188676

সাইয়েদ কুতুব: বিংশ শতাব্দীর মিসরি চিন্তানায়কের ভাবালুতার দর্শন

জাবির মাহমুদ।।

আজ ইসলাম ও তার প্রয়োগ-পদ্ধতি হয় বিস্মৃত নয় তো ভুল উপলব্ধির শিকার। এই বিস্মৃতি অথবা ভুল উপলব্ধির থেকে এর মৌলিক প্রকৃতি, ঐতিহাসিক সত্যতা, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে সৃষ্টি হয় অনেক বিভ্রান্তি। অবতীর্ণ জীবন বিধান হওয়ার কারণে কেউ কেউ আশা করেন, ইসলাম মানব জীবনে অসাধারণ ও অলৌকিক কোন পন্থায় বাস্তবায়িত হবে, তাদের এই আশা মানব-প্রকৃতি, মানুষের শক্তি-সামর্থ্য ও বস্তুগত বাস্তবতার প্রতি শ্রদ্ধাহীন। অবশ্য তারা দেখতে পাচ্ছেন, এই নিয়মে ইসলাম বাস্তবায়িত হয়ে যাচ্ছে না। বস্তুগত বাস্তবতা এবং মানব-প্রকৃতি এর মুকাবিলা করছে।

কোনো কোনো সময় এই দু’টো জিনিস দ্বীন দ্বারা প্রভূতভাবে প্রভাবিত হয়। আবার কোন কোন সময় এগুলো ঈমানের বিপরীত দিকে চলে মানুষের প্রবৃত্তি ও দুর্বলতাকে চাংগা করে তোলে। ঈমানের ডাকে সাড়া দিতে মানুষকে বাঁধা দেয়। ঈমানের পথে এগুতে মানুষকে করে নিরুৎসাহিত।

এই অবস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ অনভিপ্রেত হতাশায় নিপতিত হয় এবং দান-ভিত্তিক জীবনযাত্রার সম্ভাব্যতার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। এমনকি দ্বীন সম্পর্কেও তাদের মনে একটা সংশয় সৃষ্টি হয়ে যায়। এ থেকে বুঝা গেল, একটা মৌলিক ভুল থেকেই ভুলের একটা প্রবাহ সৃষ্টি হয়। আর সেই ভুলটি হলো ইসলামকে এবং তার প্রয়োগ-পদ্ধতিকে সঠিকভাবে না বুঝা অথবা এই সোজা ও মৌলিক সত্যটিকে উপেক্ষা করা। (১)

বলছিলেন সাইয়েদ কুতুব। বিংশ শতাব্দীর এক কৃতী মিশরী। বান্নাত্তীর্ণকালে ইখওয়ানের প্রধান আহবায়ক। ‘জামাতুল ইখওয়ান আল-মুসলিমীন’ পত্রিকার সম্পাদক। আপন শতাব্দীর চিন্তানায়কদের অগ্রপথিক। সমকালের ইসলাম প্রতিষ্ঠাকামীদের নেতা। ভাবুক ও পুরোধা ব্যক্তিত্ব। যার জীবনের পড়ন্ত দুপুর কেটেছে, এমনতরো হীরন্মক চিন্তামগ্নতায়। বন্দীশালায়।

অবর্ণনীয় কারাজীবন তার ভাবুক মনে বেড়ি পড়াতে পারেনি। কারাবন্দী অবস্থায়ই দু’হাতে ছড়িয়েছেন স্বপ্ন। এঁকেছেন কালজয়ী আদর্শ ইসলামের সংগ্রামী ছক। ইসলামী জীবনব্যবস্থা ঐশ্বরিক বলে যারা মানব জীবনে তার অসাধারণ ও অলৌকিক কোন পন্থায় বাস্তবায়নের আশাবাদি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তার প্রয়োগে নারাজ। তাদেরকে তিনি দেখান সঙ্গায়িত ইসলামের বিশ্লেষণী রূপরেখা—প্রকৃত শাহাদাতের ধরণ।

“আসলে ইসলাম কি? ইসলামের প্রথম স্তম্ভ সাক্ষ্যদান। আমরা সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বার্তাবহ। এই সাক্ষ্যদানের মোটামুটি অর্থ: আল্লাহ ইলাহ হওয়ার সকল গুণের মালিক। কোনো সৃষ্টি তার গুণাবলির অংশীদার নয়। তিনি সার্বভৌম। তিনি তার বান্দাদের জন্য আইন প্রদান, পথ-নির্দেশ প্রেরণ এবং তাদের জন্য মূল্যমান নির্ধারণের অধিকারী। জীবন বিধান প্রদানের অধিকার আল্লাহর— একথা উপলব্ধি না করে এবং মানব জীবনে অবতীর্ণ জীবন বিধান প্রয়োগের প্রচেষ্টা না চালিয়ে ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’ এই কথার প্রকৃত সাক্ষ্যদান অসম্ভব। (২)

ইসলামের মুকাবেলায় মানবরচিত সব বাসনা, দুর্বলতা ও স্বার্থপরতাস্বর্বস্য সংবিধানকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে জগদ্বাসীদের সম্মুখে খুলে দেন এক নয়া সংবিধান। শাশ্বত ঐশ্বরিক ইশতেহার। যে সংবিধান শোনায় মানুষকে প্রকৃত মর্যাদার গল্প। আজাদীর পয়গাম। গোলামীর শৃঙ্খলমুক্ত হবার স্বপ্নে মানুষ বুক বাঁধে। মানবতার গন্ডিতে দাঁড়িয়ে মহামহিমের আনুগত্যে পায় প্রকৃত স্বাধীনতার আস্বাদ। এমন বৈশিষ্ট্যমন্ডিত জীবন বিধান পৃথিবীর মানুষ কোনোদিন দেখেনি। কিভাবেই-বা মানবরচিত সংবিধান এমন বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হতে পারে—

একজন শাসক অথবা শাসক-পরিবার, সম্প্রদায় বা জাতি কর্তৃক রচিত কোন বিধি-বিধান তার বা তাদের কামনা-বাসনা দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পরে না। আল্লাহর প্রণীত আইনের এই দোষ নেই। তাই এই আইনের দ্বারা মানব জীবন শাসিত হলে সত্যিকার অর্থে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। মানবরচিত মতবাদ দ্বারা কোনোদিন তা লাভ করা সম্ভব নয়। মানবরচিত মতবাদগুলো হয় স্বার্থপরতা দ্বারা দুষ্ট হবে, নয় মানবিক দুর্বলতা দ্বারা আক্রান্ত হবে। এই ত্রুটি থেকে এগুলোকে পরিশুদ্ধ রাখার কোনো উপায় নেই। (৩)

তার এই বয়ানের পরই মুসলিমদের দিকে ধেয়ে আসে এক চতুর্মুখী জিজ্ঞাসা। ন্যায়-বিচারের এই নির্দেশ মুসলিম জাতি পালন করবে তার কোন গ্যারান্টি আছে? বাগ্মী কুতুবের ক্ষুরধার মননের রোশনাই ফের ঝলকিত হয়—

তারা জানে যদি তারা আল্লাহর পথ থেকে দূরে সরে পড়ে তাহলে আল্লাহ তাদেরকে সুনজরে দেখবেন না। মুসলিম জাতির অস্তিত্বই একটা বড় গ্যারান্টি। এই জাতি কতগুলো প্রত্যয়-বিশ্বাসের ওপর গড়ে উঠেছে। আল্লাহর নির্দেশ পালনকে তারা কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করে। এই নির্দেশের অবজ্ঞা ও অবহেলা তাদের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনে। এই কথায় তারা বিশ্বাসী। আর সেই কারণেই, মুসলিম জাতি ন্যায়বিচার কায়েম করতে বাধ্য।” (৪)

মানবরচিত সংবিধান ও খোদায়ী সংবিধানের মাঝে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ বোদ্ধাদের আস্বস্ত করে। মানবমনে একটা আসন পোক্ত হয় তার। মমতার সাথে জাতির বিবেকের দোয়ারে খালিক প্রভুর চেয়ে অগ্রসর হয়ে মানুষের স্বজাতির প্রতি সংবিধান প্রণয়নের হাকিকি যোগ্যতার ব্যাপারে প্রশ্ন রাখেন তিনি। ভাবুক কুতুবের খোদা-প্রদেয় প্রজ্ঞার স্ফূরণ দেখে ফের বিশ্বের মানুষ। বিংশ শতাব্দীর পৃথিবী—

এই কাজ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ অনুধাবনের জন্য তো প্রয়োজন মানব জীবনের অতীতের জ্ঞান, বর্তমান-ভবিষ্যতের সুস্পষ্ট অবগতি এবং পারিপার্শ্বিকতার পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জ্ঞান, এই জ্ঞান মানুষ অর্জন করতে পারেনি, পারবেও না। দৃশ্যমান জগত এবং অভিজ্ঞতার বিচার-বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সে হিমশিম খায়। মানুষের প্রকৃতি এমন যে এই কাজ তার পক্ষে দুঃসাধ্য। এর সাথে তো আছে প্রবৃত্তি ও মানবিক দুর্বলতার রশিটানা। তাই মানুষের জন্য নির্ভুল ও যথোপযুক্ত জীবন বিধান প্রণয়ন মানুষের সাধ্যাতীত। আল্লাহ বলেন: “সত্য যদি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতো আসমান ও পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতো।”
“আমি তোমাদের জন্য বিধান দিয়েছি। একে অনুসরণ কর এবং জ্ঞানহীনদের আন্দাজ ও কল্পনা অনুসরণ কোরোনা।”
পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অভাবে আন্দাজ অনুমান ভর করেই মানুষকে জীবন বিধান রচনা করতে হয়। এই কাজ মানুষের জন্য নয়।” (৫)

ইসলামী জীবনব্যবস্থা-সংবিধান-মতবাদ সামগ্রিকভাবে মানবজাতির জন্য একটা ব্যবস্থা দিয়েছে। যেটা খোদ তাদেরই স্রষ্টা কর্তৃক প্রণীত। মানুষের মন-মনন তার গতি-প্রকৃতি, এমনকি প্রবৃত্তির সার্বিক হালচাল সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ ওয়াকিবহাল। এই সংবিধান তাই মানুষের জীবনের সাথে শতভাগ সাযুজ্যপূর্ণ। সম্পূর্ণই নির্ভুল। নির্মোহ, নিঃস্বার্থ এক মজবুত বুনিয়াদ—

অস্তিত্বের সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ যেই বিধানে নেই তা অপূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিযুক্ত। সেই ব্যবস্থা স্বাভাবিক নয়। তার আয়ুষ্কালও দীর্ঘ হতে পারে না। যতদিন ওটা পৃথিবীতে বেঁচে থাকে, ততদিন অকল্যাণের উৎস হিসেবেই বেঁচে থাকে। মনব প্রকৃতি তাকে ধ্বংস না করে দেয়া পর্যন্ত সে অকল্যাণের বিষবাষ্প ছড়াতে থাকে। সামগ্রিক অস্তিত্ব সম্পর্কে ইসলামের বক্তব্য নির্ভুল। কেননা গোটা জগতের স্রষ্টার কাছ থেকেই এসেছে ইসলাম। তিনি মানুষের স্রষ্টা। মানব প্রকৃতির স্রষ্টা। বিশ্ব-জগত, তার মাঝে মানুষের পজিশন এবং মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য বিশ্লেষণকারী অন্যান্য সব মতবাদ খুঁতযুক্ত। বিশ্ব-জগত মানুষের তুলনায় অনেক বড় এবং মানুষ তার সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে অক্ষম। মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্যের ব্যাখ্যা দিতে হলেও মানুষের স্রষ্টা এবং তার ইচ্ছা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এই ব্যাখ্যা দিতে হলে নিজে সব ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে অবস্থান করতে হবে। মানুষের পক্ষে তা কোনোদিনই সম্ভব নয়। (৬)

ইসলামী জীবনব্যবস্থা বা সংবিধান জগতের সামগ্রিক পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যশীল। স্রেফ এ কারণে হলেও মানুষ মাত্রেরই প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ পথে কদম বাড়ানো কাম্য। অন্যথায় প্রকৃতির সাথে মানব-প্রাণের, জীবনের, বৈরিতার যে অপর দিক রয়েছে, যেটা জীবনের সাথে সাংঘর্ষিকও বটে— তার থেকে সংঘাত এড়াবার কোন পথ নেই। প্রকৃতির সাথে জীবনের অভিন্ন পথে চলাই খুলে দেয় জগতের বহু রহস্যজট। পৃথিবীর বুকে জীবন সঞ্চালনের জন্য যেগুলো প্রার্থিত।

তাছাড়া মানবজীবনের সাথে প্রকৃতিরও রয়েছে অদ্ভূত সন্ধি। প্রগাঢ় মিল। এই মিল, সন্ধি খোদায়ী। ইসলামী জীবনব্যবস্থাটাও তারই প্রণীত। চির শান্তি, মুক্তি, কল্যাণ এ পথেই। এতদভিন্ন পথ অবলম্বনে একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতা যুগও তার পতন রোধ করতে পারবে না। পারছেও না। এটা অনিবার্য।

বিজ্ঞানের বিজয়াভিযান এবং সভ্যতার অবদান সত্ত্বেও মানুষকে আজ দুঃখ, ব্যাকুলতা এবং উদ্বেগের কাছে আত্নসমর্পন করতে হয়। আজকে মানুষ দুঃখ, ব্যাকুলতা, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দ্বারা আক্রান্ত। মানুষ আজ আপন সত্তা থেকে পালাতে চায়। এই পালানোর প্রয়াসেই আফিম গ্রহণ, মদ্যপান, দ্রুত ড্রাইভিং এবং অপরাপর নিরর্থক কাজ ও অভিযানে লিপ্ত হয়। সে যেন আজ আত্নগোপন করতে চায়।

অনেক পণ্যদ্রব্য, বস্তুগত সমৃদ্ধি, আরামপ্রদ জীবনযাত্রা এবং যথেষ্ট অবসর-অবকাশ ভোগ করা সত্ত্বেও সে এমনটি করছে। বস্তুগত সমৃদ্ধি যতোই বাড়ছে, তার মনে শূন্যতা যেন ততই বাড়ছে। তার মনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব— বাড়ছে অস্বস্তি। মনের কোণে এক মহাশূন্যতার উপলব্ধি তাকে এক ভয়ঙ্কর ভূতের মতো তাড়া কারছে। এই অবস্থা থেকে সে নিষ্কৃতি পেতে চায়। এতসব করেও সে নিষ্কৃতি পায় না। তার পলায়ন প্রচেষ্টার যেন ইতি নেই। (৭)

আমাদের মহাকালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া সোনালী সময়— সবুজ মানুষেরা আজও পৃথিবীর গর্ব হয়ে বেঁচে আছে। একবিংশ শতাব্দীর এই বিজ্ঞানময় পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে, হতাশাগ্রস্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামী অধ্যায়টা ব্যাতিরেকে— তাদের জীবন-প্রবাহও আমাদের জীবনের সাথে মিলেমিশে একাকার। এক মোহনায় বিলীন। যেখানে মনবজীবনের স্বাভাবিক সফলতা-ব্যার্থতা, হর্ষ-বিষাদ, মানবিক দুর্বলতা ও ঘুরে দাঁড়াবার হাত ধরাধরি অবস্থান। হ্যাঁ, আমরাই তারা— যুগ যুগ ধরে দ্বীন যাদের হাতেই টিকে থাকবে।মহাকালের কন্টকীয় পথে সমস্ত বন্ধুরতা পায়ে দলেই হেঁটে যাবে।

শত বিচ্যুতি, বিরোধিতা এবং আক্রমণের মুখেও ইসলাম সব যুগেই কিছু কিছু মহান ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি করে এসেছে। এরা ছিলেন সোনালী যুগের মানুষগুলোর ঢঙে গড়া। এই মহান ব্যক্তিদের দ্বারা ইসলাম অব্যাহত গতিতে মানুষের জীবন ও ইতিহাসের ধারাকে প্রভাবিত করে এসেছে। মনবজীবন ও সভ্যতায় সেই প্রভাব সুস্পষ্ট। (৮)

ব্যক্তিজীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠাকামীদেরও কুতুব শোনাচ্ছেন দায়ী হওয়ার এক আশান্বিত গুরুত্ব— “পথের বন্ধুরতা উপেক্ষা করে নিষ্ঠার সাথে যে ব্যক্তি ইসলামকে জীবনে রূপায়িত করার প্রচেষ্ঠা চালায়, ইসলাম আজও তাকে আদর্শ মানুষরূপে গড়ে তোলে। এর গূঢ় রহস্য হলো; এর সাথে মানব-প্রকৃতির রয়েছে একটা স্বাভাবিক মিল। এই মিল প্রতিষ্ঠিত হবার পরেই মানুষের সব সুপ্ত প্রতিভা ও শক্তি-সম্পদ সক্রিয় হয়ে ওঠে। মানব প্রকৃতির সুপ্ত উপকরণগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমিতি এবং স্থায়ী। এরা যখন ইসলামের সংস্পর্ষে আসে, তখন সম্পদের এক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। তখন গুপ্ত প্রচুর্যের আত্নপ্রকাশ ঘটে। (৯)

মানব-প্রকৃতির সম্ভাবনাময়তা আজও অপরিবর্তীত। সেই সম্ভাবনাময়তাকে কাজে লাগিয়ে করুণাময়ের শাশ্বত সংবিধানের ছায়াতলেই আমাদের সোনালী যুগ সূচিত হয়েছিলো একদা। পরিবেশ পরিস্থিতির কাছে আত্নসমর্পী কোন পন্থায় নয়। শতাব্দীর ভাঁজে ভাঁজে লুকানো আমাদের সেই হীরন্ময় পাঠ। মানবতার নব অভিযানে যামানা বদলে দেয়া মানুষগুলোর আন্দোলিত জীবনের রেখে যাওয়া এ পাঠই অমূল্য পাথেয় আমাদের।

নির্ঘন্ট— ১| সাইয়েদ কুতুব: দিস রিলিজিয়ন অব ইসলাম। অনুবাদ: এ. কে. এম. নাজির আহমদ। ১৯৭৫, পৃষ্ঠা— ৭।
২| প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা— ১৪।
৩| প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা— ১৬।
৪| প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা— ১৭।
৫| কলজয়ী আদর্শ ইসলাম : সাইয়েদ কুতুব। পৃষ্ঠা— ১৭। বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, কাটাবন মসজিদ ক্যাম্পাস— ১০০০।
৬| প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা— ১৭-১৮।
৭| প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা— ১৯।
৮| প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা— ২৯।
৯| প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা— ২৯।
# সাইয়্যেদ কুতুব শহিদ : মহাকালের ইতিহাসে এক ধ্রুবতারা— ফাহাদ আব্দুল্লাহ। নবধ্বনি, জুন— ২০১৯ ঈ.।
# সাইয়েদ কুতুব : মহান শহিদ চিন্তাবিদ— আরিফ বিল্লাহ। ১ সেপ্টেম্বর— ২০১৯ ঈ.। ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর।
# ফাঁসির মঞ্চেও ঈমানের জাগরণ— মো: তোফাজ্জল বিন আমীন। শনিবার— ২৩ জানুয়ারি, ২০১৬ ঈ.। প্রিন্ট সংস্করণ, দৈনিক সংগ্রাম।
# সাইয়েদ কুতুব শহীদ (রহ:)— মনসুর আহমদ। শনিবার— ২ জুলাই, ২০১১ ঈ.। প্রিন্ট সংস্করণ, দৈনিক সংগ্রাম।

-এটি

ad