193374

‘শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে পদক্ষেপ না নিলে গভীর মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে’

আওয়ার ইসলাম: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে বহু শ্রমিক বেতন না পেয়ে, চাকুরি হারিয়ে অত্যন্ত মানবেতর সঙ্কটে আছেন। শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে মালিকপক্ষের একটা অংশ যেমন মানবিক আচরণ করছেন না, তেমনি শ্রমিকদের প্রতি সরকারি সহযোগিতাও চোখে পড়ছে না। এ ব্যাপারে আশু পদক্ষেপ না নিলে গভীর মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের তিন মাসের বেতনের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়ার কথা পত্রিকায় এসেছে। কিন্তু শ্রমিকদেরকে এর সুফল পেতে দেখা যায়নি। বরং কিছু কিছু মালিকপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে গণহারে শ্রমিক ছাঁটাই করছে এবং অনেক শ্রমিক গত দুই-তিন মাস যাবত বেতন পাচ্ছে না। কারখানা চালু বা বেতন পাওয়ার আশায় এসব শ্রমিক কয়েক মাস ধরে ধার-দেনা ও খেয়ে-না খেয়ে বহু কষ্টে দিন গুজরান করছে। বিজিএমইএ সভাপতি তার সংগঠনের অধিনস্থ গার্মেন্টসমূহ থেকে গত মাসে ২৫ হাজার কর্মী চাকরি হারানোর কথা স্বীকার করেছেন এবং আগামী ছয় মাসে এই সংখ্যা ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলেছেন।

আল্লামা কাসেমী বলেন, দেশে বিপুল শ্রমজীবী মানুষ ও ঘন বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার কিছু সুবিধাবাদি মালিক যখন-তখন কারখানা বন্ধ ও চালু করেন, কম বেতন দিতে লে-অফ করেন এবং যখন-তখন শ্রমিক ছাঁটাই ও নিয়োগ দেন। শিল্পকারখানার মালিকরা বছরের পর বছর শ্রমিকদেরকে দিয়ে ব্যবসা করেছেন, অনেকে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন- এটা ভুলে গেলে তো হয় না। তবে এটাও ঠিক মালিক পক্ষের একটা অংশও টিকে থাকার সংগ্রাম করতে গিয়ে দিন দিন নি:স্ব হয়ে পড়ছেন।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী শিল্প-কারখানার মালিকপক্ষের প্রতি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- ‘শ্রমিককে তার কাজ হতে অংশ দান কর। কারণ, আল্লাহর শ্রমিককে বঞ্চিত করা যায় না’। তিনি আরো বলেছেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ কর’। হযরত ওমর রাযি. বলেছেন, ‘যৌবনকালে যে ব্যক্তি শ্রম দিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের খেদমত করেছেন, বৃদ্ধকালে সরকার তার হাতে ভিক্ষার ঝুলি তুলে দিতে পারে না’।

জমিয়ত মহাসচিব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, লাখ লাখ শ্রমিক পরিবারকে রাষ্ট্রে অভিভাকত্বহীন করে রাখবেন না। মালিক ও শ্রমিকদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যেসব গার্মেন্ট মালিক বাস্তবিকই টিকে থাকার সংগ্রাম ও অর্থসংকটে আছেন, তাদেরকে যেমন সহযোগিতা করতে হবে, তেমনি সঙ্কটে থাকা শ্রমিকদের মাঝেও মানবিক সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াতে হবে।

-এএ

ads