193785

ইসলাম প্রবেশের ৫১০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বসনিয়ায় সপ্তাহব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান

বেলায়েত হুসাইন: ইসলাম প্রবেশের ৫১০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইউরোপের দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় উদযাপিত হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। গত ২৬ জুন দেশটির প্রসাজ অঞ্চলের বিস্তৃত একটি খোলা মাঠে ‘আইওয়াজ দাদা’ নামের এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়েছে।

জানা যায়, স্থানীয় বেকতাশি রীতির অনুসারীদের দরবেশ ‘আইওয়াজ দাদা’র হাত ধরে ৫১০ বছর আগে বসনিয়ায় ইসলামধর্ম প্রবেশ করে। তিনি যখন তুরস্কের আনাতোলিয়া থেকে এখানে আগমন করেন তখন প্রচন্ড খরায় দেশটিতে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ চলছিল- এসময় আইওয়াজ দাদা টানা ৪০ চল্লিশ দিন ইবাদত- বন্দেগি করেন।

ঐতিহাসিকদের মতে, তার এই ইবাদত ও দোয়ার ওসিলায়ই মহান আল্লাহ তায়ালা পাহাড় থেকে একটি মিষ্টি পানির ঝর্ণা জমিনের দিকে নামিয়ে দেন। অতঃপর ঝর্ণার পানিতেই বসনিয়ার জমিন আবার ফুলে-ফসলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সেই সময়ের বসনিয়াবাসী আইওয়াজ দাদার এই ঘটনাটিকে মহা কারামতি বলে বিশ্বাস করেন এবং তার নিকট কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে যান।

এজন্যই আইওয়াজ দাদার স্মরণে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে দেশটির একটি বড় সংখ্যক মুসলমানেরা ধর্মীয় আলোচনা নামাজ ও জিকির আজকারের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানটি উদযাপন করেন। উৎসবের দিক থেকে দুই ঈদের পরে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় এটিকে তৃতীয়তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিবেচনা করা হয়।

সদ্য শেষ হওয়া এ বছরের অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল- দেশের নানা প্রান্ত থেকে আগত অন্তত ২৪৪ জন ঘোড়সওয়ার।

অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া আঞ্চলিক মুফতি এবং আয়োজক কমিটির প্রধান শায়েখ আহমাদ আদিল বলেন, সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মানে প্রতিটি নাগরিকের তাদের অতীত এবং ইতিহাসকে সম্মান জানানো উচিত- সেই অনুভূতি থেকেই এই আয়োজন।

উল্লেখ্য, ৫১ হাজার ১৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ৩.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যা বিশিষ্ট বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের একটি মুসলিম রাষ্ট্র। দেশটির উত্তর-পশ্চিমে ক্রোয়েশিয়া, পূর্বে সার্বিয়া, দক্ষিণ-পূর্বে মেসিডোনিয়া, দক্ষিণে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর। এর রাজধানী সারায়েভো।

১৯৭১ সাল নাগাদ বসনিয়ায় মুসলমানরা একক বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করত। পরবর্তী দুই দশকে, অসংখ্য সার্ব আর ক্রোয়াট বসনিয়ায় অভিবাসিত হন। এর ফলে ১৯৯১- এর এক আদমশুমারিতে দেখা যায়, বসনিয়ার ৪০ লাখ বাসিন্দার ৪৪ শতাংশ বসনিয়ান, ৩১ শতাংশ সার্ব, আর ১৭ শতাংশ ক্রোয়াট। সূত্র: আনাদুলু ও আল জাজিরা

-এএ

ad