197181

একান্ত সচিব সংস্কৃতিতে আসতে পারেন বিশিষ্ট আলেমরা

মোস্তফা ওয়াদুদ: তিনি দেশের একজন বিখ্যাত আলেম। ওয়াজের মাঠে সফল বক্তা। সম্প্রতি তিনি দেশের রাজনীতিতেও সরব। তার একেকটি বক্তৃতায় দেশের মানুষ উজ্জীবিত হোন। প্রেরণা পান। সত্যের পথ খুঁজে পান। তার কথায় যেনো সোনা ফলে। সারাদেশে তার অনেক সুনাম-সুখ্যাতি।

একদিন একটি মিডিয়া হাউজ কিংবা গণ মাধ্যম থেকে তাকে ফোন করা হলো। ফোন রিসিভ করলে জানতে চাওয়া হলো, আপনি কি অমুক দলের মুহতারাম সভাপতি বলছেন? কিংবা আপনি কী দেশসেরা অমুক ব্যক্তি? ওপাশ থেকে জবাবা এলো, না ভাই! আমি তার খাদেম। সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা! এ বিষয়ে আপনি কি আমাকে কিছু জানাতে পারেন? খাদেম বললেন, না ভাই!

যেভাবে শুকনো গলায় তিনি জবাব দিয়েছেন তাতে সাংবাদিক বেচারা যে আশা নিয়ে ফোন করেছিলেন সে আশায় গুড়েবালি পড়েছে। তিনি হতাশ হয়ে ফোন রেখে দেন।

এটি একটি একটি কাল্পনিক ঘটনা। কিন্তু এমনটা যে হয় না তা জোড় করে বলার মতো লোক এদেশে এখনো নেই। আমাদের আলেমগণ যারা বিশিষ্ট কিংবা দলের প্রধান কিংবা শিক্ষা সংস্কৃতি বা সমাজ সেবা নিয়ে কাজ করে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন সময়ের উঁচুতে। তাদের জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণ ও বিশস্ত সহযোগীর। প্রয়োজন তার পাশে ছায়ার মতো লেগে থাকার একজন একান্ত সচিব। তবে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ায়েজ বা রাজনৈতিক দলের নেতারা একান্ত সচিবের সুফল ভোগ করছেন। তাদের কাজের সহযোগিতার জন্য অফিসিয়াল কিংবা নন অফিসিয়াল দায়িত্বরত একান্ত সচিব আছেন।

খাদেম নির্ভর নয় একান্ত সচিব সংস্কৃতি কোনটা প্রয়োজন? জানতে চেয়েছিলাম, দেশের খ্যাতিমান আলেম ড. আ. ফ ম খালিদ হোসেনের কাছে। তিনি বলেন, মানুষ যখন বিখ্যাত হয়ে যায়, তখন তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তাই তারা আর নিজের উপর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। তার জন্য একজন খাদেমের অবশ্যই প্রয়োজন হয়। তাই তিনি খাদেম রাখতেই পারেন। তবে এ খাদেম যিনি হবেন তাকে হতে হবে দায়িত্বশীল। আর দায়িত্বশীল খাদেম হতে হলে তাকে বেতনভূক্ত করতে হবে। না হয় গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যক্তি ফোন দিলে তিনি ততটা সচেতনতার সাথে তার কথার জবাব দিতে পারবেন না। এটাকে আমরা ব্যক্তিগত একান্ত সচিব বলতে পারি। অথবা ইংরেজিতে যাকে বলা হয় পিএস বা প্রাইভেট এ্যাসিস্ট্যান্ট।

বর্তমানে দেশের সকল আলেমের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব না হলেও অন্তত যারা বিখ্যাত আলেম আছেন কিংবা দেশের রাজনীতির বড় কোনো দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন তাদের জন্য এই ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএস নিয়োগ দেয়া একান্ত জরুরি বলে আমি মনে করি। তাছাড়া মিডিয়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিশিষ্ট আলেম, রাজনৈতিক দলের বড় নেতা কিংবা সমাজের দায়িত্বশীল আলেমগণ তাদের মতামত বক্তব্যকে যথা নিয়মে প্রচার প্রকাশের জন্য একজন তথ্য কর্মকর্তাও নিয়োগ দিতে পারেন।

একই বিষয়ে কথা বলেছিলাম দেশের বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ও জাগ্রত কবি মুহিব খান এর সঙ্গে । তিনি বলেন, এটাতো শুধু আলেমরাই নন। দেশের যে কোনো ব্যস্ত মানুষ বা যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ লোক তার প্রয়োজন মোতাবেক ব্যক্তিগত সহকারী নিয়োগ করতে পারেন। এটাকে বলা যেতে পারে পিএ বা পিএস। প্রাইভেট এ্যাসিস্ট্যান্ট বা প্রাইভেট সেক্রেটারী।

আর যদি এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিজেই নিজের কাজ সমাধান করে নিতে পারেন তাহলে সবচেয়ে ভালো। কিন্তু যদি তিনি নিজে সব কাজের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে সহকারী সচিব নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।

এ সহকারী সচিব যিনি হবেন তিনি কি বেতনভূক্ত হবেন নাকি বেতন ছাড়া খাদেমের মতো হবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কবি মুহিব খান বলেন, বেতন প্রসঙ্গটি আমি তুলছি না। এখানে আসলে বেতনা বড় বিষয় না। যিনি সেবক হবেন তিনি স্বেচ্ছাসেবকও হতে পারেন আবার পারিশ্রমিকের বিনিময়েও সেবক হতে পারেন। এটা তার নিজস্ব ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে তিনি কিভাবে তার সেবক হবেন? যেমন কেউ যদি বলেন যে, আমি সাথে বেতন ছাড়াই কাজ করবো তাহলে কোনো সমস্যাতো নেই। আসলে বেতনের প্রসঙ্গটি আমি আনতে চাচ্ছি না। এখানে দায়িত্ব পালনের জন্য যে যোগ্যতা দরকার সেটাই হলো মূখ্য বিষয়।

কেননা যিনি সেবক হবেন, তার যদি শুধুই সেবা করার যোগ্যতা থাকে। কিন্তু পাবলিক জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) বা একান্ত ব্যক্তিগত সহকারীর পূর্ণ যোগ্যতা না থাকে আর তাকে দিয়ে সচিবের কাজ নেয়া হয় তাহলে বিভ্রান্তি বা ঝামেলার সৃষ্টি হতে পারে বলে আমি মনে করি।

-এএ

Please follow and like us:
error1
Tweet 20
fb-share-icon20

ad