196447

মাদানী নেসাবের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান: মাহাদুল কুরআন মাদরাসা

আওয়ার ইসলাম: রাজধানীর আমিনবাজারের মধুমতি হাউজিংয়ে অবস্থিত মাদানী নেসাবের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান মা’হাদুল কুরআন মাদরাসা। পড়াশোনাকেই মূল লক্ষ্য বানিয়ে স্থানীয় নান্দনিক একটি বিলাসবহুল ভবনে মাদানী নেসাবের প্রথম থেকে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত চালু করা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে।

দক্ষ শিক্ষক ও পড়াশোনার সহায়ক পরিবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষার্থীদের সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে মা’হাদুল কুরআন মাদরাসা।

প্রতিষ্ঠানটি আমলিয়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করবে। তাদের দাবি, দীনি পড়াশোনার প্রকাশ হয় আমলি জিন্দেগীর মাধ্যমে। আমলি জিন্দেগীতে অভ্যস্ত হওয়ার লক্ষে প্রতিষ্ঠানিভাবে থাকবে জিকির-আজকার, তসবি-তাহলীল, দোয়া-মোনাজাত, গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসহ নফল ইবাদাতের পবিত্র পরিবেশ। সেই সঙ্গে থাকবে ইসলাহী বয়ান ও তারবিয়াতি জলসা।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক করে গড়ে তুলতেও তাদের থাকবে স্বতন্ত্র প্রয়াস। প্রতিষ্ঠানের চিন্তা হচ্ছে- জীবন চলার পথে সবার সামাজিকতাবোধ সমান নয়। আয়োজন করে শেখানো হয় না বলে প্রায় মানুষের সামাজিকতাবোধের অভাব থাকে। অথচ একটি সুন্দর জীবন যাপনের জন্য এই গুণটির খুবই প্রয়োজন। এর সঙ্গে আবার ওতপ্রোতোভাবে জড়িয়ে আছে সুন্দর আচার ব্যবহার। ব্যক্তি জীবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকও এটি। সামাজিকতা এমনই এক গুণ, যার কারণে শত্ররাও সম্মান করতে বাধ্য। তাদের চেষ্টা থাকবে, ছেলেরা যেন বেড়ে ওঠে সমাজ-ঘনিষ্ঠ আদর্শ পুরুষ হিসেবে।

রুচিশীলতা ও স্মার্টনেসে থকবে আলাদা গুরুত্ব। মাদরাসা কতৃপক্ষের বিশ্বাস- ব্যক্তিত্বহীন মানুষের দাম নেই সমাজে। সুশিক্ষার পাশাপাশি রুচিশীলতা এবং স্মার্টনেস থাকলে ব্যক্তির মাঝে ঘটে ব্যক্তিত্বের সর্বোচ্চ প্রকাশ।

জীবনের এই সুন্দর দিকগুলো আয়ত্ত করে ছাত্ররা যেন পরিশীলিত জীবন গঠন করতে পারে। সে লক্ষে মা’হাদুল কুরআন মাদরাসার রয়েছে আলাদা প্রয়াস।

তা ছাড়া আবাসনের সুন্দর-অসুন্দর ব্যবস্থাপনার ব্যাপারটাও পড়াশোনার উপর প্রভাব ফেলে। সেইসঙ্গে সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠলে মন-মানসিকতাও উন্নত হয়, সেজন্য আয়োজন করা হয়েছে অতি উন্নত মানের আবাসন ব্যবস্থাপনা।

পড়াশোনার পরে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেয়- তা হল, খাবার-দাবার। তাদের জন্য জরুরি হলো রুচিসম্মত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানসম্মত খাবারের রুটিন ঠিক রাখতে প্রতিষ্ঠানটি বদ্ধপরিকর। বিকালে থাকবে হালকা নাস্তার ব্যবস্থা।

আবাসিক প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকলে ছাত্রদের জীবন-গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ কারণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় রয়েছে মাদরাসার সর্বোচ্চ সতর্কতা। বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি রয়েছে ভেতরগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা। এই সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ছাত্রদেরকে প্রদান করা হবে নতুন নতুন ব্রাশ/মেসওয়াক। একটা ব্রাশ একমাসের বেশি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এটা আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস৷ ভবিষ্যতে সাধ্যের সীমানা আরো বিস্তৃত হলে আরো অনেক কিছুই করার ইচ্ছা আছে তাদের।

মেধা বিকাশের জন্য দুধের কোনো তুলনা হয় না। ছাত্রদের মেধা বিকাশের লক্ষে সপ্তাহে অন্তত তিন চার দিন চেষ্টা করা হবে দুধ পরিবেশন করতে। সাধ তো অনেক, সাধ্যের সীমানা তো স্বল্প। আল্লাহ তাআলা যখন সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে দিবেন তখন নবীজির এই মেহমানদের যথাসাধ্য ইকরাম করা হবে মা’হাদুল কুরআনে।

লক্ষাধিক গাছগাছালি দিয়ে সাজানো নান্দনিক (মধুমতি) হাউজিং। প্রকৃতি সেজেছে সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে। সবুজ প্রকৃতির মাঝে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন বাড়িঘর। বাড়িগুলোও যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেছে। ছোট্ট নদীমতো রয়েছে একটি পানির ধারা। তার উপর সুন্দর একটি ব্রিজ।

প্রতিষ্ঠানের সবচে আকর্ষণীয় দিক হাউজিংয়ের পরিবেশ। ভর্তি হওয়া না-হওয়া ভিন্ন ব্যাপার, অন্তত কোনো এক বিকেলে হাউজিংয়ের ব্রিজে ঘুরতে আসার দাওয়াত রইলো। সেইসঙ্গে দেখে যাবেন এই প্রতিষ্ঠান।

ভর্তিতথ্য
২৩ আগষ্ট, রবিবার থেকে কোটা পূরণ সাপেক্ষে ভর্তি চলবে।

তথ্যাবলী
ফরম ১০০। ভর্তি ফি ২,০০০। মাসিক প্রদেয় ২,৫০০। আয়োজনের মান ও পরিমাণের তুলনায় ছাত্রদের খরচের পরিমাণটা কম। তাদের পড়াশোনার পথটা মসৃণ হোক, সেই কামনায়।

যোগাযোগ- মাওলানা আমিনুল ইসলাম- ০১৮২৬৬৪৯৫৮৫, মাওলানা মিসবাহ উদ্দিন জামিল ০১৯৯৪৫৪৭৫৭৫।

যাতায়াত

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঢাকার গাবতলী এসে ,সাভার রোডে বলিয়ারপুর স্ট্যান্ড। অথবা সাভার হেমায়েতপুর এসে, গাবতলী রোডে বলিয়ারপুর স্ট্যান্ড নেমে রিকশাযোগে মধুমতি মডেল টাউন/ নান্দনিক হাউজিং। মধুমতি নান্দনিক হাউজিংয়ের গেটে প্রবেশ করে বামদিকের প্রথম গলিতে মাহাদুল কোরআনের কাচঘেরা নীল-সাদা ভবন।

-এটি

Please follow and like us:
error1
Tweet 20
fb-share-icon20

ad