191408

আল্লামা ডক্টর খালেদ মাহমুদ রহ. ছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য আলেম দীন

তৈয়ব উল্লাহ নাসিম।।

আল্লামা ডক্টর খালেদ মাহমুদ পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে একজন সফল বিতার্কিক, লেখক, গবেষক, মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক।

গুজরাঁওয়ালা শহরে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াশোনার জন্য গমন করেন। এবং বিখ্যাত সব আলেমদের সংস্পর্শে এসে তাঁদের কাছ থেকে ইলমে দ্বীন হাসিল করেন। তাঁর উস্তাদদের মধ্যে হযরত মাওলানা সুলাইমান নদভী, হযরত মাওলানা খায়ের মোহাম্মদ জলন্ধরি, মুফতি মোহাম্মদ শফী, হযরত মাওলানা ইদ্রিস কান্ধলভী প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

তিনি তানজিমে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতে যোগদানের পূর্বে শিয়ালকোটের ম্যারে কলেজের অধ্যাপক ছিলেন এবং “দাওয়াত” ম্যাগাজিনেও লেখালেখি করেছেন। ১৯৬৬ সালে আল্লামা খালিদ মাহমুদ প্রথম ব্রিটেনে গমন করেন এবং এজবাস্টনের স্পিডওয়েল রোডে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের প্রথম ইমামদের মধ্যে একজন ছিলেন, এবং বার্মিংহাম কেন্দ্রীয় মসজিদের কার্যক্রমের সাথে ও কিছুটা জড়িত ছিলেন।

এসময়ই তিনি বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭০ সালে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর পিএইচডি অর্জন করেন। এর পর তিনি ম্যানচেস্টারে চলে আসেন এবং ম্যানচেস্টারের প্রসিদ্ধ “ম্যানচেস্টার ইসলামিক একাডেমি” ও দারুল উলুম বুরী প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের শরীয়া আপিল বেঞ্চের সিনিয়র সদস্য ছিলেন এবং মুনাযির ও বিতার্কিক হিসেবে বিশ্বখ্যাত ছিলেন। তিনি বহু বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ব্যক্তিত্বের সাথে বিতর্ক করেছিলেন এবং জানা যায় যে, আশ্চর্যজনকভাবে তিনি মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর প্রথম বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন তাঁর দাদার বয়সী একজন সিনিয়র কাদিয়ানী আলেমের সঙ্গে! তিনি লখনুতে শিয়াদের স্বীকৃত দাপ্তরিক মুজতাহিদদের সাথেও বিতর্ক করেছিলেন, এবং আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের অন্যতম আলেম মাওলানা নাজির হোসেনের প্রবীণ ছাত্রদের সাথেও তিনি বিতর্ক করেছিলেন। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের শেফিল্ডে সিনিয়র বেরেলভি স্কলারদের বিরুদ্ধে বিতর্কে তাঁর বিখ্যাত বিজয়ও উল্লেখযোগ্য।

আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ বুখারী রাহিমাহুল্লাহ’র একটি প্রসিদ্ধ বক্তব্য এমন আছে, তিনি বলেন, যদি কোন ফিতনা আসরের পর মাথাচাড়া দিয়ে উঠে, তাহলে মাগরিবের পর তাদেরকে আল্লামা খালেদ মাহমুদের সাথে মোনাযারা বা বিতর্কে বসিয়ে দাও এবং সে ফিতনা ঐ বিতর্কেই পরাজয় বরণ করে চাপা পড়ে যাবে!
পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ মাদ্রাসা, জামিয়া আশরাফিয়ায় শায়খুল হাদিস হিসেবেও তিনি দরস দিয়েছেন।

আল্লামা খালিদ মাহমুদ তার অনন্য অন্তর্দৃষ্টি, ক্ষুর ধারালো মেধা এবং তীক্ষ্ণবুদ্ধির জন্য খ্যাতি পেয়েছিলেন। অনেকেই জানেন না যে, আল্লাহ তাঁকে ফটোগ্রাফিক স্মৃতিও দিয়েছিলেন তিনি দারুল উলূমে তাঁর পুরো সময়কালে কোনো নোট নেননি। এমনকি তার শেষের বছরগুলিতে, তিনি একবার বলেছিলেন যে, কিছু কিছু লেকচার তার কানে প্রবেশ করার সাথে সাথেই এমনভাবে মনে গেঁথে যেত, তিনি তা আর কখনোই ভুলতেন না।

তিনি তার জীবনে একশরও অধিক কালজয়ী গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত, বেরেলভীয়ত ইত্যাদি বিষয়ে দীর্ঘ রচনা রয়েছে তাঁর। প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সমূহের মধ্যে আছারুত্তানজীল, আছারুল হাদিস, আছারুত্তাশরী’, খোলাফায়ে রাশেদীন, মুতালাআয়ে বেরেলভী (যা আট খণ্ডে সমাপ্ত) উল্লেখযোগ্য।

এই মহান পন্ডিত, বিশ্ববরেণ্য আলেমেদ্বীন গত ১৪ মে বৃটেনের ম্যানচেস্টার শহরে ৯০ বছর বয়সে ইহকাল ত্যাগ করেন। আল্লাহতাআলা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন।

-এটি

ad