রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৭ পৌষ ১৪৩২ ।। ২২ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
দ্বিতীয় বিয়েতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট ফরিদপুরে পাঁচ শতাধিক কর্মীসহ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগ দিলেন ৫ নেতা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশনা খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন, যা জানাল ইরানি দূতাবাস ছাত্র জমিয়তের সাবেক নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বড় সুখবর দিলো বিটিসিএল 'ইন্টারনেট বন্ধ করিনি বন্ধ হয়ে গেছে'- নিজের বক্তব্য কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শুনলেন পলক রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ চালুর আহ্বান শায়খ আহমাদুল্লাহর উমর খালিদকে মামদানির চিঠি, চরম অসন্তোষ ভারতের আমেরিকানদের খুব দ্রুত ভেনেজুয়েলা ছাড়ার নির্দেশ

ভোটের মাঠে ইসলামপন্থীদের সম্ভাবনা ও ১০টি করণীয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আল আমিন বিন সাবের আলী
ঢাকার উত্তরখান থেকে শুরু করে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলাসহ, ভোলার বোরহানউদ্দিন এবং বরগুনার পাথরঘাটা-হরিণঘাটা এলাকায় ঘুরে ঘুরে জানতে পারলাম, এবারের ভোটের মাঠে আওয়ামীপন্থী শক্তি মাঠে নেই। বিএনপির দলীয় কোন্দল ও ৫ আগস্টের পরে তাদের ভূমিকায় দেশবাসী তাদের প্রতি ভীষণ অতিষ্ঠ। সে কারণে ইসলামি দল বা হুজুরদের প্রতি এবার তাদের বেশি ঝোঁক। মাঠও তাদের পক্ষে রয়েছে। সবার একই কথা –আওয়ামী লীগ দেখা হয়েছে, বিএনপিও দেখা শেষ। দেশের জন্য কে কী করেছে– সেটা সবার সামনেই রয়েছে। আমরা মুসলমান ও ইসলামি দেশের নাগরিক হিসেবে এবার আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় ইসলামপন্থীদের দেখতে চাই। তারা দেশকে কী কী দিতে পারে-না পারে, সেটাও দেখার দরকার। 

এছাড়াও আমি সাবেক ও বর্তমানের অনেক স্থানীয় রাজনীতিবিদের সাথেও আলাপ-আলোচনা করেছি। তাদের বিগত ও বর্তমানের বিভিন্ন কর্মতৎপরতার বয়ান থেকে আমাদের ইসলামি দলগুলোর জন্য করণীয় কিছু নির্দেশনা পেয়েছি। সেগুলো ইসলামি রাজনীতি অঙ্গনের নেতৃবৃন্দের সামনে পেশ করছি, যদি তারা এই মুহূর্তে সেগুলো মানতে না পারেন তাহলে এবারের মতো ‘প্লাস পয়েন্ট পরিবেশ’ পেয়েও বিরাট সুযোগ তাদের হাতছাড়া করতে হবে। অনেকে এটাও বলেছেন, যদি ইসলামি দলগুলো নিজেদের পারস্পরিক অনৈক্যের কারণে এবারের মতো মহাসুযোগ হাতছাড়া করে ফেলে, তাহলে আগামী ১০০ বছরেও তাদের জন্য এমন সুযোগ আর আসবে কি না জানা নেই। তাই সুযোগ থাকতে সুযোগকে কাজে লাগানোর অনুরোধ করেছেন অনেকে। 

করণীয় নির্দেশনাসমূহ:
এক: প্রতিটা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৫০ জন করে দলীয় কর্মী ঠিক করতে হবে, যেমনটি অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর আছে। 
দুই : তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে একটি করে দলীয় অফিস দিতে হবে, যেমনটি অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো করে থাকে। 
তিন : স্থানীয় ভোটারদের সুখ-দুঃখ শুনতে হবে, যেমনটি অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো করছে। 
চার : অন্য কোনো দলীয় কর্মীরা তাদের ভোটের মাঠ নষ্ট করছে কি না –এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, যেমনটি অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলো করছে। 
পাঁচ : "সাবেক অনেক তৃণমূল রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ নিজেদের ভোট টানতে অন্য দলের প্রতি যারা আসক্ত তাদেরকে থ্রেট করতো এই বলে যে, যদি আমাদের এই মার্কায় ভোট দিতে পারো তাহলে ভোট কেন্দ্রে যাও। নতুবা বাড়িতে গিয়ে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া লাগবে না।" এজাতীয় পরিবেশগুলো মোকাবেলা করার জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রতিটি দলের লোকজন থাকা অতীব জরুরি। 
ছয় : দলত্যাগ, দল পাল্টানো ও পল্টিবাজি-মুনাফেকির এই যুগে নিজেদের ব্যক্তিবর্গ বা কোনো প্রার্থী মনোনয়ন আঁকড়ে ধরে অন্যকে জিতিয়ে দেওয়ার অভিলাষে মাঠে ময়দানে নীরব থেকে নেতৃবৃন্দের সহিত গাদ্দারিতে লিপ্ত কিনা –এ ব্যাপারেও সকল ইসলামি দলের শীর্ষ কমান্ড থেকে সুদৃষ্টি রাখার বিকল্প নেই।
সাত : সংসদ সদস্য হতে হলে যেভাবে মাঠে ময়দানে দৌড়ঝাঁপ ও মেহনতের প্রয়োজন, সেভাবেই প্রতিটি সদস্য মেহনত করা উচিত। পার্ট টাইম রাজনীতি ছেড়ে রুটিন মাফিক ফুলটাইম রাজনীতিতে সক্রিয় হতে হবে। 
আট : নিজ নিজ এলাকায় ব্যক্তি ও দলের ইমেজ স্বচ্ছ ভাবে তুলে ধরতে হবে। যারা আপনার ভোটার, তাদের সামনে নিজেকে নিয়মিত তুলে ধরতে হবে। আপনার প্রতি তাদেরকে আশাবাদী করে তুলতে হবে। এলাকাবাসী আগে আপনাকে নিয়মিত না পেলেও এখন থেকে নিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পরের টাইমগুলোতে সবাই যেন আপনাকে সুখে-দুখে নিয়মিত পায় –সে দিকটা লক্ষ্য রাখতে হবে। 
নয় : আপনার ভোটারদের নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী? আপনার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, জনগণ ও তাদের পরিবেশ, শিক্ষা, অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী? এক কথায় আপনার নির্বাচনী ইশতেহার জাতির সামনে সুস্পষ্ট করতে হবে। আপনার নির্বাচনী ইশতেহারে অবশ্যই সমসাময়িক বিষয়গুলো প্রাধান্য দিন। যেমন, হাদী, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আবরার ফাহাদের হত্যার বিচার, শাপলা গণহত্যার বিচার, পিলখানা ট্রাজেডির বিচার, সাগর-রুনী হত্যার বিচার, ফেলানী হত্যার বিচারসহ সকল মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানোর ইশতিহার। আপনার প্রতি তাদের প্রত্যাশা কী– সেটাও একেকজন প্রার্থীকে বুঝতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আছেন, সেটাও ফুটিয়ে তুলতে হবে। 
দশ : একজন প্রার্থী কী মার্কায় লড়ছেন, সেটা যে কোন উপায়ে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে জনতার সামনে। কেননা এমন অনেক ভোটার আছেন যারা নিজ প্রার্থীর মার্কা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় ভোট দিতে গিয়ে সব গুলিয়ে ফেলেন। তাই নিজ নিজ মার্কার প্রচারণাও প্রচুর এবং ব্যাপকভাবে করে যেতে হবে।

আমার ক্ষুদ্র নজরে আসা বিষয়গুলো জাতির ভবিষ্যৎ রাহবারদের সামনে তুলে ধরলাম নিজের ঈমানি দায়িত্বের জায়গা থেকে। আশা করি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক হবেন এবং অন্যকে সতর্ক করবেন। মনে রাখবেন, যদি এভাবে সতর্ক না হন, তাহলে দেখবেন নিজের ভোট অন্যরা নিয়ে নেবে। আর আপনার ভোটারদের বৃহৎ অংশ ভোট কেন্দ্রে যেতে না পারায় আপনার ভোটব্যাঙ্ক শূন্য থেকে যাবে। সুতরাং যে সময়ের রাজনীতি যেমন, তেমনভাবেই নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সময়ের চোখে চোখ রেখেই কথা বলতে হবে। আল্লাহ সহায় হোন, আমিন!
লেখক: পরিদর্শক, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ