোধিত হিসাবে দেখা গেছে, সে সময় অর্থনীতি দশমিক ৭ শতাংশ সম্প্রসারণ হয়েছে। সূত্রমতে, আর্থিক ও খুচরা শিল্পের পাশাপাশি সেবাভিত্তিক শিল্পগুলোও প্রথম প্রান্তিকের জিডিপি সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৬০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলারে পৌঁছে; যা জিডিপি বৃদ্ধিতে ১ দশমিক ১ শতাংশ অবদান রাখে।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৬০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলারে পৌঁছে; যা জিডিপি বৃদ্ধিতে ১ দশমিক ১ শতাংশ অবদান রাখে।

জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অর্থনীতির ইতিবাচক চিত্র প্রধানমন্ত্রীর জন্য বেশ শক্তপোক্ত হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য কিছুদিন আগেও দেশটির অর্থনীতি নিয়ে এতটা ভালো কিছু প্রত্যাশা করা কঠিন ছিল। কারণ চীন থেকে চাহিদা কমে যাওয়ায় আকরিক লোহার দাম অনেক কমে যায়; যা অস্ট্রেলিয়ার সার্বিক রফতানিতে প্রভাব ফেলে। কিন্তু বর্তমানে দেশটির রফতানি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। প্রথম প্রান্তিকে অস্ট্রেলিয়ার রফতানি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেকারত্বের হারও আড়াই বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার রেকর্ড পরিমাণ কমিয়ে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশে নামিয়ে নিয়ে আসে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া তাদের অর্থনীতিকে খনিনির্ভরতা থেকে পর্যটন ও শিক্ষামুখী করতে চাইছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়াতেও উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী প্রচারণায় ‘প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান’কে মূলমন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। জোটের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তিনি। তার এ পরিকল্পনার অন্যতম অংশ কর কর্তনের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে প্রণোদনা দেয়া। অন্যদিকে তার প্রধান বিরোধী পক্ষ বিল শর্টেন স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় অধিক বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন।