বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করা সম্ভব’ নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণেই গড়ে উঠবে আদর্শ নেতৃত্ব: ছাত্র জমিয়ত সভাপতি বগুড়ায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত প্রথম ওহি—‘পড়ো’ দিয়ে শুরু ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে নুরুল ইসলাম মাদ্রাসার উদ্যোগে সিরাত প্রতিযোগিতা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরে হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা ধামরাইয়ে খেলাফত মজলিসের দিনব্যাপী তরবিয়তি মজলিস অনুষ্ঠিত দোয়ার মাধ্যমে আল মানযুর ফাউন্ডেশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশেনের উদ্যোগে মহানবীর জীবন ও আদর্শ নিয়ে মাহফিল ‘নবীজির সিরাত অনুসরণ ছাড়া সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’

আরবি ভাষাবিজ্ঞানের কিংবদন্তি শায়খ ড. মাজিন আল-মুবারক আর নেই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আরব বিশ্বের প্রখ্যাত আরবি ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও ব্যাকরণবিদ শায়খ ড. মাজিন আবদুল কাদির আল-মুবারক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আরবি ব্যাকরণশাস্ত্রে অসামান্য অবদানের কারণে তিনি ‘শাইখুন নুহাত’ (ব্যাকরণবিদদের অগ্রপথিক) হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর।

তাঁর মৃত্যুতে সিরিয়ার শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, আরবি ভাষা একাডেমি এবং দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ উসামা আর-রিফায়িসহ শিক্ষাবিদ ও আলেম সমাজ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা আরবি ভাষা ও ইসলামী জ্ঞানচর্চায় তাঁর অবদানকে অবিস্মরণীয় বলে অভিহিত করেন।

ড. মাজিন আবদুল কাদির আল-মুবারক ১৯৩০ সালে সিরিয়ার দামেস্কের একটি খ্যাতনামা জ্ঞানচর্চার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শায়খ আবদুল কাদির আল-মুবারক ছিলেন দামেস্কের অন্যতম বিশিষ্ট আরবি ভাষা ও ইসলামী শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ। তাঁর বড় ভাই মুহাম্মদ আল-মুবারকও ছিলেন দামেস্ক আরবি ভাষা একাডেমির সদস্য এবং একজন খ্যাতিমান ভাষাবিদ।

শৈশব থেকেই তিনি দামেস্কের প্রখ্যাত আলেম ও ভাষাবিদদের কাছে আরবি ভাষা, সাহিত্য ও ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন।

১৯৫২ সালে তিনি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর টিচার্স কলেজ থেকে শিক্ষা বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি শায়খ সাঈদ আল-আফগানি, শায়খ মুস্তফা আজ-জারকা এবং শায়খ মুহাম্মদ বাহজাত আল-বাইতারের মতো খ্যাতিমান শিক্ষকদের সান্নিধ্য লাভ করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি দামেস্কের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরে ১৯৫৪ সালে সরকারি বৃত্তি নিয়ে মিসরের কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এবং সেখানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬০ সালে তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘আর-রুম্মানি আন-নাহভি ফি দাওয়ি শরহিহি লিকিতাবি সিবাওয়াইহি’, যা আরবি ব্যাকরণ গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৬৫ সালে সিরিয়ায় ফিরে তিনি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে অধ্যাপনা শুরু করেন। অ-আরবি ভাষাভাষীদের জন্য আরবি শিক্ষা সহজলভ্য করতে তিনি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং এ উদ্দেশ্যে দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন।

পরবর্তীকালে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়, লেবানন বিশ্ববিদ্যালয়, কাতার বিশ্ববিদ্যালয় এবং দুবাই ইসলামিক কলেজসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরবি ভাষা বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আরবি অভিধান প্রণয়ন ও ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

আরবি ভাষা, ব্যাকরণ ও গবেষণায় দীর্ঘ কয়েক দশকের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি কিং সালমান গ্লোবাল একাডেমি ফর অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ পুরস্কারে ভূষিত হন। ভাষা শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং আরবি ব্যাকরণ গবেষণায় তাঁর কাজ আরব বিশ্বে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

ড. মাজিন আবদুল কাদির আল-মুবারকের মৃত্যুতে আরবি ভাষা ও সাহিত্য অঙ্গন এক প্রজ্ঞাবান শিক্ষক, গবেষক ও ভাষাবিদকে হারাল। তাঁর রেখে যাওয়া গবেষণা, গ্রন্থ ও শিক্ষাদর্শ আগামী প্রজন্মের ভাষা গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ