বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


প্রথম ওহি—‘পড়ো’ দিয়ে শুরু

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||

মুখে হাত দিয়ে ভাবান্ত মনে বসে আছে একজন নাতনি। দাদা এসে সালাম দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলো, দাদু ভাই কী ভাবছ তুমি? সে বলল, দাদু, নবীজি  কীভাবে নবী হলেন?

নাতনির প্রশ্ন শুনে দাদু মুচকি হেসে বললেন, আচ্ছা, আজ তোমাদের এমন একটি রাতের গল্প শোনাব, যে রাত বদলে দিয়েছিল পুরো পৃথিবীর ইতিহাস।

সবাই চুপচাপ দাদুর পাশে গিয়ে জড়ো হয়ে বসল।

দাদু বলতে শুরু করলেন— অনেক বছর আগে, মক্কার কাছে একটি পাহাড় ছিল। সেই পাহাড়ের নাম জাবালে নূর। আর সেই পাহাড়ের চূড়ায় ছিল ছোট্ট একটি গুহা— হেরা গুহা, যার কথা তোমরা গতকালও শুনেছো।

নবীজি সেই গুহায় ধ্যান করতেন। একদিন হঠাৎ গুহাটি এক মহিমান্বিত ব্যক্তির উপস্থিতিতে ভরে উঠল।

নাতি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, দাদু, কে এসেছিলেন?

দাদু বললেন, এসেছিলেন আল্লাহর মহান ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)।

তিনি নবীজিকে বললেন, "ইকরা"— অর্থাৎ, "পড়ো।"

নবীজি বিনয়ের সঙ্গে বললেন, আমি তো পড়তে জানি না।

জিবরাইল (আ.) তাঁকে আলিঙ্গন করলেন। আবার বললেন, "ইকরা" - অর্থাৎ "পড়ো।"

দ্বিতীয়বারও তিনি একই উত্তর। তৃতীয়বারও একই ঘটনা ঘটল। তারপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হলো মানবজাতির জন্য প্রথম ওহি—

"পড়ো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো, আর তোমার রব মহামহিমান্বিত। তিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষকে এমন সব বিষয় শিখিয়েছেন, যা সে জানত না।" -সূরা আলাক, আয়াত ১–৫

দাদু একটু থামলেন। অতঃপর বললেন, জানো বাচ্চারা, আল্লাহ প্রথমেই কী শিখিয়েছিলেন?

নাতিরা একসঙ্গে বলল, কী?

দাদু হেসে বললেন, 'পড়ো।' দেখো, ইসলাম শুরুই হয়েছে জ্ঞান দিয়ে। তাই একজন মুসলিমের জন্য শেখা, পড়া আর সত্যকে জানার চেষ্টা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওহি নাজিল হওয়ার পর নবীজি খুবই শিহরিত হয়ে গেলেন। তিনি দ্রুত পাহাড় থেকে নেমে নিজের ঘরে ফিরে বললেন, "আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।"

তাঁর প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) স্নেহভরে তাঁকে চাদর জড়িয়ে দিলেন। সব কথা মন দিয়ে শুনলেন। তারপর তিনি এমন কিছু কথা বললেন, যা আজও পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সান্ত্বনার কথাগুলোর একটি।

তিনি বললেন, "আল্লাহর কসম! আল্লাহ কখনো আপনাকে অপমান করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন, অসহায়দের সাহায্য করেন, অতিথির সম্মান করেন এবং সব সময় সত্যের পক্ষে থাকেন।"

দাদু বললেন, দেখেছো? একজন নেক জীবনসঙ্গী কঠিন সময়ে কত বড় শক্তি হতে পারেন। এরপর খাদিজা (রা.) নবীজিকে তাঁর আত্মীয় ওয়ারাকা ইবন নওফলের কাছে নিয়ে গেলেন। সব কথা শুনে তিনি বললেন, "এ তো সেই ফেরেশতা, যিনি মুসা (আ.)-এর কাছেও এসেছিলেন।"

দাদু আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, সেদিন হেরা গুহায় শুধু একজন মানুষের জীবন বদলায়নি। সেদিন থেকে শুরু হয়েছিল আল্লাহর হিদায়াতের আলো, যা ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে।

দাদু নাতি-নাতনিদের দিকে তাকিয়ে বললেন, এই গল্প থেকে আমরা পাঁচটি বড় শিক্ষা পাই— আর তা হলো-

# জ্ঞান অর্জন ইসলামের প্রথম নির্দেশ।

# সত্যকে জানতে হলে চিন্তা করতে হয়।

# আল্লাহ যাকে দায়িত্ব দেন, তাঁকে সাহায্যও করেন।

# একজন ভালো জীবনসঙ্গী মানুষের বড় শক্তি।

# কলম, শিক্ষা ও জ্ঞান আল্লাহর অনেক বড় নিয়ামত।

এগুলো মনে রাখবে তো?"

নাতি-নাতনিরা হাসিমুখে বলল, ইনশাআল্লাহ! মনে রাখব দাদু!

দাদা বললেন, আচ্ছা, তাহলে আজ সবাই ওঠে পড়। যার যার কাজে যাও। আগামীকাল তোমাদের শোনাব প্রিয়নবীর জীবনের আরেকটি গল্প।

চলবে....

 

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ