122771

বেলুচিস্তানের নারীদের বেড়ে ওঠা

আবদুল্লাহ তামিম
আওয়ার ইসলাম

দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি প্রসিদ্ধ প্রদেশের নাম বেলুচিস্তান। এ প্রদেশে সম্প্রতি ‘বিবিসি শি’ নামে বিবিসি নিউজের একটি প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। যাতে ওঠে এসেছে বেলুচিস্তানের নারীদের বেড়ে ওঠার গল্প। তাদের জীবন পরিচালনার কথা।

বিবিসির এ প্রোগ্রাম সম্পর্কে পরিচালকরা বলেন, আমাদের পরিকল্পনা ছিলো আমরা বেলুচিস্তানের দূরবর্তী এলাকায় বিভিন্ন প্রজন্মের ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির সামাজিক ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান তুলে ধরবো।

সাধারণত মিডিয়ায় এসব বিষয়ে আলোচনা ওই প্রদেশে খুবই কঠোরভাবে নিষেধ বলে আমরা জানি। কিন্তু কাজে নামলে আমাদের অনেক মানুষ সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে।

ইতোপূর্বেও ওই প্রদেশের বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আমরা জেনেছি। বিশেষ করে মিডিয়া প্রতিনিধিত্ব করতে সেখানকার মানুষ তেমন একটা আগ্রহী নয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অংশ হিসেবে আমরা জানতাম, বেলুচিস্তানের দূরবর্তী ও গভীর পাহাড়ি এলাকায় সেখানকার কর্তাদের অনুমতি ব্যতীত যাওয়া যায় না। তাই আমরা কোয়েটা শহরের বাহাদুর খান মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় বেঁছে নিয়েছিলাম।

বেলুচিস্তান নারীদের জন্য এ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একটি নেয়ামত বললে কম বলা হবে। এ প্রদেশে সহশিক্ষা এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

এমন পরিস্থিতিতে, মেয়েরা উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ পাচ্ছে শুধুমাত্র এ বিশ্ববিদ্যালয়েই। নারীদের জন্য আলাদা বিদ্যালয় নেই বলে বহু শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে। যার মাধ্যমে আমারা বেলুচিস্তানের গভীর এলাকাগুলোর মেয়েদের সাক্ষাৎকার নিতে পেরেছি। তাদের মনের কথাগুলো আমরা বিবিসির মাধ্যমে বিশ্বাবাসীর কাছে তুলে ধরতে পেরেছি।

এখানকার মেয়েরা পশতু, বেলুচ, হাজারা ও আফগানিস্তানের উদ্বাস্তুদের ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় নিজেদের পরিচয় ব্যবহার করে থাকে। এখানে আফগানিস্তানের শরণার্থীরাও পড়াশোনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক মেয়ে অাছে যারা মিডিয়ার সামনে কথা বলা এড়িয়ে চলতে পারে। তাদের কোনোভাবে বিরক্ত করা যাবে না।

আমাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেয়েই কথা বলেছে বৈষম্য, শিক্ষা ব্যবস্থার অভাব, অধিকার ও সম্মান, সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্কটসহ নানান বিষয়ে।

এর মধ্যে কিছু কথা ছিল খুবই হৃদয় বিদারক। মুসাখেল বাজার এলাকার এক শিক্ষার্থী আমাদের বলেন, তার এলাকায় নারীর জন্য পুরুষের মত খাবার খাওয়াও নিষেধ।

রান্না করলে সবজি থাকে পুরুষদের জন্য অার তরকারির ঝুল থাকে নারীদের ভাগ্যে। দুধ চা পান করবে পুরুষরা। মহিলাদের দুধ চা খাওয়ার অধিকার নেই।

কয়েকজন মেয়ে তাদের পরিবারের কথা বলতে গিয়ে বলেন, তাদের পরিবার ও এলাকায়, ছেলেরা মায়েদের উপর হাত তুলে। কারণ তারা তাদের বাবাকে দেখে আসে তাদের মাকে মারছে।

মেয়েদের মধ্য থেকে একজন  অভিযোগ করে বলেন, মিডিয়া বেলুচিস্তানের যারা গুম ও অপহরিত হচ্ছে তাদের বিষয়ে কোনো কথা বলছে না। অপহরিত ব্যক্তিদের মা, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের অর্তচিৎকারও শুনতে পায় না কেউ। কারণ পাকিস্তানে মিডিয়া এসব বিষয়ে কথা বলার অধিকার রাখে না।

ছাত্রিদের মধ্যে অনেকেই কথা বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে ও জোরপূর্বক বিয়ে সম্পর্কে। সমাজকে এ বিষয়ে দাবি করেন তারা। সমাজে তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না। তাদের জীবনে কোনো ধরনের সিদ্ধান্তের অধিকার দেয়া হয় না ।

উপজাতীয় এলাকার মেয়েরা বলেন, নেতারা মেয়েদের জন্য কোনো শিক্ষার ব্যবস্থাই করে না। মেয়ে বড় হলে তাকে আর শিক্ষার জন্য বাইরে পাঠায় না।

দাকিইয়ানুস রেওয়াজ বলে একটি কথা চালু আছে বেলুচিস্তানে। সেটি হলো কোনো নারী মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না।

যে নারীরা মোবাইল ব্যবহার করে তাদের ‘বেপরোয়া নারী’ বলে আখ্যায়িত করা হয় সমাজে। আবার সমাজে নারীদের এমন বৈষেম্যের বিরুদ্ধে কোনো নারী কথা বলার সাহসও করে না। যদি কেউ করেও তাকে দু্শ্চরিত্রা বলে ধারণা করা হয়।

শিক্ষার বিষয়ে অনেক মেয়েই কথা বলেছে, তারা বলেন, শিক্ষা মানুষের মন পরিবর্তন করে। নারীকে জীবন চলতে সহযোগিতা করে। শক্তি দেয় এবং সমাজ পরিবর্তন করতে সহায়ক হয়। একটি শিক্ষিত নারীই শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে পারে।

বেলুচিস্তানের এ নারীরা তাদের জীবনের গল্প বলতে গিয়ে অনেকেই তাদের ভাইদের কথা বলেন। তারা আজ পড়াশোনা করতে পারছে তাদের ভাইদের কল্যাণে। তাদের বাবা-মা পড়াতে না চাইলেও তাদের ভাই তাদের সহযোগিতা ও অনুমতি দিচ্ছে। তাই আশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে আগামি প্রজন্ম আর নারীদের এ শিক্ষা নিয়ে  সমস্যায় পড়তে হবে না।

বিবিসি উর্দু থেকে আবদুল্লাহ তামিমের অনুবাদ

ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের দুর্দশা

ad

পাঠকের মতামত

২ responses to “বিশুদ্ধ পানির শরবত নিয়ে যাওয়া মিজানুরের বাসায় ওয়াসার হুমকি”

  1. Your style is unique in comparison to other folks
    I have read stuff from. Many thanks for posting when you’ve got the
    opportunity, Guess I’ll just bookmark this page.

  2. I constantly spent my half an hour to read this website’s posts all the time along with
    a cup of coffee.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *