বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতায় ভাগ বসালেন জামায়াত নেতারা!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

যশোর প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে সরকারি উদ্যোগে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের নাম বাদ দিয়ে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নাম তালিকাভুক্ত করার অভিযোগে সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি সম্মানী পাওয়ার জন্য মসজিদের প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের পরিবর্তে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ও স্থানীয় জামায়াত নেতা তবিবুর রহমানকে ‘ইমাম’ এবং গড়ভাঙ্গা ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লাকে ‘খাদেম’ দেখিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের মসজিদের ইমামদের মাসে ৫ হাজার, মুয়াজ্জিনদের ৩ হাজার এবং খাদেমদের ২ হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে। কেশবপুরে প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি মসজিদের তালিকা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নভিত্তিক মসজিদের তালিকার একটি অংশ ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতাদের এবং অন্য অংশ সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংসদ সদস্যের অংশের মসজিদের তালিকা তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন নেতৃত্বকে দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগকারীদের দাবি, গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের দীর্ঘদিনের প্রকৃত ইমাম মাওলানা আব্দুল রহমান এবং খাদেম আব্দুল রাজ্জাক। কিন্তু সরকারি সম্মানীর জন্য তৈরি তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি।

এর পরিবর্তে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার ও জামায়াত নেতা তবিবুর রহমানকে ইমাম এবং গড়ভাঙ্গা ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লাকে খাদেম হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোক্তার আলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তিনি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাসুদ কামালকে নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত না করেই আগের তালিকাই চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এতে প্রকৃত ইমাম ও খাদেম সরকারি সম্মানী থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ইসলাম সরদার বলেন, ‘তালিকা তৈরির বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাদের সুবিধাজনক নাম দিয়ে তালিকা জমা দিয়েছেন। পরে শুনেছি সেখানে প্রকৃত ইমাম ও খাদেমের নাম পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। আমার আলাদা কোনো নির্দেশনা ছিল না; মসজিদ কমিটি যে তালিকা সরবরাহ করেছে, আমি সেটিই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী বলেন, ‘গড়ভাঙ্গা বায়তুন নুর জামে মসজিদের বিষয়ে যে অভিযোগটি এসেছে, তার তদন্ত চলছে।

আরএইচ /


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ